Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:৪৩

বিএসইসি চেয়ারম্যানের দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএসইসি চেয়ারম্যানের দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুদক

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. মো. খায়রুল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানের উদ্যোগকে ইতিবাচক বলছেন শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা। শেয়ারবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে শীর্ষ ব্যক্তিরা দুদকের এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দুদকের অনুসন্ধানে যাতে কোনো প্রভাব না পড়ে সে জন্য সংশ্লিষ্টরা এখনই বিএসইসি চেয়ারম্যানের  পদত্যাগ দাবি করেছেন।

জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিএসইসি চেয়ারম্যান ড. খায়রুল হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে  দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরীকে দায়িত্ব দিয়েছে। গত ৭ আগস্ট তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। ঈদুল আজহার আগে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলেও এটি প্রকাশ পায় দুই দিন আগে। দুদকের চিঠিতে বলা হয়েছে, ড. এম খায়রুল হোসেন, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গোষ্ঠীর যোগসাজশে দুর্বল  কোম্পানির শেয়ার (ইনিশিয়াল পাবলিক অফার-আইপিও) অনুমোদন করিয়ে শেয়ারবাজারে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার করার অভিযোগ অতিদ্রুত গোপনীয়ভাবে অনুসন্ধানকার্য সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। এদিকে বিএসইসি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানের খবরে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। শেয়ারবাজার লেনদেন সূচক বেড়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হার ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

২০১১ সালের ২৩ আগস্ট বিএসইসিতে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক খায়রুল হোসেন। প্রথমবার ৩ বছরের জন্য তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় ২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল চার বছরের চুক্তিতে  চেয়ারম্যান করা হয়। পরে গত বছরের ২৫ এপ্রিল আবারও দুই বছরের জন্য নিয়োগ পান তিনি। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বেশ কয়েক মাস ধরে তার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন।

বাজারে আস্থাহীনতা কাটাতে এমন পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন  শেয়ারবাজারের সবাই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্রোকার হাউসের মালিক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, দুর্বল কোম্পানির শেয়ার বাজারে আনলে লেনদেন কীভাবে বাড়বে। বছরের পর বছর এক ব্যক্তি বিএসইসির চেয়ারম্যান কীভাবে থাকেন? তার কারণেই বাজারে এই অস্থিতিশীলতা। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা জানান, আমরা  চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি তার পদত্যাগ। দেরিতে হলেও দুদক সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এখনই তার পদত্যাগ করা উচিত যাতে অনুসন্ধান ব্যাহত না হয়। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অভিমত, এবার বাজার শক্তিশালী হবে। চেয়ারম্যানের একক কারণে তার সময়ে বাজারে যেসব আইপিও এসেছে এর অধিকাংশই নামসর্বস্ব কোম্পানি। নানা ধরনের দুর্নীতি অনিয়ম করে এসব কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। গত ৮ বছরে তালিকাভুক্ত ২০ থেকে ৩০টি কোম্পানির বেশিরভাগেরই শেয়ার দর এখন অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে গেছে। অনেক কোম্পানির কোনো উৎপাদনই নেই। বন্ধ থাকা কোম্পানিও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

 এর বাইরে বাজারে শেয়ার কারসাজিতে জড়িত ব্যক্তিরা এখনো একইভাবে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। চলতি বছরের শুরু  থেকে টানা দরপতনের মধ্যে পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। দুর্বল কোম্পানিকে তালিকাভুক্তি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলে বাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ এপ্রিল নতুন আইপিও আবেদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে দুদকের অনুসন্ধান বিষয়ে বিএসইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিএসইসি প্রতিষ্ঠানলগ্ন থেকেই দেশের শেয়ারবাজার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসছে। কমিশনের কোনো চেয়ারম্যান, কমিশনার বা কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অর্থ বা কোনো সুবিধার ভিত্তিতে কোনো কাজ করেছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ কখনই উত্থাপিত হয়নি। পাবলিক ইস্যুর (আইপিও) জন্য আবেদন করলে কমিশন প্রযোজ্য আইন অনুসারে সব শর্ত পূরণ করেছে কিনা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি দাখিল করেছে কিনা এবং সব তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করে। বিধি মোতাবেক সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষেই শুধু পুঁজি উত্তোলনের অনুমোদন প্রদান করা হয়ে থাকে।


আপনার মন্তব্য