Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:১৯

সবার চোখ টেকনাফে

আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি ইয়াবা কারবারিদের

আয়ুবুল ইসলাম, কক্সবাজার

সবার চোখ টেকনাফে

সবার চোখ এখন টেকনাফের ইয়াবা কারবারিদের দিকে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করবেন টেকনাফের শীর্ষ ইয়াবা কারবারিদের অনেকে। যাদের মধ্যে রয়েছেন টেকনাফের সরকারদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির ভাই, ভাগ্নেসহ আত্মীয়স্বজন। তারা এখন পুলিশের হেফাজতেই আছেন কক্সবাজার পুলিশ লাইনসে। ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফ কলেজ মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপির) ড. জাবেদ পাটোয়ারির উপস্থিতিতে ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণের কথা রয়েছে। তবে আত্মসমর্পণের পর আত্মসমর্পণকারী ইয়াবা কারবারিদের পরিণতি কী হবে, তাদের সাজা হবে নাকি সবাই মুক্ত হয়ে যাবেন, অবৈধ ইয়াবা ব্যবসা থেকে উপার্জিত তাদের টাকা-পয়সা ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত হবে কি না এ নিয়ে টেকনাফ ও কক্সবাজারের মানুষের মুখে মুখে আলোচনা চলছে। আত্মসমর্পণের জন্য পুলিশ লাইনসে থাকা ইয়াবা কারবারিদের আত্মীয়স্বজনরাও এ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন। তবে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানেই সব কিছুই পরিষ্কার হবে আত্মসমর্পণকারী ইয়াবা কারবারিদের ভাগ্যে কী ঘটছে, তাদের সম্পদেরই বা কী হবে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি করা ইয়াবা গডফাদারদের তালিকায় নাম থাকা প্রায় ১৫০ জন ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণের জন্য কক্সবাজার পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর  হাত থেকে রক্ষা করতে গত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে টেকনাফের ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পুলিশের কাছে আত্মসপর্ণের জন্য কক্সবাজার পুলিশ লাইনসে যাওয়া শুরু করে। এই প্রক্রিয়ায় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির একটা ভূমিকা রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো শুরু থেকে বলে আসছে। যার ফলে আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ায় টেকনাফের যেসব ইয়াবা ব্যবসায়ীরা যাচ্ছেন তাদের একটা বড় অংশ হচ্ছেন বদির আত্মীয়স্বজন। এর বাইরে যারা রয়েছেন তাদের বেশিরভাগই বদির অনুসারী বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। গতকাল পর্যন্ত আত্মসমর্পণের জন্য যারা কক্সবাজার পুলিশ লাইনসে গিয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির তিন ভাই আবদুল আমিন, ফয়সাল, মো. শফিক, খালাতো ভাই মংমং সি, ফুফাতো ভাই কামরুল হাসান রাসেল, ভাগ্নে শাহেদুর রহমান নিপু, চাচাতো ভাই মো. আলম। আছেন টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আহমদের ছেলে দিদার আলম, হ্নীলা ইউপির সদস্য নুরুল হুদা, জামাল হোসেন, টেকনাফ পৌর কাউন্সিলর নুরুল বশর নুরশাদ, সাবরাং ইউপি সদস্য রেজাউল করিম রেজু, টেকনাফ সদর ইউপির সদস্য এনামুল হক, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আবদুল্লাহর দুই ভাই জিয়াউর রহমান ও আবদুর রহমান।

এদিকে টেকনাফের ইয়াবা কারবারিদের মধ্যে আত্মসমর্পণের জন্য যারা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন তাদের ভাগ্যে কী ঘটবে- তা কেউ জানেন না। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কেউ কিছু বলতে চান না। তবে এর আগে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন বলেছেন, ‘আত্মসমর্পণ করলে তাদের (ইয়াবা কারবারিদের ) সব কিছু মাফ হবে তা না।’  নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আত্মসমর্পণকারী ইয়াবা কারবারিদের নির্দিষ্ট মেয়াদে সাজা দেওয়া হবে এবং মাদক কারবার থেকে অর্জিত অবৈধ অর্থ ও সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে। তবে পুলিশ হেফাজতে থাকা ইয়াবা কারবারিদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ২ থেকে ২০টি পর্যন্ত মাদক মামলা থাকায় তাদের সাজা ভোগ করার বিষয়টি অনেকটা অনুমানযোগ্য হলেও তাদের অঢেল অর্থ ও সম্পত্তির বিষয়ে কী হবে- তা নিয়েও পরিষ্কার কোনো ধারণা কেউ দিতে পারেননি। ইয়াবা কারবারিদের সাজা এবং তাদের অর্থ-সম্পদের ভাগ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন খোদ তাদের পরিবারের সদস্যরাও। এলাকায় থাকায় ইয়াবা কারবারিদের পরিবারের সদস্যরাও জানেন না আত্মসমর্পণকারী ইয়াবা কারবারিদের ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে। আত্মসমর্পণকারীদের পরিবারের সদস্যদের অনেকেরই ধারণা, আত্মসমর্পণ করলে তাদের সাজা হতে পারে, ‘গুরু পাপে লঘু দ-ের ন্যায়।’ স্বজনদের বদ্ধমূল বিশ্বাস আত্মসমর্পণ করে সহজে পার পেয়ে যাবেন ইয়াবা কারবারিরা।

পুলিশ হেফাজতে থাকা ইয়াবা কারবারি টেকনাফ সাবরাং ইউপি সদস্য রেজাউল করিম রেজুর ভাই ফরিদ আহমদ বলেন, ‘আমার ভাই ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়, তার পরও তালিকায় যেহেতু নাম এসেছে তাই আত্মসমর্পণ করতে যাওয়া। আত্মসমর্পণ করলে তাদের বিরুদ্ধে মাদকের আর কোনো অভিযোগ থাকবে না। তারা তখন নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করতে পারবে।’ টেকনাফ সদর ইউনিয়নের জালিয়াপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ জুবাইয়ের নিকটাত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা এখনো জানি না, যারা আত্মসমর্পণ করতে গেছে তাদের ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে। তাদের আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া এবং আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে ভীষণ চিন্তায় রয়েছি। অনেকে বলছে, তাদের নাকি দীর্ঘ মেয়াদে সাজা ভোগ করতে হবে, আবার কেউ কেউ বলছে, আত্মসমর্পণ করার পাশাপাশি তাদের অর্থ-সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে। আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হচ্ছে এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।’

সাবরাং নোয়াপাড়া থেকে আত্মসমর্পণ করতে যাওয়া মোহাম্মদ তৈয়বের ভাবী ও বন্দুকযুদ্ধে নিহত ইয়াবা কারবারি শামসুল আলম ওরফে মার্কিনের স্ত্রী তৈয়বা বেগম বলেন, ‘শুনেছি আত্মসমর্পণ করলে নাকি তাদের সবকিছু মাফ করা হবে। তা হলে এ সুযোগটা সবাইকে দেওয়া উচিত ছিল। যদি আমার স্বামীকে না মেরে আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হতো তাহলে আমি আজ বিধবা হতাম না।’


আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর