শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ জুলাই, ২০২০ ০০:১৬

একনেকে ৯ প্রকল্প অনুমোদন

রিজার্ভ থেকে উন্নয়ন প্রকল্পে ঋণ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড পরিমাণ থাকায় মহামারীকালে সেখান থেকে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ঋণ দেওয়া যায় কিনা, তা খতিয়ে দেখতে একনেক সভায় বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সরকারের ৯টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

গতকাল শেরেবাংলা নগর পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত হন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা বিদেশিদের কাছ থেকে ডলারে ঋণ নিই। আমাদের রিজার্ভ এখন ৩৬ বিলিয়ন ডলার। এখান থেকে আমরা ঋণ নিতে পারি কিনা? বাংলাদেশ ব্যাংক জনগণের পক্ষে এই টাকা সংরক্ষণ করে। ওখান থেকে আমরা প্রকল্পের জন্য ঋণ নিতে পারি। বিদেশ থেকে আমরা যে সুদে ঋণ আনি তা একটু কম হলেও দেশের টাকা ব্যবহার করলে লাভটা দেশেই থাকবে। তিনি  বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে। কীভাবে এটা করা যায়, তা খুঁটিনাটি দেখবে। অর্থনীতিতে এর প্রভাব কী হতে পারে, তা খতিয়ে দেখতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাবের প্রশংসা করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও যুগান্তকারী মন্তব্য করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সাধারণত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটাতে বিদেশি টাকা হাতে রাখা যে কোনো অর্থনীতিতে সেইফ এবং স্বস্তিদায়ক মনে করা হয়। এখন প্রায় এক বছরের আমদানি ব্যয় আমরা মেকআপ করতে পারব। সুতরাং তিনি (প্রধানমন্ত্রী) মনে করেন যে, আমদানি ব্যয়ের একটা ?যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ হাতে রেখে রিজার্ভের বাকিটাকে আমাদের অভ্যন্তরীণ ঋণ নিজেদের অর্থ নিজেরা ঋণ নিতে পারি। তিনি এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, আমরা যেসব দাতা সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিই, অনেক সময় তাদের নানা রকম শর্তের কারণেও প্রকল্পের কাজ সমস্যায় পড়ে। দেশি অর্থায়ন হলে সেই সমস্যাও থাকবে না। ৯ প্রকল্প অনুমোদন : একনেক সভায় সরকারের ৯টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয় হবে ২ হাজার ৭৪৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, একনেকে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো হলো বিদ্যুৎ বিভাগের ইনস্টিটিউট অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুড়িং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপ লাইন (২য় সংশোধনী) প্রকল্প, ঘোড়াশাল ৩য় ইউনিট রি-পাওয়ারিং (১ম সংশোধিত) প্রকল্প, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নওগাঁ জেলার ধামইরহাট-পত্নীতলা ও মহাদেবপুর উপজেলাধীন তিনটি প্রকল্পের পুনর্বাসন এবং আত্রাই নদীর ড্রেজিংসহ তীর সংরক্ষণ প্রকল্প, দিনাজপুর শহর রক্ষা প্রকল্পের পুনর্বাসন এবং দিনাজপুর শহর সংলগ্ন ঢেপা ও গর্ভেশ্বরী নদী সিস্টেম ড্রেজিং/খনন প্রকল্প, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পাঁচপীর বাজার-চিলমারী উপজেলার সদর দফতরের সঙ্গে সংযোগকারী সড়কে তিস্তা নদীর ওপর ১৪৯০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ (২য় সংশোধনী) প্রকল্প, রূপগঞ্জ জলসিঁড়ি আবাসন সংযোগকারী সড়ক উন্নয়ন (১ম সংশোধনী) প্রকল্প, জামালপুর ও শেরপুর জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলাধীন ডাকাতিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ইস্টাব্লিসমেন্ট অব গ্লোবাল মেরিটাইম ডিসটেন্স অ্যান্ড সেইফটি অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড মেরিটাইম নেভিগেশন সিস্টেম প্রকল্প। একনেক সভায় কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাবুদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান গণভবন থেকে একনেক সভায় উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর