শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ মার্চ, ২০১৯ ২৩:০৪

ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিক্রিয়া

গ্যাসের দাম বাড়লে বিপর্যয় হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিল্প খাতে গ্যাসের দাম ১৩২ শতাংশ বাড়লে, তা বস্ত্র ও পোশাকশিল্পে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এ খাতের শিল্পমালিকরা এ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিদ্যুতের দাম বাড়বে। পরিবহনসহ আনুষঙ্গিক সব খাতে ব্যয় বাড়বে। ফলে সব শিল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শিল্পমালিকদের বক্তব্য, গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব হাস্যকর। সরকারের ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু লোকের একচেটিয়া সিদ্ধান্ত তারা মানবেন না। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বস্ত্র ও পোশাক খাতের তিন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)-এর সহসভাপতি মনসুর আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়- লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস বা এলএনজি আমদানি সামনে রেখে বিতরণ কোম্পানিগুলো গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর কাছে। এ প্রস্তাবের ওপর সম্প্রতি গনশুনানি করে বিইআরসি। গণশুনানিতে শিল্পে গ্যাসের মূল্য বর্তমানে প্রতি ঘনফুট ৭ দশমিক ৭৬ থেকে বাড়িয়ে ১৮ দশমিক ০৪ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে শিল্প খাতে গ্যাসের মূল্য ১৩২ শতাংশ বাড়বে। এতে পোশাকশিল্পে উৎপাদন খরচ বাড়বে প্রায় ৫ শতাংশ। এ প্রস্তাব শিল্পের প্রবৃদ্ধি ও বিকাশের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে সাংঘর্ষিক বলছে বিজিএমইএ, বিটিএমএ ও বিকেএমইএ। এ সম্পর্কিত কয়েকটি প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, একতরফাভাবে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। গণশুনানিতে আমাদের কথা শোনা হয় না। গ্যাসের দাম বাড়ানোর আগে ব্যাংক আমানতের সুদহার ৬ শতাংশ ও ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ নিশ্চিত করতে হবে। এর আগে লিখিত বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি মোটেও কাক্সিক্ষত নয়। এতে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। বস্ত্রশিল্পের উদ্যোক্তারা গভীর সংকটে পড়বেন। বর্তমান বাস্তবতা হলো- শিল্পে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাসের চাপ পাওয়া যায় না। গ্যাস পেলেও আবার অপর্যাপ্ত ও অনিয়মিত সরবরাহ। আবার যতটুকু গ্যাস ব্যবহার করছি, তার চেয়েও বেশি বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। অর্থাৎ গ্যাস ব্যবহার না করেও তিতাস গ্যাস কোম্পানিকে ‘বাতাসের’ মূল্য দিচ্ছি। সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কিছুদিন পরপর গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। সরকারের কাছে আমাদের একান্ত অনুরোধ- শিল্পকে সহায়তা করার জন্য অনতিবিলম্বে জ্বালানিনীতি প্রণয়ন করুন। এ মুহূর্তে দেশে শিল্পায়নের যে গতি সঞ্চার হয়েছে তা বাধাগ্রস্ত হলে অগ্রযাত্রা হুমকির মধ্যে পড়বে। শুধু একটি সেক্টরের অধিক মুনাফার কথা বিবেচনা না করে দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীল খাতগুলোর স্বার্থ বিবেচনায় নিন। বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন লিখিত বক্তব্যে বলেন, গ্যাসের দাম বাড়লে বস্ত্র ও পোশাক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ খাতে ব্যাংকের যে ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে, তাতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার প্রথম আঘাত আসবে। বিকেএমইএর সহসভাপতি মনসুর আহমেদ বলেন, সরকারের ভিতর ঘাপটি মেরে থাকা কিছু লোকের কারণে একচেটিয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে। এ সিদ্ধান্ত মানা যায় না। কোনোভাবে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো যাবে না। দাম বাড়লে শিল্পে মহামারি ধারণ করবে।


আপনার মন্তব্য