শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ এপ্রিল, ২০২০ ২৩:৩৮

প্রাণভিক্ষা চাইলেন মাজেদ মৃত্যু পরোয়ানা জারি

নিজস্ব ও আদালত প্রতিবেদক

প্রাণভিক্ষা চাইলেন মাজেদ মৃত্যু পরোয়ানা জারি

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সাড়ে চার দশক পর গ্রেফতার মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদের ফাঁসির রায় কার্যকরে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। পরে দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করেছেন খুনি মাজেদ। গতকাল তাকে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানোর পর কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এই আবেদন করা হয়েছে বলে কারাগার থেকেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল সকালে মাজেদকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার পর ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. হেলাল চৌধুরী এই পরোয়ানা জারি করেন। এর পরপরই লালসালু কাপড়ে মুড়িয়ে সেই পরোয়ানা কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছে দেয় আদালতের কর্মচারীরা। এর আগে মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর মাজেদকে সেখানেই রাখা হয়েছে। গতকাল রাতে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, উনি (মাজেদ) সব দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন। আমরা তার আবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। সন্ধ্যার আগে কারাগারে মৃত্যু পরোয়ানা পৌঁছালে তাকে পড়ে শোনানো হয়। পরে তিনি প্রাণভিক্ষা চান। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে দেশের সব অফিস-দফতরের মতো আদালতেও নিয়মিত স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কেবল জরুরি এবং আইনি বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রেই আদালত বসছে। তারপরও বুধবার মৃত্যু পরোয়ানা জারির জন্য সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালত খোলা হয়। সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাই কোর্ট বিভাগের স্পেশাল কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃত মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি আবদুল মাজেদের মামলার বিষয়ে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ কর্তৃক বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত আবেদন জানালে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে শুধুমাত্র ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ৮ এপ্রিলের ছুটি বাতিল করে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী ওই মৃত্যু পরোয়ানা আসামিকে পড়ে শোনাবেন। তখন সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে আসামি বা তার পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রপতির কাছে তার প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন। কারা বিধিতে প্রাণভিক্ষার আবেদন করার জন্য ৭ থেকে ২১ দিন সময় বেঁধে দেওয়া রয়েছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। কিন্তু এই হত্যাকান্ডের বিচারে পদে পদে বাধা আসে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরপরই দায়মুক্তি (ইনডেমনিটি) অধ্যাদেশ জারি করা হয়। ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর দায়মুক্তি আইন বাতিল করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ওই বছরের ২ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী মহিতুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর তৎকালীন ঢাকার দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল ১৫ জনকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়ে রায় দেন। নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও মৃত্যুদন্ড নিশ্চিতকরণের শুনানি শেষে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাই কোর্ট দ্বিধাবিভক্ত রায় দেয়। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল হাই কোর্টের তৃতীয় বেঞ্চ ১২ আসামির মৃত্যুদন্ড বহাল রেখে তিনজনকে খালাস দেয়। এরপর ১২ আসামির মধ্যে প্রথমে চারজন ও পরে এক আসামি আপিল করেন। কিন্তু এরপর ছয় বছর আপিল শুনানি না হওয়ায় আটকে যায় বিচারপ্রক্রিয়া। দীর্ঘ ছয় বছর পর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে আপিল বিভাগে একজন বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাটি আবার গতি পায়। ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির লিভ টু আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। আপিলের অনুমতির প্রায় দুই বছর পর ২০০৯ সালের অক্টোবরে শুনানি শুরু হয়। ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পাঁচ আসামির আপিল খারিজ করে। ফলে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে হাই কোর্টের দেওয়া ১২ খুনির মৃত্যুদন্ডাদেশ বহাল থাকে। এর মধ্য দিয়ে ১৩ বছর ধরে চলা এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হয়। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও মুহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। ওই রায় কার্যকরের আগেই ২০০২ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান আসামি আজিজ পাশা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর