Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ মে, ২০১৯ ২২:৫২

দিল্লির সিংহাসন কার

নয়াদিল্লি ও কলকাতা প্রতিনিধি

দিল্লির সিংহাসন কার

বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের লোকসভা (সংসদের নিম্ন কক্ষ) নির্বাচনের ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা শুরু হচ্ছে আজ। এই নির্বাচনে ভোটার ছিল প্রায় ৯০ কোটি। তাদের ৬৭ শতাংশ দুই মাস ধরে সাত ধাপে বিভিন্ন আসনের প্রার্থী নির্বাচিত করেছেন। লোকসভার আসন ৫৪৩টি। একটি আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে। সাত ধাপের এই ভোটের শেষ ধাপে ভোট নেওয়া হয় ১৯ মে। এরপর থেকেই বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট এবং কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটÑ উভয়েই নতুন সরকার গঠনের জন্য নানারকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী মোদি বিজয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত ভাব দেখিয়ে চলেছেন বটে, কিন্তু এখনো এটা পরিষ্কার নয় যে, দিল্লির মসনদে কে বসতে যাচ্ছেন। এবার এই প্রথম লোকসভা আসন এলাকাভুক্ত বিধানসভা আসন এলাকার পাঁচটি বুথে ইভিএম মেশিনের ভোটের সঙ্গে মেশিনের সঙ্গে লাগানো ভিভিপ্যাটের কাগজের ভোট গণনা হবে। ভোট সংখ্যা দুই জায়গায় একই রকম আছেÑএটা খতিয়ে দেখার জন্যই এ ব্যবস্থা। ভারতে ইভিএম মেশিনের সঙ্গে একটি মেশিন আছে, যাতে কাগজে চাপ পড়ে যাবে ভোটারের ভোট। এ কারণে ভোট ফল প্রকাশ হতে বিলম্ব হবে। সকাল ৭টায় ভোট গণনা শুরু হবে। দুপুর ১২টা থেকে ফলের আভাস পাওয়া যেতে পারে। প্রথম গণনা হবে পোস্টাল ব্যালট। প্রধানমন্ত্রী মোদি ইতিমধ্যেই বলেছেনÑ ‘এই নির্বাচন আমার কাছে তীর্থযাত্রার মতো’। মোদির জয় হলে জাতীয় কংগ্রেসে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

ভারতের সবকটি বুথ ফেরত সমীক্ষা নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের এনডিএর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পূর্বাভাস দিয়েছে। কিন্তু বিরোধীরা এটা মানতে নারাজ। এনডিএ জোটকে রুখে দিতে তারা মরিয়া। একদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদি যেমন পরবর্তী সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন তেমনি বিরোধী নেতাদের মধ্যে সোনিয়া গান্ধী ও শারদ পাওয়ার বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। বিশেষ করে যারা এনডিএ বা ইউপিএ জোটের বাইরে রয়েছে; যেমন উড়িষ্যার বিজু জনতা দল, অন্ধ্রের জগন রেড্ডির দল এবং তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্র শেখর রাও। তাদের মতে, লোকসভার ভোটের ফল ত্রিশঙ্কু হবে। এনডিএ জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাবে না। রাহুল গান্ধী আগেই বলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পদ নিয়ে পীড়াপীড়ি করবেন না। জনতা যে রায় দেবে তাই মেনে নেবেন।

তুলনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল বিজেপি এতটাই নিশ্চিত যে, পার্টির নেতারা বিজয় উৎসব করতে লাডডু আর আতশবাজির অর্ডার দিয়েছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর দফতর সংবাদ মাধ্যমে ফোন করে শপথের জন্য সাংবাদিকদের তালিকা প্রস্তুত করছেন। বিজেপি গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শরিকদের নিয়ে বৈঠক করে। বৈঠকে ৩৭টি দল অংশ নিয়েছে। সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করা হয় এবং পরবর্তী সরকারের এজেন্ডা তৈরি করেছেন। এজেন্ডায় অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপ্রেম, নিরাপত্তা রক্ষা ও উন্নয়ন। এই সঙ্গে এনডিএর বাইরে যেসব আঞ্চলিক দল রয়েছে তাদের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, এনডিএ সরকার ভারতের আঞ্চলিক বৈষ্যম্য দূর করার উদ্যোগ নেবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, যেহেতু এনডিএ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না তাই নতুন শরিক খোঁজার জন্যই এই আহ্বান।

ভোটের ফল প্রকাশের আগেই ইভিএম মেশিনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এমনকি এক বিবৃতিতে ইভিএম চাতুরির আশঙ্কায় সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষতা দেখানোর সুপারিশ করেছেন। তার উদ্বেগের কারণ হলো, ভারতের বিভিন্ন লোকসভা কেন্দ্রে রক্ষিত ইভিএম মেশিন স্ট্রং রুম থেকে বেরোতে দেখা গেছে এবং নতুন মেশিন ঢোকানোর চেষ্টাও রাজনৈতিক দলের কর্মীরা ধরে ফেলেছেন। তাই ভারতের ২২টি বিরোধী রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছে যে, প্রথমে ভিভিপ্যাট কাগজের ভোট গণনা করা হোক। পরে মেশিনের ভোট। তারপর দুটো মেলানো হোক। যদি কোনো গরমিল পাওয়া যায়, তাহলে সেই লোকসভা আসন এলাকার সবকটি মেশিনের সঙ্গে ভিভিপ্যাট গুনতে হবে। ভারতের সাবেক নির্বাচন কমিশনার ওয়াই এস কোরেশীও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই প্রথম ভারতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখনো নির্বাচন কমিশন প্রথমে ভিভিপ্যাট না ইভিএম গোনা হবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে বুধবারের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেবে। এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে গণনা কেন্দ্রে আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন হয়েছে। এতে আপত্তি তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এর মধ্যে এই প্রথম ভারতের তিন নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিরোধীদের অভিযোগ খারিজ করার ক্ষেত্রে একজন নির্বাচন কমিশনার নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। কিন্তু নোটে তিনি কী বললেন তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। তিনি আপত্তির কারণ প্রকাশ করার দাবি তুলেছেন। কিন্তু সেই দাবি মানা হয়নি। এ নিয়ে ভারতে তুমুল বিতর্কের মধ্যে নির্বাচন কমিশন।

ইভিএম কারচুরি হতে পারে এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জিও। তার অভিযোগ, ইভিএম কারচুপি করেই বিজেপি জিততে চাইছে। তাই দলনেত্রীর নির্দেশে মঙ্গলবার রাত থেকেই একাধিক জায়গায় স্ট্রং রুমের বাইরে পাহারা দিচ্ছেন দলের কর্মীরা।

কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীও বুধবার টুইট করে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে ভুয়া এক্সিট পোল নিয়ে হতাশ না হওয়ার আবেদন জানিয়ে বলেছেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সদা সতর্ক থাকুন। ভয় পাবেন না। আপনারা সত্যের জন্য লড়াই করছেন। ভুয়া বুথ ফেরত জরিপ নিয়ে হতাশ হবেন না। আপনাদের নিজেদের ওপর ও কংগ্রেস দলটির ওপর বিশ্বাস রাখুন, আপনাদের পরিশ্রম বৃথা যাবে না।’


আপনার মন্তব্য