শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:২৩

ভোটের চ্যালেঞ্জে আওয়ামী লীগ

ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি উপনির্বাচন, ডাকসু উপজেলা ও ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচন

রফিকুল ইসলাম রনি

ভোটের চ্যালেঞ্জে আওয়ামী লীগ

আগামী তিন মাস ভোটের চ্যালেঞ্জে থাকবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ থেকে যাচ্ছে সরকারি দলের জন্য। এর মধ্যে প্রথম চ্যালেঞ্জ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচন। এখানে প্রার্থী চূড়ান্ত হলেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন আরও অনেকেই প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন আরেক রকম চ্যালেঞ্জ আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের জন্য। এর পর হবে উপজেলা নির্বাচন। সে নির্বাচনেও বিএনপি দলীয় মার্কা নিয়ে অংশ নেবে না। তাদের অনেক নেতা-কর্মী, সমর্থক তলে তলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিএনপি তাদের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের আটকাবে না। ধারাবাহিক চ্যালেঞ্জের আরেক অংশ হবে ময়মনসিংহ সিটির ভোট। আগামী ১৩ এপ্রিলের মধ্যে সেখানে ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এসব ভোটে একক প্রার্থী নিশ্চিত করে বিজয় সুনিশ্চিত করা এবং বিতর্কমুক্ত একটি গ্রহণযোগ্য ভোট শেষ করাই হবে নতুন সরকারের ভোটের চ্যালেঞ্জ। দলীয় সূত্রমতে, আওয়ামী লীগের দৃষ্টি এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে। এজন্য তারা কৌশল নির্ধারণ করে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। দলটির নীতি নির্ধারক ফোরামের নেতারা বলছেন, সরকারের সুষম উন্নয়ন তৃণমূলে পৌঁছে দিতে উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় চেয়ারম্যান থাকা প্রয়োজন। তাহলে সরকারের উন্নয়নগুলো সঠিকভাবে পৌঁছানো সম্ভব হয়। এজন্য আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের ব্যাপারে চার মানদ-ের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই শুরু করেছে দলটি। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর নিজস্ব টিম এবং বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে জরিপ চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যাপারেও নতুন করে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সব মিলে ভোটের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য দলের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জাতীয় নির্বাচনকে যেমন গুরুত্ব দেয়, তেমনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেও সমানভাবে দেখে। হ্যাটট্রিক বিজয়ে আমরা এখন ক্ষমতায়। আমরা চাই, সরকারের সুফলগুলো তৃণমূলে পৌঁছাক। সে কারণে স্থানীয় সরকারের বিশেষ করে উপজেলা নির্বাচনে দলীয় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোক তা আমরা চাই। সেভাবেই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ কোনো চ্যালেঞ্জ আছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব নির্বাচনই চ্যালেঞ্জের। সব নির্বাচনকেই আমরা সমান গুরুত্বের সঙ্গে দেখি।’ জানা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচন হবে। গতকাল রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। এরপর ১১ মার্চ হবে দ্বিতীয় সংসদ খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে ছাত্রদল সহাবস্থানের দাবি জানিয়েছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনের দিকে দৃষ্টি সবার। সব সংগঠনের অংশগ্রহণে পূর্ণ প্যানেল বিজয় নিশ্চিত করা ছাত্রলীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এর পরই শুরু হবে ধাপে ধাপে উপজেলা নির্বাচন। উপজেলা নির্বাচনেও বিএনপি অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিলেও তাদের সমর্থক বা দলের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে লড়বেন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকার জোর সম্ভাবনা দেখছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। অন্যদিকে এমপি-মন্ত্রীরা তাদের আত্মীয়স্বজনদের প্রার্থী করতে মরিয়া হয়ে উঠছেন। তবে দলের সিদ্ধান্ত রয়েছে, কোনো এমপি-মন্ত্রীর স্বজনকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। সে ক্ষেত্রে একক প্রার্থী নিশ্চিত করা, দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ। এ নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থী বাছাই এবং ভোটে বিজয়ী হওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে আওয়ামী লীগকে। তবে বর্তমান সরকারের অধীনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচন, উপজেলা নির্বাচনসহ কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না।

বিএনপি মহাসচিবের এমন ঘোষণা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, নির্বাচনে আসা না আসা তাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। কিন্তু নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার পরিণতি অচিরেই তাদের ভোগ করতে হবে। নির্বাচন বর্জনের মধ্য দিয়ে তারা আরও সংকুচিত হওয়ার মতো আত্মঘাতী পথ বেছে নিয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর