শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ জুন, ২০২০ ০০:১৪

তিন বাণিজ্য সংগঠনের বিবৃতি

জটিলতা বাড়াবে ভ্যাট আইন

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসার জটিলতা ও খরচ বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনীতির গতিসঞ্চালন বাধাগ্রস্ত করবে বলে মনে করছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তিন বাণিজ্য সংগঠন এমসিসিআই, ডিসিসিআই ও বিআইএলডি। গতকাল যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো বলেছে, অর্থ বিল পর্যালোচনায় দেখা যায়, আয়কর অধ্যাদেশ ও ভ্যাট আইনে কিছু নতুন ধারা সংযোজিত হয়েছে; শুধু এ করোনা মহামারীপ্রসূত দুঃসহ সময়েই নয়, সাধারণ ভাবেই ব্যবসা পরিচালনায় জটিলতা বাড়াবে ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হবে। একই সঙ্গে রাজস্ব বাড়াতে সাহায্য করবে না। ফলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায়ও জটিলতার সৃষ্টি করবে। যা নতুন ধারাগুলো ব্যবসা বা রাজস্ববান্ধব কোনোটাই নয়। এ অবস্থায় বিজ্ঞাপন ব্যয়ের ওপর বাধানিষেধসহ ভ্যাট আইন ও আয়কর অধ্যাদেশের নতুন ধারা বাতিলের দাবি করেছে সংগঠন তিনটি। গণমাধ্যমে পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে এসব দাবি করেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এমসিসিআিই সভাপতি নিহাদ কবির, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ ও বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট- বিআইএলডি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম খান। ওই বিবৃতিতে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-তে নতুন সংযুক্ত ধারা প্রসঙ্গে প্রশ্ন উত্থাপন করে সংগঠনগুলো বলেছে, টার্নওভারের দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অনুমোদনযোগ্য বিজ্ঞাপন ব্যয়ের ওপর বাধানিষেধ বা সীমা আরোপ কেন করা হবে? এটি ব্যবসার একটি যৌক্তিক ও আইনসংগত ব্যয়। এর ওপর বাধানিষেধ বা অনেক খাত যেমন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য (এফএমসিজি), টেলিকম, ওষুধ ইত্যাদি ক্ষেত্রে এটি ব্যবসার অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের কারণে ব্যবসায়িক খরচের বড় একটি অংশ অযৌক্তিকভাবে অননুমোদিত ব্যয় হিসেবে গণ্য হবে এবং করের বোঝা বাড়াবে। এতে করের চাপ বৃদ্ধির কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিরও আশঙ্কা রয়েছে। এ বিধান বাতিলের দাবি করেছে এমসিসিআিই, ডিসিসিআই ও বিআইএলডি। সংগঠনগুলো বলছে, দেশের রপ্তানি খাতে এখনই প্রচ- নেতিবাচক প্রভাব অনুভূত হচ্ছে। ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটির পর দেশের স্থানীয় ব্যবসাগুলোর ৩০ থেকে ৯০ শতাংশ বিক্রি কমে গেছে। তারা শুধু কোনোরকমে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে যদি কেউ অন্যায় সুবিধা নিতে চায়, তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সৎ ব্যবসায়ীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত করলে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব দেশের উন্নয়নের ওপর পড়বে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, গৃহনির্মাণ, গণপরিবহন থেকে টেলিযোগাযোগ সব খাতেই চাহিদায় ধস নেমেছে। এ অবস্থায় যা প্রয়োজন, তা হলো স্থানীয় চাহিদা বৃদ্ধি করে দেশীয় অর্থনীতি পুনরায় চালু করা। বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতির সব খাতে অর্থ সঞ্চালন করা ও নীতিসহায়তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া। যতগুলো খাতে সম্ভব চাহিদা ও সরবরাহে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হবে। এটা অনুধাবন করেই প্রধানমন্ত্রী বিচক্ষণতার সঙ্গে অতিদ্রুত প্রণোদনা ঘোষণা করে ইতিবাচক সহায়ক আবহাওয়া সৃষ্টি করেন। এমসিসিআিই, ডিসিসিআই ও বিআইএলডি মূল্য সংযোজন কর-মূসক বা ভ্যাট আইন, ২০১২ নতুন ধারা সংযোজন প্রসঙ্গে বলেছে, ব্যবহারের ভিত্তিতে ইনপুট রেয়াতসহ অনেক ক্ষেত্রেই বিভিন্ন ধরনের শতাধিক কাঁচামাল ব্যবহারের পূর্বাপর বিবরণ সংরক্ষণ করা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য জটিলতা সৃষ্টি করবে। ব্যবসায়ীরা একই পরিমাণ রেয়াত দাবি করায় এনবিআরের রাজস্ব আহরণে কোনো সুবিধা নেই। কেবল এক মাসের পরিবর্তে এনবিআর চার মাস সময় পাবে এ অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। অধিকতর তিন মাস সময় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এ অর্থ ব্যবহার করার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। যাতে তার উৎপাদন ব্যয় অনাকাক্সিক্ষতভাবে বৃদ্ধি পাবে। প্রতারণা বা রাজস্ব ফাঁকি খুঁজে বের করা আগের চেয়ে বেশি কঠিন হবে, যদি কোনো অসাধু ব্যবসায়ী একই রেয়াত সেই চার মাসে একাধিকবার দাবি করে। এসব কারণেই এ বিধান আইনে সংযোজন না করার দাবি করা হয়েছে। ওই যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আপিলের জন্য পরিশোধযোগ্য বিতর্কিত ভ্যাট দ্বিগুণ হারে ১০ থেকে ২০ শতাংশ করায় করদাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর আপিলের পূর্বশর্ত পালন করার বোঝা অত্যধিক হারে বাড়বে। যখন ভ্যাট আরোপ অযৌক্তিক ও মাত্রাতিরিক্ত হবে, তখন তা বহন করে যৌক্তিক ক্ষেত্রেও আপিল করা দুঃসাধ্য হবে, যা ন্যায়সংগত নয়। অনেক ক্ষেত্রে, আইনানুগ যুক্তিসংগত ভ্যাট আরোপ না করে মাত্রাতিরিক্ত আরোপের পর এ ১০ শতাংশ বা ২০ শতাংশ জমার মাধ্যমে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের প্রবণতা দেখা যায়। আইনের এ পরিবর্তন বাতিলের দাবি করা হয়েছে। এমসিসিআিই, ডিসিসিআই ও বিআইএলডি বলেছে, অর্থনীতির ওপর করোনা মহামারীর প্রভাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট আইন, ২০১২ ও আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এ সংযোজন করা ধারাগুলো আইনে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হোক। পাশাপাশি ইনপুট ভ্যাট রেয়াতে বৈধ ব্যবসার খরচের ওপর বাধানিষেধ ও বিস্তৃতভাবে উইথ হোল্ডিং ভ্যাট পুনরায় চালু করা হোক।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর