শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১২ জুন, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ জুন, ২০১৭ ২২:৪৪

দেশে স্বাভাবিক রাজনীতি স্তব্ধ

মাহমুদ আজহার

দেশে স্বাভাবিক রাজনীতি স্তব্ধ
মির্জা আব্বাস

সরকার দেশে স্বাভাবিক রাজনীতির গতিপথ স্তব্ধ করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের সভা-সমাবেশ করারও সুযোগ দিচ্ছে না। এমনকি সারা দেশে ইফতার মাহফিলেও বাধা দিচ্ছে। সরকার স্বাভাবিক রাজনীতির গতিপথ স্তব্ধ করে দিয়েছে। এ অবস্থা বেশিদিন থাকবে না। যারা নিজেদের অবৈধ ক্ষমতায় রেখে ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন তাদের একদিন জনগণের মুখোমুখি হতেই হবে। আমাদের চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই হবে।’ রাজধানীর শাহজাহানপুরে নিজ বাসায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন সাবেক এই পূর্তমন্ত্রী। খোলামেলা আলোচনায় তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড, দেশের চলমান রাজনীতি ও আগামী নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘শুধু বিএনপি নয়, পৃথিবীতে যেসব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল আছে, সবাই নির্বাচনের জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকে। কারণ, গণতন্ত্রের অন্যতম উপাদান হচ্ছে নির্বাচন। বিএনপিও এর বাইরে নয়। সবার অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য বিএনপি সব সময় প্রস্তুত।’ দলীয় সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগ নির্বাচনের কথা বলছে। বিএনপি কী করবে— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “প্রচলিত প্রবাদ আছে ‘বিচার মানি তাল গাছটা আমার’। আমরা ক্ষমতায় যাব, এজন্য নির্বাচন— এমন মানসিকতা থাকলে তো হবে না। এটা যদি আওয়ামী লীগ ভাবে, তাহলে ভুল করবে। বাংলাদেশে আর এমন নির্বাচন হবে না। রাজনৈতিকভাবেই আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি আদায় করব ইনশা আল্লাহ।” বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ঘোষিত ভিশন-২০৩০ প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ভিশন ঘোষণার আগে ম্যাডাম স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মতামত নিয়েছেন। সবার সঙ্গে কথা বলেই এটা দিয়েছেন। এ নিয়ে আলাদা মতামতের কিছু নেই। তবে ভিশনে প্রতিহিংসার রাজনীতি থাকবে না বলা হয়েছে। এটা চেয়ারপারসন পুরোপুরি সঠিক বলেছেন। কারণ, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও প্রতিহিংসা ছিল না। তবে প্রতিহিংসার রাজনীতি যা ছিল, তা বরাবর আওয়ামী লীগের আমলেই শুরু হয়। এটা ’৭২ থেকে ’৭৫ পর্যন্ত দেখা যায়। এরপর ’৯৬ থেকে আবার শুরু হয়, যা এখনো চলছে।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতি আর প্রতিহিংসার রাজনীতি আলাদা করার সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগের রাজনীতিটাই হচ্ছে প্রতিহিংসার। বিগত সময়ে লগি-বৈঠার সময়ে কীভাবে মানুষকে মারা হয়েছে তা দেখেছি। ’৭৫-এ কীভাবে মানুষকে মেরেছে তাও দেখেছি। জাসদের হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সিরাজ সিকদারকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে তাও দেখেছি। এরপর মাঝে বিএনপির সময় একটু ব্যতিক্রম ছিল। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ এসে আবারও শুরু করে, যা এখনো রয়েছে। আজ প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললে দেখা যায়, কোথাও না কোথাও হত্যা-গুমের খবর। বিরোধী দল খেতে খেতে এখন আওয়ামী লীগ নিজেরাই নিজেদের খেতে শুরু করেছে।’ ২০১৪ সালে বিএনপির নির্বাচন বর্জন করা কি ভুল ছিল— এ বিষয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এটা অনেকেই বলছেন আজকের প্রেক্ষাপটে। আবার যদি আমরা নির্বাচনে যেতাম, তাহলে তারা আজকের প্রেক্ষাপটে বলতেন, ভুল হয়েছে। না যাওয়ার যৌক্তিক কারণ নির্বাচনের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে। ওই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনে যাওয়ার কোনো পরিবেশই ছিল না।’ ভিশন ঘোষণায় বিএনপির তৃণমূল কি চাঙ্গা— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই একটি ভিশন থাকে, ক্ষমতায় গেলে কী করবে না করবে, এসব বিষয়ে। এটা সময়ের চাহিদা। ভারতে মুসলিম লীগের জন্ম হয়েছে। সেটাও হয়েছে সময়ের চাহিদায় ও একটা ভিশন নিয়ে। এই কনসেপ্ট এখন আধুনিক যুগে চালু হয়েছে। আমরাও তার বাইরে নই। এটা অবশ্যই ঠিক, ভিশনে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ভালো প্রভাব পড়েছে। তবে আওয়ামী লীগে এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। আমাদের কর্মীরা যতটুকু উৎসাহিত, আওয়ামী লীগের কর্মীরা ততটাই ভীত।’ আওয়ামী লীগের অভিযোগ, বিএনপি তাদের ভিশন নকল করেছে— এমন প্রশ্নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘এই ইংরেজি শব্দটা যদি আওয়ামী লীগ আবিষ্কার করে থাকে, তাহলে মানতে হবে। আমার মনে হয়, এটা কারও পৈতৃক শব্দ নয়।’ দুই ভাগে মহানগরী কমিটি কেমন হলো— এমন প্রশ্নে অবিভক্ত ঢাকা মহানগরী বিএনপির বিদায়ী আহ্বায়ক বলেন, ‘আমি আসলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণে বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণে নয়। তার পরও বলব, আমাদের ঢাকা মহানগরী কমিটি ভালো হয়েছে। তরুণ নেতৃত্ব আসছে। আগ্রহ-উদ্দীপনাও বেড়েছে। সারা দেশের জেলা কমিটির অনেকটি হয়ে গেছে। বাকিগুলোও আশা করি, খুব শিগগিরই হয়ে যাবে।’ সরকারের সদ্য ঘোষিত বাজেট প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এই সরকার যে বাজেট ঘোষণা করেছে, তাতে জনগণের কোনো কল্যাণ নেই। কারণ, তারা মায়ের আঁচলেও হাত দিয়েছে। যারা ১ লাখ টাকার মালিক তারাও এই সরকারের দৃষ্টিতে সম্পদশালী। আবগারি করের মধ্য দিয়ে জনগণকে ধোঁকা দিয়ে অন্যসব করকে আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে। টাকা বিদেশে পাঠানোর এই বাজেট সাধারণ মানুষের কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে তাদের মন্ত্রী-এমপিদের মোটাতাজাকরণ প্রকল্প নিয়েছে এই বাজেট। জাতি তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।’


আপনার মন্তব্য