শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:০৪

ডাকসু প্রার্থী চূড়ান্ত করা নিয়েই ব্যস্ত বড় সংগঠন

ছাত্রলীগের ভিপি জিএস এজিএসের নাম ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডাকসু প্রার্থী চূড়ান্ত করা নিয়েই ব্যস্ত বড় সংগঠন

প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বড় ছাত্রসংগঠনগুলো। এরই মধ্যে ছাত্রলীগ ডাকসু নির্বাচনের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি পদে প্রার্র্থী চূড়ান্ত করেছে। গত রাতে গণভবনে ছাত্রলীগের ভিপি, জিএস ও এজিএস পদের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয় বলে জানা গেছে। অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চেষ্টা চালিয়েও প্যানেল করতে পারেনি। একক না জোট করে ভোট তাও চূড়ান্ত নয়। বামদের পাশাপাশি আলোচনার টেবিলে তারা রাখছে কোটাবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের। তবে ছাত্রদল এককভাবেও প্যানেল দিতে পারে বলে জানা গেছে। বাম ও কোটাবিরোধীরা পৃথক প্যানেল দিতে পারে বলেও জানা গেছে। 

ছাত্রলীগের ভিপি জিএস এজিএস প্রার্থীর নাম ঘোষণা : ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের ভিপি, জিএস (সাধারণ সম্পাদক)              ও এজিএস চূড়ান্ত করা হয়েছে। গত রাতে গণভবনে এক বৈঠকে এই প্রার্থী চূড়ান্ত করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সহসভাপতি (ভিপি) পদে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও এজিএস পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনকে প্রার্থী করা হয়েছে। আজ দুপুরে বা আগামীকাল পুরো প্যানেল চূড়ান্ত করার পর ঘোষণা দেবে ছাত্রলীগ। রাতে গণভবনে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সূত্রমতে, গত রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে আসেন ডাকসু নির্বাচন দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা নেতারা। এ সময় নেতাদের রিপোর্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব জরিপের ভিত্তিতে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই নেতা জানান, অনেক যাচাই-বাছাই করেই প্রার্থী চূড়ান্ত করেছেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নেতাদের জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক হোক তিনি তা চান। এজন্য ভিপি, জিএস, এজিএস পদে ছাত্রসমাজের কাছে পরিচিতদের প্রার্থী করা হয়েছে। নতুন কাউকে প্রার্থী করা হলে পরিচিত হতেই সময় পার হয়ে যাবে। নেতারা জানান, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন হবে। ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলগুলো চূড়ান্ত হবে বলে জানা গেছে। হিমশিম খাচ্ছে ছাত্রদল : অন্যদিকে বয়স ও ছাত্রত্ব জটিলতায় যোগ্য প্রার্থীর সমন্বয়ে প্যানেল গঠনে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিএনপির সহযোগী ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে। তবে তাদের ছয় দফা দাবি মেনে নেওয়ার আগ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র নেওয়ার বিষয়টি অপেক্ষমাণ রেখেছেন তারা। তবে প্যানেল গঠনের কাজ শুরু করা হয়েছে জানিয়ে সংগঠনটির ঢাবি শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার বলেন, ‘আমরা প্যানেল চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করেছি। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা হচ্ছে। তবে এখনো শতভাগ শেষ করতে পারিনি।’ এ সময় তিনি নির্বাচনে প্রার্থিতার বয়সসীমা ৩০ নির্ধারণ করে তাদের সীমাবদ্ধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। অন্যদিকে বাম সংগঠনগুলো জোটভিত্তিক নির্বাচনে অংশ নিতে পারে- এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে জোটটি হতে পারে ‘প্রগতিশীল ছাত্রজোট’ এবং ‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্রঐক্য’- এ দুইয়ের মধ্যে। তবে তারাও এখনো প্যানেল চূড়ান্ত করতে পারেনি। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি শাখার সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা শেষে বিভিন্ন পদে প্রার্থী দেব। আজ সন্ধ্যার মধ্যে এটা চূড়ান্ত হতে পারে।’ এদিকে কোটা আন্দোলনের প্ল্যাটফরম ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ প্যালেন চূড়ান্ত করে ২৪ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারে বলে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন।


আপনার মন্তব্য