শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩১

চার লাখ টাকা খরচে সৌদি গিয়ে ফিরলেন এক কাপড়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক

চার লাখ টাকা খরচে সৌদি গিয়ে ফিরলেন এক কাপড়ে

ভাগ্য বদলের আশায় চার লাখ টাকা খরচ করে তিন মাস আগে সৌদি আরব গিয়েছিলেন সিলেট জেলার মোহাম্মদ সেলিম (২০)। গত বৃহস্পতিবার তাকে ফিরতে হয়েছে এক কাপড়ে। রাস্তা থেকে ধরে তাকে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে সৌদি পুলিশ। শুধু সেলিম নন, তার মতো ১০২ জন বাংলাদেশিকে বৃহস্পতিবার রাতে সৌদি আরব থেকে ফিরতে হয়েছে। অধিকাংশই ফিরেছেন শূন্য হাতে। অনেকেই ফিরেছেন শুধু পরনের পোশাকটা নিয়ে। রাত ১১ টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি-৮০৪ ফ্লাইটে তারা দেশে ফেরেন। প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসাদের ব্রাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়। ফিরে আসা সেলিম বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই রাস্তা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কথা বলার কোনো সুযোগ না দিয়েই এক কাপড়ে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। সেলিমের মতো একই পরিস্থিতির শিকার হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন সিলেটের আনহার, দুলাল মিয়া, মিন্নাত আলী, জামিল আহমেদ, মিনু রহমান, আনোয়ারসহ অনেকে। কেউ তিন মাস, কেউ ছয় মাস, কেউ ফিরেছেন এক বছরের মাথায়। একইসঙ্গে ফেরত আসা গাজীপুরের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বিমানবন্দরেই চিৎকার করে রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা করার কথা বলছিলেন। তিনি বলেন, কোম্পানির কাজের কথা বলে পাঠানো হয়েছিল সৌদি আরবে। কোম্পানির কাজ পাওয়া তো দূরের কথা, সব হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব। চলতি বছরে সৌদি থেকে ১৭৫ নারীসহ প্রায় চার হাজার বাংলাদেশি ফিরেছেন। এক দিন আগেই সৌদি থেকে ফেরেন আরও ১৮৩ বাংলাদেশি। আসে আটটি বাক্সবন্দী মরদেহ। ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, এই যে মানুষগুলো প্রতিদিন ফিরছেন, তাদের কথা শোনার কেউ নেই। ফেরত পাঠানোর বর্ণনা শুনে মনে হয় মানুষ নয়, গরু-ছাগল বেঁধে ফেরত পাঠাচ্ছে। বিমানবন্দরেই ফেরত আসা মানুষগুলোর কথা শুনে ঘটনার তদন্ত করা উচিত। কারা তাদের এভাবে বিদেশে পাঠাচ্ছে আর সৌদি আরবই বা কেন তাদের সঙ্গে এমন রূঢ় আচরণ করছে সেটা তলিয়ে দেখা দরকার।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর