শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩৭

মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের প্রতি আহমেদ আকবর সোবহান

সত্য যত কঠিন অপ্রিয় হোক সেটাই লিখতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সত্য যত কঠিন অপ্রিয় হোক সেটাই লিখতে হবে
বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি সম্মেলনে গতকাল বক্তব্য দেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান - বাংলাদেশ প্রতিদিন

বাংলাদেশ প্রতিদিনের মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের উদ্দেশে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া ও বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেছেন, সত্য যত কঠিন হোক, অপ্রিয় হোক সেটাই লিখতে হবে। অসত্য ও পক্ষপাতমূলক সংবাদ কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। অনিয়মের বিরুদ্ধে যেমন লিখবেন,  তেমনি বাংলাদেশের সাফল্যের খবরগুলোও তুলে ধরবেন। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করতে হবে। বাংলাদেশ প্রতিদিন হবে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং।

তিনি গতকাল রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের (ইডব্লিউএমজিএল) কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি সম্মেলন, ২০২০-এ প্রধান অতিথির ভাষণ দিচ্ছিলেন। বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজামের সভাপতিত্বে প্রতিনিধি সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক আবু তাহের, উপ-সম্পাদক মাহমুদ হাসান, বার্তা সম্পাদক কামাল মাহমুদ, নগর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, প্রধান প্রতিবেদক মনজুরুল ইসলাম, জিএম অ্যান্ড হেড অব মার্কেটিং মাসুদুর রহমান, জিএম অ্যান্ড হেড অব সার্কুলেশন বিল্লাল হোসেন মন্টু, মফস্বল সম্পাদক শায়খুল হাসান মুকুল, অনলাইন ইনচার্জ শামছুল হক রাসেলসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগের নিজস্ব প্রতিবেদক, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বের শুরুতে রংপুরে বাংলাদেশ প্রতিদিনের নিজস্ব প্রতিবেদক প্রয়াত শাহজাদা মিয়া আজাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ১০ বছর হতে চলল বাংলাদেশ প্রতিদিনের বয়স। সার্কুলেশনে পত্রিকাটা এক নম্বর। আমরা নিউইয়র্ক ও লন্ডন থেকেও বাংলাদেশ প্রতিদিন বের করছি। সেখানেও এটি এক নম্বর বাংলা পত্রিকা। একটা সময় বাংলাদেশ প্রতিদিন কী লিখল তা নিয়ে মানুষ ভাবত না। এখন পত্রিকাটির কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে। গতানুগতিক ধারায় চলায় শত শত পত্রিকা পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে। মানুষ পরিবর্তন চায়। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কাছে মানুষের প্রত্যাশাটা বেশি। তাই পরিবর্তনের চিন্তা মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, ১৯৯৮ সালে বসুন্ধরা সিটি করার সময় কোরিয়ার একটি পত্রিকা লিখেছিল, এই বিল্ডিং ১০ বছরেও করা সম্ভব নয়। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আমরা এক বছরে সেই বিল্ডিংয়ের অবকাঠামো করেছিলাম। ওই সময়ে এটা অকল্পনীয় ছিল। এ কারণেই আমাদের প্রতি মানুষের প্রত্যাশাটা বেশি।

সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পক্ষপাতমূলক কোনো সংবাদ সহ্য করা হবে না। কারও বিরুদ্ধে রিপোর্ট করার আগে সম্পাদকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেবেন। অনেক সময় দেখা যায়, একজনের পক্ষ হয়ে আরেকজনকে আক্রমণ করা হচ্ছে। এটা কখনোই সহ্য করা হবে না। নিরপেক্ষভাবে শতভাগ সত্য তুলে ধরতে হবে। সত্য চিরদিনই সত্য। এর কোনো বিকল্প নেই। সত্য যত কঠিন হোক, অপ্রিয় হোক সেটাই লিখতে হবে। অনেক পত্রিকা হারিয়ে গেছে, আবার শত বছর আগের পত্রিকাও সদর্পে দাঁড়িয়ে আছে। অনলাইন, টেলিভিশনÑ এত কিছু থাকার পরও প্রিন্ট মিডিয়ার আবেদন এখনো আছে। ছাপা কাগজে পড়ার আনন্দটা একটু অন্যরকম। আমাদেরকে টিকে থাকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমরা এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। আমাদের পত্রিকা প্রো-পজিটিভ। আমরা সরকারের সমালোচনাও করি, ভালো দিকগুলোও তুলে ধরি। সংবাদকর্মীরাও দেশের ভালো খবরগুলো তুলে ধরবেন। আমাদের পত্রিকাটা হবে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং। দেশের ভালো খবরগুলো বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে হবে। বাংলাদেশ প্রতিদিন ১৮১টি দেশে অনলাইনে দেখা যায়। পত্রিকাটি ভালো কিছু লিখলে ১৮১টি দেশের মানুষ তা জানতে পারবে। আমাদের বাংলা পত্রিকা সব দূতাবাসে ইংলিশ করে রাখা হয়, তাদের দেশেও পাঠানো হয়। তাই বাংলাদেশের সাফল্যগুলো তুলে ধরতে হবে।

সবশেষে গত এক বছরে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা অফিসে ১০ জন ও জেলা প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে ১০ জনকে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

বসুন্ধরা চেয়ারম্যান বলেন, বসুন্ধরায় যারা কাজ করেন সবাই আমরা এক পরিবার। এখানকার প্রতিটি কর্মী প্রতিষ্ঠানকে নিজের প্রতিষ্ঠান মনে করেন। তাই এখন পর্যন্ত বসুন্ধরার কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো সমস্যা হয়নি।

বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, আমরা সফলতার সঙ্গে ১০ বছর অতিক্রম করেছি। বাংলাদেশ প্রতিদিন নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশ করছি, লন্ডন থেকে প্রকাশ করছি। বগুড়া থেকেও ছাপা হওয়ায় উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোয় সাতসকালে পত্রিকা পৌঁছে যাচ্ছে। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান চট্টগ্রামেও একটি প্রেস স্থাপন করতে চাইছেন যাতে ওই অঞ্চলেও খুব ভোরে পত্রিকা পৌঁছে দেওয়া যায়। বসুন্ধরা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ও পরামর্শে পত্রিকাটি যে অবস্থান তৈরি করেছে তা ধরে রাখতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আরও দায়িত্বশীল হয়ে দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। কোনোভাবেই অসত্য সংবাদ প্রকাশ করা যাবে না।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, বসুন্ধরা চেয়ারম্যান আমাদের অভিভাবক হিসেবে বটবৃক্ষের মতো ছায়া দিয়ে রেখেছেন। তিনি সাংবাদিকদের তাদের পেশাগত দায়িত্বটা ইবাদতের মতো পালন করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, একসময় পশ্চিমা বিশ্বে রুপার্ড মারডককে মিডিয়া মোঘল বলা হতো। এখন দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বড় মিডিয়া হাউস বসুন্ধরার ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর