শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২২ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ জুন, ২০১৬ ২৩:০৮

দুদকে অভিযোগের পাহাড়

ওয়ান ইলেভেনের পর সবচেয়ে বেশি জমা পড়ছে এখন

মোস্তফা কাজল

দুদকে অভিযোগের পাহাড়

দুর্নীতিবিরোধী জোরালো অভিযান শুরু করা দুদকে প্রতিদিন জমা পড়ছে অভিযোগ। প্রতিদিনই প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ নিয়ে আসছেন বিচার প্রার্থীরা। ৪০ থেকে ৪৫টি লিখিত অভিযোগ জমা পড়ছে সেগুনবাগিচার দুদক কার্যালয়ে। ফলে দুদকে এখন রীতিমতো অভিযোগের পাহাড়। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে দুদকে বিভিন্ন দুর্নীতির ৩ হাজার ৯৩৯টি অভিযোগ জমা পড়ে। অবশ্য শুধু মে মাসেই অভিযোগের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। মে মাসে মোট ১ হাজার ১০১টি অভিযোগ জমা পড়েছে দুদকে। ওয়ান-ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের পর এত অভিযোগ জমা পড়ল। কমিশনের কর্মকর্তাদের মতে, দুর্নীতিবিরোধী রাষ্ট্রীয় এ প্রতিষ্ঠানটির প্রতি জনসাধারণের আস্থা বাড়ায় অভিযোগ বেশি জমা পড়ছে। তবে যথাযথভাবে অভিযোগ দাখিল না হওয়ায় আবেদন গ্রহণ করতে না পারার আক্ষেপও আছে কর্মকর্তাদের। কমিশন সূত্র জানায়, চলতি বছরের মে মাসে দুদক চেয়ারম্যান, কমিশনার, বক্স ও অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রাপ্ত অভিযোগ ১০৬৯টি, পত্রিকার ক্লিপিং থেকে পাওয়া ২৬ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সংসদ, গোয়েন্দা সংস্থা, বিভিন্ন বিভাগ ও মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া অভিযোগ ৬টিসহ মোট ১ হাজার ১০১টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এত অভিযোগের মধ্যে মাত্র ৭২টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয় আর বাতিল হয় ৯৪৫টি অভিযোগ। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে দুদকে বিভিন্ন দুর্নীতির ৩ হাজার ৯৩৯টি অভিযোগ জমা পড়ে। যেখান থেকে মাত্র ২৬২টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয়েছে। অর্থাৎ মাত্র ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য আমলে নেওয়া হয়েছে। বাতিল হয়েছে ৯০ দশমিক ৩৪ শতাংশ অভিযোগ। দুদকের অভিযোগ যাচাই-বাছাই কমিটি সূত্র জানায়, বাছাই টেবিলে বাদ পড়ছে প্রায় ৯০ শতাংশ দুর্নীতির অভিযোগ। মে মাসে জমা পড়া দুদক চেয়ারম্যান, কমিশনার, বক্স ও পদস্থ কর্মকর্তাদের দফতরে যে ১ হাজার ১০১টি অভিযোগ জমা পড়েছে তার মধ্যে ৯৫টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য যাচাই-বাছাই কমিটি সুপারিশ করে এবং ৭২টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য কমিশনার অনুমোদন দেয়। অর্থাৎ এ মাসেও ৯০ দশমিক ৪৬ শতাংশ অভিযোগ বাতিল হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া ও তথ্য গরমিলের কারণে দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নেয় না দুদক। তবে মে মাসের বাতিল হওয়া অভিযোগের মধ্যে ৬১টি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ে খতিয়ে দেখতে পাঠিয়েছে যাচাই-বাছাই কমিটি। অনুসন্ধানে দেখা যায়, যথাযথ প্রক্রিয়ায় অভিযোগ দাখিল, প্রদত্ত তথ্যে গরমিল, অভিযোগের স্পষ্টতা, রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তি আক্রোশে মিথ্যা তথ্য দেওয়া ইত্যাদি কারণেই দুদকে আসা অভিযোগ প্রথম ধাপেই বাতিল হয়ে যায়। দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল  বলেন, দুদকে আসা সব অভিযোগই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। অভিযোগ যাচাই-বাছাইকালে দেখা যায় অধিকাংশই দুদকের তফসিলভুক্ত নয়। ফলে ওই সব অভিযোগ দুদক অনুসন্ধানের জন্য বিবেচনা করতে পারে না। তিনি জানান, এসব অভিযোগের মধ্যে কিছু অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কিংবা দফতরের বিভাগীয় বিষয়। এসব অভিযোগ দুদকে এলে আমরা তা সংশ্লিষ্ট বিভাগে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাঠিয়ে দিই। এ ছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় ত্রুটি, তথ্যের অপর্যাপ্ততা ও মিথ্যা তথ্য ইত্যাদি কারণেও অভিযোগ বাতিল হয়ে যাচ্ছে। দুদকে কোন প্রক্রিয়ায় কিংবা কী কী তথ্য দিয়ে অভিযোগ করা উচিত— এ বিষয়ে জানতে চাইলে যাচাই-বাছাই কমিটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কোনো অভিযোগকারী দুর্নীতি দমন কমিশনের তফসিলভুক্ত অপরাধসমূহের বিবরণসহ কমিশনের  চেয়ারম্যান, কমিশনার, পরিচালক ও উপ-পরিচালকসহ সমন্বিত  জেলা কার্যালয় বরাবর অভিযোগ করতে পারেন। তবে অভিযোগপত্রে চারটি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিবরণ থাকা জরুরি। ওই বিষয়গুলো হলো— অভিযোগের বিবরণ ও সময়, অভিযোগের সমর্থনে তথ্য-উপাত্তের বিবরণ, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম, পদবি ও ঠিকানা এবং অভিযোগকারীর নাম-ঠিকানা ও টেলিফোন (যদি থাকে) নম্বর।

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দেশের নানা এলাকা থেকে দুদকে অভিযোগ আসে। কিন্তু অনেকেই অভিযোগ কোথায় করতে হবে ও কীভাবে করতে হবে সে বিষয়টি জানে না। ফলে অধিকাংশ অভিযোগ বাতিল হয়ে যায়। অনেক সময় দেখা যায় আমার ঠিকানা ব্যবহার করে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। সে  ক্ষেত্রেও ওই অভিযোগ এমনিতেই গ্রহণ করা হয় না।


আপনার মন্তব্য