শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ জুন, ২০১৯ ২৩:৩৪

চোখ বাঁধা সৌরভ ময়মনসিংহে উদ্ধার, গায়ে ছিল না জামা

বিষ খেলেও মনে হয় মানুষের মনে এমন কষ্ট হয় না : সোহেল তাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

চোখ বাঁধা সৌরভ ময়মনসিংহে উদ্ধার, গায়ে ছিল না জামা
সোহেল তাজ ও ভাগ্নে সৌরভ গতকাল

চট্টগ্রাম থেকে নিখোঁজ হওয়ার ১১ দিন পর সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজের ভাগ্নে সৈয়দ ইফতেখার আলম সৌরভকে ময়মনসিংহের তারাকান্দা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল ভোরে তারাকান্দা উপজেলার বটতলা এলাকার জামিল অটো রাইস মিলের ভিতর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাকে হাত-পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় গাড়ি থেকে ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তখন তার পরনে কোনো জামা ছিল না। তিনি শুধু পাজামা পরা ছিলেন। পরে ভোর ৬টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে ভাগ্নে সৌরভের খোঁজ পাওয়ার কথা জানান সোহেল তাজ। ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ আবিদ হোসেনের মোবাইল ফোনে চট্টগ্রাম অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের ডিসি হঠাৎ ফোন করেন। এ সময় তিনি জানান, ময়মনসিংহের তারাকান্দার একটি রাইস মিলে অবস্থান করছেন সোহেল তাজের ভাগ্নে সৌরভ। পরে পুলিশ সুপার নিজেই জেলা গোয়েন্দা পুলিশ নিয়ে ছুটে যান তারাকান্দা উপজেলায়। সেখানকার বটতলা এলাকার জামিল অটো রাইস মিলের ভিতর থেকে সৌরভকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তাকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশ সুপারের বাসভবনে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিমের সঙ্গে মাইক্রোবাসে করে ঢাকায় পাঠানো হয়। সকাল পৌনে ৯টার দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এসপি শাহ আবিদ হোসেন জানান, ‘সমীর নামের অটো রাইস মিলের এক ব্যবস্থাপকের মোবাইল ফোন থেকে সৌরভ প্রথমেই তার পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে নিজের অবস্থানের কথা জানান। এরপর পরিবার চট্টগ্রাম অ্যান্টি টেররিজমকে জানায়। সেখান থেকেই আমাকে ফোন দিয়ে জানানো হয় সৌরভ সম্পর্কে। সেখানে গিয়ে আমরা দেখতে পাই সৌরভ একটি চেয়ারে বসে আছে। পরে রাইস মিল থেকে আমার বাসভবনে নিয়ে আসি। আমরা বাহ্যিকভাবে সৌরভের কোনো সমস্যা পাইনি। তিনি সুস্থ আছেন। সকালের নাশতা করিয়ে তাকে বনানীর উদ্দেশে পাঠানো হয়। তবে অপহরণ হওয়ার ১১ দিন তিনি কোথায় ছিলেন, কেমন ছিলেন এ বিষয়ে সৌরভ শুধু বলেছেন, তাকে এত দিন আটকে রাখা হয়েছে। এর বেশি কিছু বলতে পারেননি।’ সৌরভের খোঁজ পাওয়ার পরই ফেসবুক লাইভে এসে প্রথমে সবাইকে ‘শুভ সকাল’ বলে কথা বলা শুরু করেন সোহেল তাজ। এরপর বলেন, ‘একটা সুখবর শেয়ার করার জন্য আমি লাইভে এসেছি। কারণ বিপদের প্রতিটি মুহূর্তে আপনারা আমার সঙ্গে থেকেছেন। তাই আপনাদের সঙ্গে এই সুখবর শেয়ার করতেই হবে। ভোর ৫টা ২৭ মিনিটে মামাতো বোন আমাকে ফোন করে জানান, কিছু মানুষ একটা লোকেশন থেকে তাকে (মামাতো বোন) ফোন করেন। তখন জানানো হয়, একটা ছেলেকে খুব ছন্নছাড়া অবস্থায় কিছু মানুষ গাড়ি থেকে ফেলে দিয়েছে। পরে ওই লোকেরা ছেলেটিকে তাদের কর্মস্থলে নিয়ে গেছেন। এরপর তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের ডিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’ সোহেল তাজ লাইভে সবাইকে ধন্যবাদ জানান। পুলিশ ও প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘সৌরভকে পাওয়া গেছে। ও আমাদের কাছে ফিরে আসছে। সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে আমরা অন্তত একটা মানুষের জীবন বাঁচিয়েছি। আমরা আশা করব, এমন ঘটনা আর যেন না ঘটে। আমি আশা করব, যারা মা-বাবার কাছে নেই, তারা যেন ফিরে আসে। কেউ নিখোঁজ হলে তার পরিবারের ওপর দিয়ে কী অবস্থা যায়, আমরা জানি। এই মানসিক যন্ত্রণা কোনো মানুষের জন্য কাম্য হতে পারে না। এত দিন ধরে একটা অনিশ্চয়তার ওপর ভর করে অপেক্ষা করতে হয়েছে সৌরভের পুরো পরিবারকে।’ সৌরভের বাবা সৈয়দ মো. ইদ্রিস আলম এ প্রতিবেদককে জানান, সবার আগে ওই রাইস মিল থেকে তাকে ফোন দেওয়া হয়। এরপর তিনি তার ছেলের সন্ধান পাওয়ার সংবাদটি অন্যদের জানান। ময়মনসিংহ থেকে রওনা হওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার ছেলে বনানীতে তাদের বাসায় এসে পৌঁছান। বাসায় ফেরার সময় তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক বিপর্যস্ত মনে হয়েছে। এখনো পর্যন্ত পরিবারের কেউই তার সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। কে বা কারা এবং কোথায় তিনি এত দিন ছিলেন তাও তারা জানতে পারেননি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সোহেল তাজ বনানীর বাড়ির সামনে অপেক্ষায় থাকা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সৌরভ কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সৌরভের কন্ডিশন ভালো ছিল না। যেটা শুনতে পাচ্ছি, ওকে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে। ওর গায়ে কোনো জামা ছিল না, শুধু পাজামা পরা ছিল। চোখ বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সৌরভকে উদ্ধার করার পর ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার তাকে নিজের বাসায় নিয়ে যান। এসপি সাহেব তার বাসায় নিয়ে গোসলের ব্যবস্থা করে দেন এবং কিছু নাশতার ব্যবস্থা করে দেন। কারণ ও ক্ষুধার্ত ছিল। ও তো বুঝেই উঠতে পারেনি ও কোথায়। কারণ আপনারা তো বুঝতেই পারছেন, ও কী অবস্থায় ছিল।’ সোহেল তাজ বলেন, ‘এই কদিন তো আমাদের অনুভূতি বলতে কিছুই ছিল না। খাওয়া-দাওয়া নেই। কোনো ঘুম নেই। কখন কল আসবে, ওর গলা শোনা যাবে কি না। এই ভেবে দিনরাত অপেক্ষা করে গেছি। এটা একটা বিষাক্ত অনুভূতি। বিষ খেলেও মনে হয় মানুষের এই কষ্ট হয় না।’ এর আগে ৯ জুন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সামনে থেকে সৌরভকে অপহরণ করা হয় বলে দাবি করেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজীম আহমেদ সোহেল তাজ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর