শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৫

বন্ধু সৈকত চার দিনের রিমান্ডে সহপাঠীদের বিক্ষোভ অব্যাহত

আদালত প্রতিবেদক

বন্ধু সৈকত চার দিনের রিমান্ডে সহপাঠীদের বিক্ষোভ অব্যাহত
রুম্পার মৃত্যু ঘটনায় গ্রেফতার বন্ধু সৈকত -বাংলাদেশ প্রতিদিন

রাজধানীর রমনা থানায় করা স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা হত্যা মামলায় তার বন্ধু আবদুর রহমান সৈকতকে চার দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক শাহ মো. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস আসামি সৈকতকে আদালতে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। এদিকে গতকালও রুম্পা হত্যার বিচারের দাবিতে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের ৬৪/৪ বাসার সামনে অজ্ঞাত ২০-২২ বছর বয়সী এক নারী উপুড় হয়ে পড়েছিলেন। তখন স্থানীয় লোকজন মৃতদেহটি ওড়না দিয়ে ঢেকে রাখেন। অজ্ঞাত আসামি ওই নারীকে ঘটনাস্থলের আশপাশের তিনটি ভবনের যে কোনো একটি থেকে নিচে ফেলে দেন। এরপর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ প্রথমে মামলাটি তদন্ত করলেও পরবর্তী সময়ে তদন্তভার ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তকালে অজ্ঞাত ওই নারীর পরিচয় মেলে। ওই নারীর নাম রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা। তিনি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। আর আসামি সৈকত ওই ইউনিভার্সিটির বিবিএর ছাত্র ছিলেন। সেই সুবাদে শারমিনের সঙ্গে আসামির ভালো সম্পর্ক ছিল বলে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে সম্প্রতি তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। এরই মধ্যে ৪ ডিসেম্বর বিকালে প্রেম-ভালোবাসার বিষয়ে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের বাইরে রাস্তায় দেখা করার জন্য রুম্পাকে অনুরোধ করেন সৈকত। এরপর যৌক্তিক কারণ ছাড়াই সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বললে মনোমালিন্যসহ বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। পরে হত্যার উদ্দেশ্যে আসামি সৈকতসহ অন্য আসামিরা ৬৪/৪ সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের বাসার ছাদ থেকে রুম্পাকে ফেলে দেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য এ আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে আসামি সৈকতের আইনজীবী আবদুল হামিদ ভূঁইয়া রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। রিমান্ড শুনানিতে তিনি বলেন, মাত্র এক সপ্তাহ আগে আসামির বাবা মারা গেছেন। এরও সপ্তাহখানেক আগে তার চাচা মারা যান। ঘটনার পর ডিবি পুলিশ ফোন করে ডাকলে সৈকত সেখানে উপস্থিত হন। তিনি সাদা মন নিয়ে ডিবি অফিসে যান। সদ্য বাবা, চাচা হারানো একটা ছেলের পক্ষে এ ধরনের হত্যাকা- ঘটানোর মতো মানসিক অবস্থা থাকাটা অস্বাভাবিক। এ ছাড়া এই মেয়ের যন্ত্রণায়ই সম্প্রতি সৈকত স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ছেড়ে পড়াশোনার জন্য অন্যত্র ভর্তি হন। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তাই রিমান্ড বাতিল করে জামিন দেওয়া হোক। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আসামি সৈকতকে বিচারক চার দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন। মামলা সূত্রে জানা গেছে, ৪ ডিসেম্বর বিকাল ৫টার পর রুম্পা রাজধানীর শান্তিবাগের বাসা থেকে বের হন। রাত পৌনে ১১টার দিকে বাসা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে পাশাপাশি তিনটি ভবনের কোনো একটি থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়। শনিবার সন্ধ্যায় সৈকতকে আটক করা হয়। তিনি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিবিএ বিভাগের ৫৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। এদিকে রুম্পার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিচার দাবিতে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসে গতকাল তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি, রুম্পাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যারহস্যের কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। তারা বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে হবে।


আপনার মন্তব্য

close