প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:২০

এডিস মশার উৎস ধ্বংসের বিকল্প নেই

-ড. বি এন নাগপাল, কিটতত্ত্ববিদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

এডিস মশার উৎস ধ্বংসের বিকল্প নেই

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কিটতত্ত্ববিদ ড. বি এন নাগপাল বলেছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার উৎসস্থল ধ্বংস করার বিকল্প নেই। নির্মাণ প্রকল্পের কারণে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। নির্মাণাধীন ভবনের এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংস করলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ৪০ শতাংশ কমানো  সম্ভব। গতকাল রাজধানীর স্বাস্থ্য অধিদফতরে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, গবেষক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ আবুল মকসুদ উপস্থিত ছিলেন। এডিস মশার জীবন চক্র সম্পর্কে ড. বি এন নাগপাল বলেন, এডিস মশা স্বচ্ছ পানিতে জন্মায়। নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো সচেতন না হলে সিটি করপোরেশনের উচিত তাদের শাস্তির আওতায় আনা। মশা মারতে রাস্তা ও খোলা জায়গায় ফগিং করাকে মিথ হিসেবে উল্লেখ করেন এ কিটতত্ত্ববিদ। তিনি বলেন, এডিস মশা মারতে রাস্তা এবং খোলা জায়গায় ফগিং করা একটি মিথ। এর পরিবর্তে নিজেদের বাড়ি পরিষ্কার রেখে সকাল-সন্ধ্যা অ্যারোসল ¯ন্ডেপ্র করতে হবে। কারণ এডিস মশা বাড়ির ভিতরে থাকে। এ অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। কিন্তু এডিস মশার প্রজনন উৎস চিহ্নিত করাই মূল বিষয়। এডিস মশা খুব অল্প পানিতে (৫ মিলি বা ১ চা চামচ পানি) ডিম পাড়ে যা পানি ছাড়াও প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। এডিস মশার ডিম এক বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। এ সময় একটি বোতলের ঢাকনায় পানি দেখিয়ে তিনি বলেন, এটি দুই এমএল পানিতেও বংশবৃদ্ধি করতে পারে। ড. বি এন নাগপাল বলেন, এটি একটি স্মার্ট মশা। এটি দেয়ালে থাকে না। টেবিলের নিচে, বিছানা, সোফা, ঝুলানো কাপড় ও অন্ধকার জায়গায় থাকে। সে সব জায়গায় ¯ন্ডেপ্র করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের কমিউনিটিকে সঠিক বার্তা দিতে হবে। কারণ কমিউনিটির সম্পৃক্ততা ছাড়া এ রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। জনগণকে সম্পৃক্ত করলে ১০ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় দুই সিটি করপোরেশনের যে সক্ষমতা দেখানোর প্রয়োজন ছিল তারা তা দেখাতে পারেনি। তবে নাগরিক সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। ৩৬৫ দিনই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হবে।


আপনার মন্তব্য