শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ জুন, ২০২০ ০০:০৮

পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগে শর্ত শিথিল

জেনেশুনে কঠিনকে ভালোবেসেছি : অর্থমন্ত্রী । অর্থবিল পাস, আজ হবে বাজেট

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিয়মিত ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করে তা তিন বছর রাখার প্রস্তাব কমিয়ে এক বছর করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আপিলে হেরে ট্রাইব্যুনালে গেলে কর দিতে হবে না। ফলে তার ক্ষেত্রে আগের মতোই ২০ শতাংশ কর অব্যাহত রাখা হয়েছে। সিএনজি রেজিস্ট্রেশনে সম্পূরক শুল্ক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। লোকাল অথরিটির উৎসে ভ্যাটের রিটার্ন বাধ্যতামূলক করাসহ কয়েকটি সংশোধনীসহ অর্থবিল-২০২০ জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে।

তবে এবারের বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু মোবাইলে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়নি। বরং সে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাবই পাস করা হয়েছে। গতকাল জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অর্থবিল-২০২০ কণ্ঠভোটে পাস করা হয়। এ সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে অর্থমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান। তবে করোনা সতর্কতার কারণে সংসদে উপস্থিতি ছিল সীমিত। আজ ৩০ জুন সংসদে মূল বাজেট পাস হওয়ার কথা রয়েছে। যা আগামীকাল ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হবে। কয়েকজন সংসদ সদস্যের সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণের মধ্য দিয়ে সংসদে যে অর্থবিল পাস হয়েছে, তাতে বড় ধরনের  কোনো পরিবর্তনের প্রস্তাব ছিল না। মোবাইল সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ  থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব প্রত্যাহারের যে দাবি ছিল, তাতেও কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে অপ্রদর্শিত আয়ের টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শর্ত কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। এর আগের বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব এলে তা কণ্ঠভোটে নাকচ করা হয়। অর্থবিলে সরকারি, বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এবং বিএনপির কয়েকজন সদস্য সংশোধনী প্রস্তাব আনেন। এসব প্রস্তাবের মধ্যে কিছু গ্রহণ করেন অর্থমন্ত্রী। জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান, কাজী ফিরোজ রশীদ, মুজিবুল হক চুন্নু, আওয়ামী লীগের আবুল হাসান মাহমুদ আলী, আলী আশরাফ এবং বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গার কয়েকটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। পরে সেগুলো কণ্ঠভোটেও পাস হয়। অর্থবিল পাসের আগে বাজেটের ওপর নিজের সমাপনী বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। তার আগে বাজেট আলোচনায় অংশ নেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথা অনুযায়ী, অর্থবিলে কোনো পরিবর্তন আনতে হলে অর্থমন্ত্রীর সমাপনী বক্তব্য এবং অর্থবিল পাসের আগে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রীকে সে বিষয়ে অনুরোধ করেন। এরপর অর্থমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ আমলে নিয়ে  সেসব বিষয়ে পরিবর্তন এনে অর্থবিল পাসের প্রস্তাব করেন। কিন্তু এবার প্রধানমন্ত্রী কোনো পরিবর্তন আনতে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেননি। বাজেটের ওপর বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন কিছু নয়। অতীতের সব বাজেটই বাস্তবায়ন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। এবারের বাজেটও সরকার বাস্তবায়নে সক্ষম হবে। প্রায় একই রকম রক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রীও।

আজ বাজেট পাস : পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস করা হবে আজ। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত ১১ জুন ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট গত ১১ জুন সংসদে উপস্থাপন করেন, যা দেশের মোট জিডিপির ১৭.৯ শতাংশের সমান। করোনাভাইরাস সংকটে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবারের বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় খুব বেশি না বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৪৩ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত উন্নয়ন বাজেটের প্রায় ৬.২৭ শতাংশ বেশি।

বাজেট বাস্তবায়নে সক্ষম হব : অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে বলেছেন, এ বাজেট বড় হলেও আমরা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব। আর্থিক খাতের বিষফোঁড়া তুলে ফেলা হবে। এ খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। কভিড-১৯ এর কারণে যারা কাজ হারিয়েছেন- প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ কৃষক, শ্রমিক, মজুর, কামার, কুমার, জেলে, তাঁতি, বেদে, স্বাস্থ্যকর্মী, ভ্যানচালক, রিকশাওয়ালাসহ সব  পেশার মানুষ, পান দোকান, চা দোকান, মুদি দোকান থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র, কুটির ও ছোট-বড় সব ব্যবসায়ী, সব শ্রেণি ও নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ, যারা কষ্টে আছেন তাদের সবার জন্য এ বাজেট। দেশের কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে এ বাজেট হতে বাদ দিতে পারিনি। কাউকে বাদ দিতে পারলে বাজেটের আকার অবশ্যই ছোট রাখা যেত, ছোট রাখা যেত বাজেট ঘাটতিও। কিন্তু মাননীয় স্পিকার, সত্য যে বড় কঠিন, তাই সব জেনেশুনে আমরা এই কঠিনেরেই ভালোবেসেছি। তিনি বলেন, কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রস্তাবিত বাজেটটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। কারণ এটি আকারে অনেক বড়। কিন্তু আমরা বাজেট বাস্তবায়নের ব্যাপারে আশাবাদী। বাজেট উপস্থাপনের সাত দিন পরই এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে গবেষণা করে। সেখানে তারা দেখিয়েছেন, এ বছর বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। আমাদের প্রক্ষেপণ হলো ৮ দশমিক ২ শতাংশ। আমাদের কাছাকাছি তাদের প্রক্ষেপণ। এতেই প্রতীয়মান হয় আমরা বাজেটটি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ। এই বাজেটটি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবে আমাদের দেশের সব মানুষ, যারা আমাদের প্রাণশক্তি। সত্য যে বড় কঠিন। তাই সব জেনেশুনে আমরা কঠিনেরে ভালোবেসেছি। মন্ত্রী বলেন, বারবার একটিমাত্র কথা উঠে আসে যে, আমাদের রেভিনিউ টু জিডিপির অনুপাত একদম কম, অনেক কম ১০ ভাগেরও নিচে। আমাদের মতো দেশ কারোরই ১৮ পার্সেন্টের নিচে নয়। আমরা হিসাব করে দেখেছি, এই ১০ ভাগ থেকে যদি ১৪ ভাগে উঠতে পারি, মাত্র চারভাগ, তাহলে আমাদের বছরে আমরা অর্জন করতে পারি আরও এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। আরও বেশি করতে পারলে তো আরও বেশি সম্ভাবনা আছে। এজন্য কী কাজ দরকার? একটিমাত্র কাজ- সেটি হচ্ছে আমাদের অটোমেশন। আমরা গত বছর (অটোমেশন) শুরু করেছিলাম, কিন্তু শেষ করতে পারিনি। এই করোনার জন্য শেষ হয়নি। আমরা বিশ্বাস করি, যতদ্রুত সম্ভব এ বছর এটা আমরা বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ। এটা করে আমরা প্রমাণ করব, এত বড় বাজেটও বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তিনি বলেন, কভিড-১৯ মোকাবিলায় অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকার একটি থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেট প্রণয়নের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী আমাদের শিকড়ের সন্ধানে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আমাদের শিকড় হলো আমাদের কৃষি। আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি। এ জন্য কৃষি খাতকেও বাজেটে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেখান থেকে এখনো আমাদের শতকরা ৪০ ভাগের মতো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই কৃষি খাতই হতে পারে আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার মৌলিক এলাকা। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে আমরা এ অঞ্চলের অনেকের খাদ্য জোগান দিতে পারব। আমাদের কঠোর পরিশ্রমের আত্মপ্রত্যয়ী কৃষক ভাইদের কারণে অতিসম্প্রতি আমরা ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে চাল উৎপাদনে আমাদের অবস্থান করে নিয়েছি। গত ৫০ বছরে আমাদের খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে প্রায় সাড়ে চারগুণ। যা বিশ্বে একটি রেকর্ড।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর