শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ জুলাই, ২০১৯ ২৩:৩২

প্রিয়া সাহাকে নিয়ে যত বিতর্ক

দেশদ্রোহী বক্তব্য তার : কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের উসকানিমূলক ও দেশদ্রোহী বক্তব্য দেওয়ায় প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে এক যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। ওবায়দুল কাদের বলেন, এ বক্তব্য শুধু নিন্দনীয় ও অপরাধই নয়, উসকানিমূলকও। দেশদ্রোহী এ বক্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং এর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তিনি (প্রিয়া সাহা) যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি আমি শুনেছি। এই বক্তব্যটি সম্পূর্ণ অসত্য ও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি একটি নিন্দনীয় অপরাধই শুধু নয়, এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেশের অভ্যন্তরে লুকায়িত মতলববাজ ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে সহায়তা করবে। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি বাংলাদেশের কোনো বিবেকবান দেশপ্রেমিক হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্য প্রিয়া সাহার বক্তব্যের সঙ্গে কোনোভাবেই একমত হবেন না। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেকের সঙ্গে আলাপ করেছি। তারা এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে। এই বক্তব্য গ্রহণযোগ্য কেউ বলে নাই। ওবায়দুল কাদের বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতও বলেছেন এ ধরনের বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চমৎকার একটা পরিবেশ বিরাজ করছে। এই বক্তব্য দেওয়ার পর এ নিয়ে আর কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকার অবকাশ থাকতে পারে না। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাদের সঙ্গে প্রিয়া সাহার সম্পর্কের বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। আমাদের কোনো সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যও নয় তিনি। অনেক অনুষ্ঠানে আমরা যাই, সেখানে অনেককে চিনিও না। অনেকে এসে ছবি তোলে। ছবি তুললেই তো সে আমাদের লোক হয়ে গেল না। এই বিষয়কে কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মনে করছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র হতে পারে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতাকারীদের শাস্তির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ পর্যন্ত ২০০ অভিযোগ এসেছে, আরও আসছে। এসব অভিযোগ যাচাই করে দেখছেন বিভাগীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা। ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে এটা চূড়ান্ত হবে। ২৮ জুলাই থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হবে। তিনি বলেন, যারা জাতীয় নির্বাচনে বিদ্রোহ করেছে ধরে নিতে পারেন আগামী নির্বাচনে তাদের নমিনেশন পাওয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য হবে না। শাস্তি শুধু বহিষ্কার করলে হয় এমনটা নয়, দলের শাস্তি অন্যভাবেও দেওয়া যায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আবদুর রহমান, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সুজিত রায় নন্দী, আবদুস সবুর, বিপ্লব বড়ুয়া, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, রিয়াজুল কবির কাওছার প্রমুখ।

উদ্ভট অভিযোগ বিশেষ মতলবে : বিশেষ মতলবে প্রিয়া সাহা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে উদ্ভট অভিযোগ করেছেন বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। শুক্রবার হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এক সমাবেশে যোগ দিয়ে লন্ডন রওনা হওয়ার আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি প্রিয়া সাহার এমন আচরণের নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি যে অভিযোগ করেছেন তা একেবারেই মিথ্যা। বিশেষ মতলবে তিনি এমন উদ্ভট কথা বলেছেন।’ খবর বিডিনিউজ২৪ডটকম। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, বাংলাদেশে সরকারি কর্মচারীদের ২৫ শতাংশ হচ্ছে ধর্মীয়ভাবে সংখ্যালঘু, যদিও তারা মোট জনসংখ্যার ১২ শতাংশ। ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের প্রকৃত পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেছেন। তাই প্রিয়া সাহার বক্তব্য যে অন্তঃসারশূন্য এবং বিশেষ উদ্দেশ্যে জঘন্য মিথ্যাচার, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ ধরনের অভিযোগে প্রকারান্তরে শান্তিপূর্ণ সমাজে বিশৃঙ্খলা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তা কখনো হতে দেবে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাদের সহ্য হচ্ছে না, তাদের উদ্দেশ্য পূরণেই প্রিয়া সাহা এ অভিযোগ করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি : শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দেওয়া প্রিয়া সাহার নালিশের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার উদ্দেশ্যেই প্রিয়া সাহা এমন বানোয়াট ও কল্পিত অভিযোগ করেছেন। এর পেছনে অসৎ কোনো উদ্দেশ্য বা রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখের বেশি মিয়ানমারের নাগরিকদের অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানুষের মানবিকতা ও উদারতা বিশ্বব্যাপী প্রসংশিত। বাংলাদেশ সরকার আশা করে এ ধরনের বড় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের আয়োজকরা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানাবেন, যারা ধর্মীয় স্বাধীনতার মূল্য বৃদ্ধিতে সত্যিকারের অবদান রাখবে।


আপনার মন্তব্য