শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩৭

কল্যাণ সভায় প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন

নির্দেশ দেওয়ার পরও দাবি বাস্তবায়ন হয়নি কেন

সাখাওয়াত কাওসার

নির্দেশ দেওয়ার পরও দাবি বাস্তবায়ন হয়নি কেন

নির্দেশ ও আশ্বাস দেওয়ার পরও এবারের পুলিশ সপ্তাহে একই দাবি ওঠায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র সচিবের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানতে চেয়েছেন, ‘আমি বলে দেওয়ার পরও কাজ হলো না কেন? আমার কার্যালয় থেকেও তো কাগজ পাঠানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। এর জবাব আমাকে দিতে হবে।’ গতকাল পুলিশ সপ্তাহ-২০২০-এর প্যারেড শেষে রাজারবাগ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত কল্যাণ সভায় পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন দাবি ওঠার পর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বরাষ্ট্র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জানা গেছে, গতকাল কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পর্যন্ত ছয়জন পুলিশ সদস্য বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর সামনে। এদের মধ্যে একজন কনস্টেবল, একজন নায়েক, দুজন উপ-পরিদর্শক, একজন পরিদর্শক ও একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। দাবিগুলোর বেশির ভাগই উত্থাপিত হয়েছিল গত দুই পুলিশ সপ্তাহে। দাবিগুলোর অনেকগুলো সমাধান করার আশ্বাস ও নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। গতকালও ছয়টি দাবি উত্থাপন করেন পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজা লিজা বলেন, অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠান বা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছুটিতে গিয়ে মারা গেলেও এককালীন আট লাখ টাকা পান। পুলিশের একজন সদস্য জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হলেও পান পাঁচ লাখ টাকা। অন্যান্য সরকারি দফতরের একজন সদস্য সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো উপায়ে আহত হলে যেখানে চার লাখ টাকা পান, সেখানে পুলিশের একজন সদস্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে গুরুতর আহত হলেও পান মাত্র এক লাখ টাকা। এ বিষয়ে সমতা আনার জন্য গত কয়েকটি পুলিশ সপ্তাহেই দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা লিজার বক্তব্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরনো এ বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাৎক্ষণিকভাবে সাত কার্যদিবসের মধ্যে বিষয়টি সুরাহা করার নির্দেশ দেন তিনি। লাকী খাতুন নামের একজন কনস্টেবল বলেন, নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের ক্ষেত্রে টেলিফোন, বিউগল, নার্সিং, ড্রাইভিং, ক্লিনার ইত্যাদি ভাতা ট্রেডভেদে ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। এটা বর্তমান বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা করার দাবি করেন তিনি। এর উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তো এক কাপ চা-ও ১৫ টাকায় পাওয়া যায় না। এটা সত্যি হাস্যকর ব্যাপার। ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো অনুযায়ী এই ভাতাসমূহ নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি। নায়েক সাইফুল ইসলাম নামের এক পুলিশ সদস্যের দাবি ছিল, অন্য সব সরকারি বিভাগের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে সব শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য ৩০ শতাংশ প্রশিক্ষণ ভাতা চালু রয়েছে। পুলিশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে কেবল সারদা পুলিশ একাডেমি, মিরপুর পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত এএসপি থেকে তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য ৩০ শতাংশ ভাতা চালু হয়েছে। অন্যান্য সরকারি দফতরের সঙ্গে সমতায়ন  করে পুলিশেও সমান সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান তিনি। এই দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। কেউ প্রশিক্ষণে এলে তার ভাতা না থাকলে প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী সবারই মন খারাপ থাকে। উপ-পরিদর্শক (এসআই) স্মৃতি রানী দত্তের দাবি ছিল, অন্যান্য সরকারি সংস্থার মতো পাচারকৃত বা চোরাই বা অবৈধ মালামাল উদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রণোদনা। সিআইডির এক পরিদর্শক বলেন, অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা তাদের উদ্ধারকৃত মালামালের মূল্যের ওপর একটি প্রণোদনা পেলেও পুলিশ এ ধরনের কোনো সুবিধা পায় না। এ ক্ষেত্রে উদ্ধারকৃত মালামালের ন্যূনতম ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা হিসেবে পুলিশকে দেওয়ার দাবি তোলা হয়। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সম্মতি প্রধানমন্ত্রী দেননি। পুলিশের আবাসন সমস্যার কথা আঁচ করতে পেরে প্রধানমন্ত্রী রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের ঠিক পূর্ব পাশে গণপূর্তের আবাসিক দালানগুলোতে পুলিশ সদস্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আবাসন বরাদ্দের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা বলেন, পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত কল্যাণ সভায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিগত বছরে নানা ক্ষেত্রে পুলিশের সাফল্য তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পেশাগত সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুলিশের জন্য কিছু যৌক্তিক দাবিও তুলে ধরা হয়।


আপনার মন্তব্য