শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ মার্চ, ২০২০ ২৩:৪৫

বাংলাদেশে পরিস্থিতির উন্নতি নতুন কোনো আক্রান্ত নেই

পরীক্ষা ১০৯ জনের, সুস্থ ১৫, মোট আক্রান্ত ৪৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে পরিস্থিতির উন্নতি নতুন কোনো আক্রান্ত নেই

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বাংলাদেশে নতুন কারও মধ্যে করোনা ধরা পড়েনি। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিসংখ্যান অনুসারে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে নতুন কারও মধ্যে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েনি। আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮ জনে রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জন সংক্রমণমুক্ত, সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে গেছেন। আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গতকাল এক ভারচুয়াল ব্রিফিংয়ে নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে কারও মধ্যে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েনি। এর মানে, সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা আগের মতোই ৪৮ জনে আছে। নতুন করে কারও মৃত্যুর তথ্য না আসায় এ সংখ্যা আগের মতোই পাঁচজন। আইইডিসিআর পরিচালক জানান, ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষিত ১০৯টি নমুনার মধ্যে মহাখালীর ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ (আইপিএইচ) ও চট্টগ্রামের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজের (বিআইটিআইডি) সংগৃহীত নমুনাও রয়েছে। নিজের বাসা থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যানুসারে, সিলেটে রাস্তায় অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকা ফিনল্যান্ডের নাগরিক মি. মার্কুকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে তার করোনার কোনো উপসর্গ নেই। করোনা আক্রান্ত সন্দেহে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে আড়াই বছরের শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে ভর্তি করা হয়েছে। তারা সবাই ঠাকুরগাঁও জেলার বাসিন্দা। তাদের দেহের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। এদিকে সাতক্ষীরায় এ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৩৮৯ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৩২ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ছাড়পত্র পেয়েছেন ১০৯ জন। বাগেরহাটে আক্রান্ত সন্দেহে এক নারীকে আইসোলেশন সেন্টারে এবং শরণখোলা হাসপাতালে এক যুবককে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের রাখা হয়েছে। করোনা আতঙ্কে গতকাল সকাল পর্যন্ত বিশে^র ৩৮ দেশ থেকে বাড়ি ফেরা ৪ হাজার ২০০ প্রবাসীর মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৩৫৬ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। এছাড়া ৯৮১ জন হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্ধারিত সময় পূর্ণ হওয়ায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। কোয়ারেন্টাইন না করা ২ হাজার ৮৪৪ জন প্রবাসীকে বাড়িতে বাড়িতে খুঁজে ফিরছেন স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এসব প্রবাসীর বাড়িতে টানানো হচ্ছে লাল পতাকা। বিপুলসংখ্যক প্রবাসী কোয়ারেন্টাইন না করায় জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৮ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকায় এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭৭ জনে। এদের মধ্যে ইতালি, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, দুবাই, ভারত ও কাতারফেরত প্রবাসী রয়েছেন। হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৪৩০ জন। ফেনীতে মোট ৯৯১ বিদেশফেরত বর্তমানে হোম কেয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। হোম কেয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরাও। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে গিয়েছেন ৩০ জন বিদেশরফরত। এ পর্যন্ত মোট ৪৬৩ জনের হোম কোয়ারেন্টাইন শেষ হয়েছে।  কিশোরগঞ্জে নতুন করে ৭৮ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ২৮৫ জন। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৬ জন। মোট ৭৮১ জন কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। জয়পুরহাটের কালাইয়ের নান্দাইলদীঘিতে করোনাভাইরাসের লক্ষণ সন্দেহ হওয়ায় এক যুবকসহ ওই পরিবারের চার সদস্যকে আইসোলেশন ইউনিটে রাখা হয়েছে। ওই যুবকের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। ওই পরিবারের সংস্পর্শে আসা ১১ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুড়িগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় বিদেশিদের সংস্পর্শে আসায় দুইজনসহ ৮৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৩২০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। জেলার ৯ উপজেলায় মোট ৫৪০ জন বিদেশফেরত প্রবাসী কুড়িগ্রামে এলেও মাত্র ৩১৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। যশোরে গতকাল পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তির সংখ্যা ২ হাজার ২৩৯। এদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ১০৬ জনকে। যশোর জেনারেল হাসপাতালের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে তিন রোগীকে রাখা হয়েছিল। এদের মধ্যে দুইজনের নমুনা পরীক্ষায় করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। বাকি একজনের নমুনা গতকাল ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। গাইবান্ধায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হোম কোয়ারেন্টাইনে যুক্ত হয়েছেন ২৮ জন। এ নিয়ে জেলার সাত উপজেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন মোট ২৪১ জন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর করোনাভাইরাস সংক্রমণের কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় ১২ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে এখন পর্যন্ত আমেরিকা প্রবাসী দুজন এবং তাদের সংস্পর্শে আসা আরও দুজনসহ মোট চারজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনিবার থেকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতাল ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আইসোলেশনে আছেন। শরীয়তপুরে গেল ২৪ ঘণ্টায় নতুন ক?রে ১০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে। জেলায় এখন মোট হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৩১৩ জন।

জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক নারীকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ক?রে ১০ জন?কে হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে। নাটোরের বাগাতিপাড়ার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বগুড়ায় দুই রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে করোনাভাইরাসের জন্য বিশেষায়িত মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে। গতকাল দুপুরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জেলায় ৭৪৩ জন এখনো হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর