Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:১১

দ্বিতীয় পর্বে ভোটারের ঢল পশ্চিমবঙ্গে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ

কলকাতা প্রতিনিধি

দ্বিতীয় পর্বে ভোটারের ঢল পশ্চিমবঙ্গে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ

ভোটারের বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও কেন্দ্রে উপস্থিতির মধ্য দিয়ে প্রায় নির্বিঘ্নেই শেষ হয়েছে ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্বের ভোট গ্রহণ। গতকাল দিনের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গে ভোট গ্রহণ হওয়া তিনটি আসনের দুটিতে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হলেও কিছুক্ষণের মধ্যে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এদিন দেশজুড়ে ১২ রাজ্যের ৯৫ লোকসভা কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসবকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। তামিল সুপারস্টার থালাইভা রজনীকান্ত থেকে রাজ বাব্বর- প্রত্যেকেই নিজের নিজের কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়ে যান। এ দফায় দেশজুড়ে মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ১৫ কোটি ৮০ লাখ। প্রার্থী ১ হাজার ৬০০ জন।

গতকাল তামিলনাড়ু ৩৮, কর্ণাটক ১৪, মহারাষ্ট্র ১০, উত্তর প্রদেশ ৮, উড়িষ্যা ৫, বিহার ৫, আসাম ৫, পশ্চিমবঙ্গ ৩, ছত্তিশগড় ৩, জম্মু-কাশ্মীর ২, মণিপুর ১ ও পডুচেরির ১টি আসনে লোকসভার ভোট দেন ভোটাররা। এ ছাড়া অন্ধ্র, অরুণাচল, উড়িষ্যা ও সিকিমে বিধানসভার ভোট নেওয়া হয়। সকাল ৭টায় শুরু হয় ভোট গ্রহণ পর্ব, চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। যদিও নিরাপত্তার কারণে কয়েকটি কেন্দ্রে তার আগেই ভোট গ্রহণ শেষ করা হয়। এদিন সকালে ভোট শুরুর আগেই আরও বেশি সংখ্যায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে টুইট করেন চৌকিদার নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানান, ‘প্রিয় ভারতের নাগরিক, আজ দ্বিতীয় দফার ভোট শুরু হচ্ছে। আমি নিশ্চিত যে এ দফায় যে কেন্দ্রগুলোয় ভোট হচ্ছে সেখানকার নাগরিকদের ভোট দেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে। আমি আশা করব আরও বেশি অল্পবয়সী ভোটাররা বুথের দিকে যাবেন এবং ভোট দেবেন।’ দেখা যায় ভোটার উপস্থিতিও ছিল উল্লেখ করার মতো। চেন্নাইয়ের স্টেলা ম্যারিস কলেজে ভোট দেন রজনীকান্ত। অভিনেতা ও মক্কাল নিধি মইয়ম (এমএনএম) দলের প্রধান কমল হাসান ও তার মেয়ে শ্রুতি হাসানকে এদিন ভোটের লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায় চেন্নাইয়ের অলওয়ারপেট করপোরেশন স্কুলে। দক্ষিণের আরেক অভিনেতা প্রকাশ রাজ ভোট দেন বেঙ্গালুরুর সেন্ট্রাল কেন্দ্রে। ভোট দিয়েছেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী এ আর রহমান। আগ্রায় ভোট দেন রাজ বাব্বর। কর্ণাটকে ভোট দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া। জম্মু-কাশ্মীরের মুনশিবাগ এলাকার একটি কেন্দ্রে ভোট দেন রাজ্যের দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিতা-পুত্র ফারুক আবদুল্লাহ ও ওমর আবদল্লাহ। বেঙ্গালুরু দক্ষিণের জয়ানগরে ভোট দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ। তামিলনাড়ুর শিবগঙ্গা লোকসভা কেন্দ্রের অধীন একটি বুথে গোটা পরিবারকে নিয়ে ভোট দেন সাবেক অর্থমন্ত্রী পি. চিদাম্বরম। দ্বিতীয় দফায় একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর ভাগ্য বাক্সবন্দী হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ও সদানন্দ গৌড়া, সাবেক প্রধানমন্ত্রী জনতা দল (সেক্যুলার) নেতা এইচ ডি দেবগৌড়া, ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লাহ, সাবেক কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কংগ্রেস প্রার্থী সুশীল কুমার সিন্ডে, সাবেক টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ডিএমকে প্রার্থী এ. রাজা, সাবেক মন্ত্রী কংগ্রেস প্রার্থী দীপা দাশমুন্সি, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও পিএমকে প্রার্থী আম্বুমানি রামাদোস, বিজেপির হেমা মালিনী, কংগ্রেস প্রার্থী রাজ বাব্বর ও সুস্মিতা দেব, ডিএমকে নেত্রী কানিমোঝি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুসারে, ভোটারের টার্নআউট ছিল আসামে ৭৩.৩২%, বিহারে ৬২.৫২%, ছত্রিশগড়ে ৬৮.৭০%, জম্মু ও কাশ্মীরে ৪৩.৩৭%, কর্ণাটকে ৬১.৮৪%, মহারাষ্ট্রে ৫৫.৩৭%, মণিপুরে ৭৪.৬৯%, উড়িষ্যায় ৫৭.৪১%, পডুচেড়িতে ৭২.৪০%, তামিলনাড়ুতে ৬১.৫২%, উত্তর প্রদেশে ৫৮.১২%, পশ্চিমবঙ্গে ৭৫.২৭%।

তবে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পুলিশ দিয়েও অশান্তি ঠেকানো গেল না পশ্চিমবঙ্গে। দ্বিতীয় দফায় রাজ্যটির জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও রায়গঞ্জ- এ তিনটি লোকসভা কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হয়। তিনটি কেন্দ্রেই এবার চতুমুর্খী (তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেস, বামফ্রন্ট) লড়াই হয়েছে। ভোটার ছিল প্রায় ৫০ লাখের কাছাকাছি। কিন্তু ভোট শুরুর পরই দার্জিলিং লোকসভার অন্তর্গত চোপড়া এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। চোপড়ার ১৮০ নম্বর বুথে ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে, ভোটারদের কাছ থেকে ভোটার স্লিপ কেড়ে নিয়ে তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। প্রতিবাদে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন গ্রামবাসী। আটক করা হয় এক তৃণমূল কর্মীকে। পরে অবরোধকারীদের ওপর লাঠিপেটা করে পুলিশ ও র‌্যাফ। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি ও বোমা ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। একসময় পুলিশকে কাঁদুনে গ্যাস চালাতে হয়। অন্যদিকে রায়গঞ্জের গোয়ালপোখরে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন গণমাধ্যমকর্মীরা। রায়গঞ্জের ইসলামপুরে হামলার শিকার হন বামফ্রন্টের প্রার্থী মহম্মদ সেলিম। ইসলামপুরের নয়াপাড়া টেরিংবাড়ী বুথে সকাল থেকে বুথ দখল করার খবর পেয়েই সেখানে যাচ্ছিলেন সেলিম। এ সময় ক্ষমতাসীন তৃণমূলের এক দুর্বৃত্তকে ধরে ফেলেন। ফলে তার গাড়িবহর লক্ষ্য করে হামলা চালায় কয়েক দুর্বৃত্ত। তাতে সেলিমের গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইসলামপুরের একাধিক ভোটারকে রুপি দিয়ে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ভোটাররা নিজের মুখে সে কথা স্বীকারও করেছেন। চোপড়ায় যখন নির্বাচনী সহিংসতা চলছে তখন অন্যদিকে হাওড়ার আমতায় একটি জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং তৃণমূলকে তোপ দেগে বলেন, ‘মমতা দিদি রাজ্যের মানুষকে ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছেন। মা-মাটি-মানুষের কথা বলে তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে এ রাজ্যে মা-মাটি-মানুষ কেউই সুরক্ষিত নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘তৃণমূলের শাসনকালে বাংলায় গণতন্ত্র সংকটের মুখে পড়েছে। যে কায়দায় বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর সন্ত্রাস নামিয়ে আনা হচ্ছে তা গণতন্ত্রের লক্ষণ নয়।’ পশ্চিমবঙ্গ বাদে দেশের অন্য কোথাও সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, ভারতে এবার মোট সাত দফায় (১১, ১৮, ২৩, ২৯ এপ্রিল এবং ৬, ১২, ১৯ মে) ৫৪৩টি আসনের জন্য ভোট নেওয়া হবে। এবারের লোকসভা নির্বাচনে গোটা দেশে মোট ভোটার প্রায় ৯০ কোটির মতো। নতুন ভোটার প্রায় ১.৬০ কোটি। গণনা ২৩ মে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর