শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ মার্চ, ২০১৯ ২২:৪৭

কার সঙ্গে কার লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক

কার সঙ্গে কার লড়াই
বিভিন্ন কেন্দ্রে গতকাল ব্যালট বাক্সসহ সরঞ্জাম নেওয়া হয়

ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্যানেল, প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও স্বতন্ত্র  জোটসহ বেশ কয়েকটি প্যানেলের প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু সহ-সভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস)-সহ গুরুত্বপর্ণ পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী, বাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্বাচনে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ মনোনীত প্রার্থী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, ছাত্রদলের মোস্তাফিজুর রহমান, কোটা সংস্কার আন্দোলনের নুরুল হক নুরু, প্রগতিশীল ছাত্রজোটের লিটন নন্দী ও স্বতন্ত্র জোটের অরণি সেমন্তি খানের মধ্যে। বাকি ১৬ প্রার্র্থীই ক্যাম্পাসে অপরিচিত, শিক্ষার্থীদের কাজে সংযোগ না থাকা এবং ছাত্র সংগঠনের সমর্থন না থাকায় মূল আলোচনায় আসতে পারবেন না অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ধারণা। নির্বাচনে জিএস পদে ১৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই হবে  ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, স্বতন্ত্র প্রার্থী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী এ আর এম আসিফুর রহমান, ছাত্রদলের আনিসুর রহমান অনিক, কোটা সংস্কার আন্দোলনের রাশেদ খান ও ছাত্র ফেডারেশনের উম্মে হাবিবা বেনজীরের মধ্যে। বাকি ৯ প্রার্থীই ক্যাম্পাসে অপেক্ষাকৃত অপরিচিত, শিক্ষার্থীদের কাজে সংযোগ না থাকা ও শিক্ষার্থীদের সমর্থন না থাকায় আলোচনার বাইরে আছেন। তাদের মধ্যে আছেন রাশেদুল ইসলাম, শফিকা রহমান শৈলী, শাফী আবদুল্লাহ, শাহরিয়ার রহমান, সনম সিদ্দিকী ও জালাল আহমেদ। এ ছাড়া ছাত্র সমাজের (এরশাদ) মামুন ফকির ও ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের মাহমুদুল হাসানও প্রার্থী হিসেবে আছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে অলিখিতভাবে ক্ষমতায় ছাত্রলীগ। তাদের জোরদার সাংগঠনিক ক্ষমতার কারণে জনপ্রিয়তার পারদটা তাদের একটু বেশি। তবে সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের মাঝে সাড়া জাগানো কোটা আন্দোলনের সূত্র ধরে লাইমলাইটে আছে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ’। নির্বাচনে ছাত্রলীগের জন্য ভালো প্রতিপক্ষ কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্লাটফর্ম। গত বছরজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সারা দেশে আলোচনার বিষয় ছিল কোটা আন্দোলন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে এই আন্দোলন ব্যাপকভাবে সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। ভোটের দৌড়ে কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই বিএনপির সহযোগী ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আর দীর্ঘদিন ছাত্রদের বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে আসা বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর জোট।

সাধারণ ছাত্রদের নানা দাবিতে ক্যাম্পাসে আন্দোলনের পরিচিত মুখ বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা। নির্বাচনে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর দুই মোর্চা ‘প্রগতিশীল ছাত্রজোট’ এবং ‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য’ জোটবদ্ধভাবে অংশ নিচ্ছে। সব মিলিয়ে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের বিশাল অংশের মাঝে তাদের জনপ্রিয়তা আছে। ছাত্র সংগঠনগুলোর ভিড়েও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এ আর এম আসিফুর রহমান আলোচনায় আছেন। ঢাবি সাংবাদিক সমিতির দুবারের সভাপতি তিনি বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে কথা বলেছেন। তাই শিক্ষার্থীদের কাছে তারও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ডাকসুর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, কেন্দ্রীয় সংসদে ভিপি পদে ২১ জন এবং জিএস পদে ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এ ছাড়া এজিএস পদে ১৩ জন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক পদে ৯ জন, কমনরুম-ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ৯ জন, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, সাহিত্য সম্পাদক পদে ৮ জন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ১২ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১১ জন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ১০ জন, সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৪ জন এবং ১৩টি সদস্য পদের বিপরীতে ৮৬ জন নির্বাচন করবেন। অন্যদিকে, হল সংসদে ১৮টি হলে ১৩টি করে পদের বিপরীতে প্রার্থী রয়েছেন মোট ৫০৯ জন। এর মধ্যে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ২৭ জন, জগন্নাথ হলে ২৮ জন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব হলে ১৭ জন, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ২৬ জন, অমর একুশে হলে ২৯ জন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ২৭ জন, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলে ৩৪ জন, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ৩৩ জন, রোকেয়া হলে ৩০ জন, কবি সুফিয়া কামাল হলে ৩০ জন, শামসুন্নাহার হলে ২৫ জন, কবি জসীমউদ্দীন হলে ২৫ জন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে ২২ জন, ফজলুল হক মুসলিম হলে ৩৬ জন, বিজয় একাত্তর হলে ৩০ জন, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ২৭ জন, স্যার এ এফ রহমান হলে ৩৭ জন এবং সূর্যসেন হলে ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।


আপনার মন্তব্য