শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ এপ্রিল, ২০২০ ২৩:৩২

মৃত্যুপুরী ইতালি স্পেন ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্র

লকডাউন সিঙ্গাপুর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হুঁশিয়ারি দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক

মৃত্যুপুরী ইতালি স্পেন ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্র

চীনের উহান থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসের বিশ্বমহামারী কভিড-১৯ আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। কোনোভাবেই রাশ টানা যাচ্ছে না এই ভাইরাসের আগ্রাসন। প্রতিদিন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে উঠে আসছে একটির পর একটি মৃত্যুর খবর। যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, স্পেন এবং ফ্রান্স যেন আজ মৃত্যুপুরী। ইরান থেকে শুরু করে ভারত, পাকিস্তান-সারা বিশ্বেই যেন মৃত্যুর হাহাকার। ভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক-অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ বন্ধ রেখে দেশে দেশে কারফিউ-লকডাউন পালন করছে। কিন্তু অনবরত মৃত্যু হতে থাকায় প্রতিটি দিন ও রাত হয়ে উঠেছে বিভীষিকাময়। এরই মধ্যে ভাইরাসটি ২০৩টি দেশ ও দুটি আন্তর্জাতিক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৭৪ হাজার। মৃত্যুর সংখ্যা ৫৬ হাজার ছাড়িয়েছে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান মতে, চীন থেকে শুরু হলেও দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে আক্রান্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৪৭ হাজার ১৪২ জন আক্রান্ত হয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ১৫৫ জনের। ইতালিতে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৪২ জন আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ১৩ হাজার ৯১৫ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে। স্পেনে ১,১৭,৭১০ আক্রান্ত, মৃত্যু হয়েছে ১,০৯,৩৫। মৃত্যুপুরী স্পেনে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ব্রিটেনে মৃত্যু হয়েছে আরও ৬৮৪ জনের। কুয়েতে নতুন করে আরও ১০ বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ইকুয়েডরে রাস্তা থেকে ১৫০ মৃতদেহ উদ্ধার করেছে সে দেশের সেনাসদস্যরা। ভারতে এক রাতে করোনায় আক্রান্ত ২৩২ জন। উহানে নতুন করে ৪ জনের মৃত্যু হওয়ায় সামনে নতুন বিপদ দেখছে চীন। ভয়ঙ্কর এ পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষণা করে, ইউরোপ-আমেরিকার পর নতুন মৃত্যুপুরী হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া। এ ঘোষণার পর আতঙ্ক বেড়ে গেছে দেশগুলোতে। প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে এক মাসের লকডাউন ঘোষণা করল সিঙ্গাপুর। আগামী ৭ এপ্রিল স্থানীয় সময় মধ্যরাত থেকে শুরু হবে এই লকডাউন। শুক্রবার এ ঘোষণা করেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং।

যুক্তরাজ্য থেকে প্রতিনিধি আ স ম মাসুম জানান, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ছোবল আরও ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে ব্রিটেনকে। ব্রিটেনে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬৮৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। খবর স্কাই নিউজের। এটি ব্রিটেনে এক দিনে সর্বোচ্চসংখ্যক মৃত্যু। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে বৃহস্পতিবার ব্রিটেনে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬০৫ জনে। গতকাল মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৬৮ জন। নতুন মৃতের পরিসংখ্যানের হিসাব দেওয়া হয়েছে গতকাল (২ এপ্রিল) বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রাপ্ত হিসাব থেকে। আর আক্রান্তদের হিসাব দেওয়া হয়েছে আজ (শুক্রবার) সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রাপ্ত সূত্র থেকে। ব্রিটেনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৪৪৫০ জন। মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮১৬৮ জনে। শতকরা হিসাবে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ১৩.১%।

এদিকে শুক্রবার সকালে লন্ডনের এক্সএল সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রিন্স চার্লস নতুন ৪০০০ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ব লন্ডনের নাইটিঙ্গেল হাসপাতালটি খুলে দিয়েছেন। ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি করোনাভাইরাস রোগীদের জন্য আজ (শুক্রবার) হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন।

করোনাভাইরাস রোগীদের চিকিৎসার জন্য সরকারের প্রথম জরুরি পদক্ষেপের মধ্যে পূর্ব লন্ডনের এক্সএল সেন্টারের মধ্যে নির্মিত এটিই প্রথম কোনো হাসপাতাল।

কলকাতা থেকে দীপক দেবনাথ জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিভ্রান্তির মধ্যেই ফের মুখ খুললেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে তিনি জানালেন, ‘রাজ্যে এখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৮, সুস্থ হয়েছেন ১২ জন। আগে তিনজন বাড়ি ফিরেছেন, আজ ৯ জনকে ছেড়ে দেওয়া হবে।’

এদিন বিকালে নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি বলেন, ‘এটা অবশ্যই ছোঁয়াচে ভাইরাস। তবে এটাও ঠিক যে, সাধারণ মানুষের অনেকেই এই রোগ থেকে ভালোও হয়ে যাচ্ছেন। এটা একটা ভালো দিক। অর্থাৎ চিকিৎসায় সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের সব করোনা রোগী ভালো আছেন। আমি খুব খুশি। আমি দোয়া করব তারা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন।’

গত বৃহস্পতিবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে নতুন মৃত্যুর তালিকায় শীর্ষে ছিল ফ্রান্স। ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে এদিন ২৪ ঘণ্টায় মারা যান ১ হাজার ৩৫৫ জন। এরপর এ তালিকায় ছিল যুক্তরাষ্ট্রে ৯৬৮, স্পেনে ৯৬১, ইতালিতে ৭৬০, যুক্তরাজ্যে ৫৬৯, বেলজিয়ামে ১৮৩, জার্মানিতে ১৭৬, নেদারল্যান্ডসে ১৬৬, ইরানে ১২৪ জন। বিভিন্ন দেশ মিলিয়ে এদিন মোট নতুন মৃত্যু ছিল ৫ হাজার ৯৭৫ জন। এ ছাড়া এদিন ২৪ ঘণ্টায় নতুন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল যুক্তরাষ্ট্রে ২৯ হাজার ৮৭৪ জন, স্পেনে ৭ হাজার ৯৪৭ জন, জার্মানিতে ৬ হাজার ৮১৩ জন, ইতালিতে ৪ হাজার ৬৬৮ জন, যুক্তরাষ্ট্রে ৪ হাজার ২৪৪ জন, ইরানে ২ হাজার ৮৭৫ জন, তুর্কিতে ২ হাজার ৪৫৬ জন, ফ্রান্সে ২ হাজার ১১৬ জন। সব দেশ মিলিয়ে এদিন মোট নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭৯ হাজার ৮৬৯ জন।

যুক্তরাষ্ট্রে নার্স বিক্ষোভ : করোনাভাইরাসের মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পর আমেরিকায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় দেশটির নার্সরা বিক্ষোভ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, ক্যানসাস, নেভাদা এবং টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে এ বিক্ষোভ হয়েছে। ১৯টি রেজিস্টার্ড হাসপাতালে নার্সদের সংগঠন ন্যাশনাল নার্সেস ইউনিয়ন এ বিক্ষোভের আয়োজন করে। ইউনিয়ন বলছে, হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে সেবা দেওয়ার জন্য তাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী ও সরঞ্জামের ব্যবস্থা করতে হবে।

করোনার কথা প্রকাশ করায় অপসারিত মার্কিন ক্যাপ্টেন : মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া এবং এ ব্যাপারে পদক্ষেপ না নেওয়ার কথা প্রকাশ করায় জাহাজটির কমান্ডার ক্যাপ্টেন ক্রোজিয়ারকে গত বৃহস্পতিবার অপসারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে নৌবাহিনী সচিব মোডলি সাংবাদিকদের বলেন, মিডিয়ার সামনে বিষয়টি ফাঁস করার অভিযোগে ক্যাপ্টেন ক্রোজিয়ারকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে এক চিঠিতে ক্যাপ্টেন ক্রোজিয়ার বলেছিলেন, বিমানবাহী রণতরী থেকে সেনাদের সরিয়ে না নিলে এসব সেনা মারা যাবে। আমরা যেহেতু এখন যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে নেই সেজন্য তাদের বিনা কারণে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এ অবস্থায় ৫ হাজার সেনাকেই জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেছিলেন, জাহাজটিতে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন সেনার দেহে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে এবং এই ভাইরাস দ্রুতগতিতে জাহাজে ছড়িয়ে পড়তে পারে। থিওডোর রুজভেল্ট জাহাজে পর্যাপ্ত পরিমাণে কোয়ারেন্টাইন এবং আইসোলেশনের সুবিধা নেই; বর্তমানে যে ব্যবস্থা আছে তাতে করোনাভাইরাস নির্মূল করা সম্ভব হবে না।

আবারও ট্রাম্পের করোনা পরীক্ষা : করোনায় আক্রান্ত কিনা- এ নিয়ে আতঙ্কে ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে গত বৃহস্পতিবার আবারও তাকে পরীক্ষা করা হয়েছে। পরে জানানো হয়েছে, তিনি করোনায় আক্রান্ত নন। অবশ্য এ কথা গতকাল  নিজেও বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বৃহস্পতিবার সকালে হোয়াইট হাউসেই করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করান ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে মার্চ মাসের মাঝামাঝি একবার করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করেছিলেন তিনি। সেই পরীক্ষার ফলও নেগেটিভ এসেছিল। এবারও তার করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসে।

নিউইয়র্কের ৭০ ভাগ লোকই করোনায় আক্রান্ত : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে হারে করোনাভাইরাসে মৃত্যু হচ্ছে, তাতে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই সংখ্যাটা ২ লাখের কাছাকাছি গিয়ে থামবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পরিস্থিতি নিয়ে অবগত। কিন্তু নিউইয়র্কের অবস্থা আরও ভয়ঙ্কর। ডাক্তারদের দাবি, সেখানকার ৭০ ভাগ মানুষই করোনায় আক্রান্ত। খবরে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যায় বিশ্বের অন্য দেশগুলোকে পেছনে ফেলে শীর্ষে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ পরিস্থিতির জন্য মার্কিন বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্প সরকারের প্রস্তুতির অভাবকেই দায়ী করছেন। কুইন্স এলাকার এলমহার্স্ট হাসপাতালের চিকিৎসক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকারের ভাষ্য, মার্কিন কর্তৃপক্ষ টেস্টিং কিট বাজারে আনতে দেরি করায়, এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। করোনাভাইরাস আক্রান্ত অসংখ্য লোক টেস্ট করাতে না পেরে দিনের পর দিন বাড়িতে বসে থেকেছেন। যার ফলে সংক্রমণ পুরো কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি গোটা পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায়ী করে বলেন, ‘প্রথমেই যদি লক্ষ লক্ষ ডায়াগনস্টিক কিট দিয়ে দিত, তা হলে পরিস্থিতি এমন হতো না। সরকার প্রথম দিকে ব্যাপারটা পাত্তাই দেয়নি। তারপরেও কিট আনতে তিন সপ্তাহ দেরি করে।’

মক্কা ও মদিনায় ২৪ ঘণ্টার কারফিউ : করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনায় গত বৃহস্পতিবার থেকে ২৪ ঘণ্টার কারফিউ জারি করেছে সৌদি আরব। তবে কারফিউয়ের মধ্যেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে, যেমন- ওষুধসহ চিকিৎসাসামগ্রী, খাদ্যপণ্য কেনা এবং চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনে মানুষ ঘরের বাইরে যেতে পারবে। এসব পদক্ষেপের পাশাপাশি মানুষের চলাফেরাতেও এখন কড়াকড়ি করা হচ্ছে মক্কা, মদিনা, রাজধানী রিয়াদ এবং জেদ্দাতেও। এসব শহরে মানুষের ঢোকা এবং বের হওয়ার ওপর কড়াকড়ি করা হচ্ছে। মক্কা ও মদিনার আশপাশের কয়েকটি এলাকা পুরো লকডাউনে রয়েছে।

এবার বিপদ দক্ষিণ এশিয়ার : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক বার্তায় জানিয়েছে, ইউরোপ-আমেরিকার পর নতুন মৃত্যুপুরী হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া। এক প্রতিবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনে আবির্ভাব হওয়া কভিড-১৯ (করোনা) ভাইরাস এখন হানা দিয়েছে ইউরোপের দেশে দেশে। এশিয়ার দেশগুলোতে করোনার প্রাদুর্ভাব দিন দিন আরও পোক্ত হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রতিটিই জনবহুল। আর করোনা ছড়ায় মানুষ থেকে মানুষে। জনবহুল এসব দেশে করোনাভাইরাস জ্যামিতিক হারেই ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে। তাই করোনাভাইরাসের ব্যাপকতা এড়াতে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, এরই মধ্যে ভারতে মোট আক্রান্ত হয়েছে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ। পাকিস্তানেও প্রায় একই সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত। দক্ষিণ এশিয়ার সবকটি দেশেই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।

চীনে কুকুর-বিড়াল খাওয়া নিষিদ্ধ হলো : অবশেষে কুকুর-বিড়ালের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ হলো চীনের একটি অঞ্চলে। চীনের শেনজেন শহরের প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। প্রশাসনের নির্দেশে বলা হয়েছে, ‘অনেকে কুকুর ও বিড়াল পোষেণ। অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় কুকুর ও বিড়ালের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অনেক গভীর। উন্নত দেশে, এমনকি হংকং ও তাইওয়ানেও কুকুর, বিড়ালের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ। মানব সভ্যতার উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আমরাও কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করছি।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে করোনাভাইরাস ছড়ানোর সময় দেখা গিয়েছিল, আক্রান্তদের অনেকের শরীরেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে সেখানকার এক বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে। যে বাজারে বিক্রি হতো বাদুড়, সাপসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর মাংস। নিশ্চিতভাবে প্রমাণ না মিললেও বিজ্ঞানীদের একটা অংশের ধারণা, বন্যপ্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়েছে কভিড-১৯ ভাইরাস। তিন মাস ধরে ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যুর পর, করোনার প্রকোপ স্তিমিত হলেও এখনো চীনে নিয়মিত মৃত্যু হচ্ছে। এমতাবস্থায় যাতে নতুন করে ভাইরাস মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে জন্য কুকুর-বিড়ালের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করল চীনের শেনজেন শহরের প্রশাসন। এটা চীনের ক্ষেত্রে এই প্রথম নিষেধাজ্ঞা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর