শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ জুলাই, ২০২০ ০০:১৩

বসুন্ধরা গ্রুপের সিনিয়র ডিএমডি বেলায়েত হোসেন আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

বসুন্ধরা গ্রুপের সিনিয়র ডিএমডি বেলায়েত হোসেন আর নেই

বসুন্ধরা গ্রুপের ঊর্ধ্বতন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (সিনিয়র ডিএমডি) বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধকালীন বরুড়া থানা কমান্ডার মো. বেলায়েত হোসেন ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর এভারকেয়ার (সাবেক এ্যাপোলো) হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন মেয়ে এবং অসংখ্য বন্ধু ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বসুন্ধরা গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁকে এক নজর দেখার জন্য সহকর্মীরা হাসপাতাল ও বাসভবনে ছুটে যান। তাঁর পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান তারা। এদিকে বেলায়েত হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। গতকাল এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘বেলায়েত হোসেনের মৃত্যুতে আমাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো, যা সহজে পূরণ হবে না। বসুন্ধরা গ্রুপে তাঁর অবদান কোনো দিন ভোলার নয়। এমন একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু-সহকর্মীকে হারিয়ে আমি গভীর বেদনা ও শোক অনুভব করছি। আমি তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আল্লাহতায়ালা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন, আমিন।’

বেলায়েত হোসেনের মৃত্যুতে পৃথক শোকবার্তায় গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আতাউর রহমান প্রধান এবং অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ও সিইও শামস-উল আলম। শোকবার্তায় সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘বেলায়েত হোসেন খুব ভালো মানুষ ছিলেন।’ তাঁর আত্মার শান্তি কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি। অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ও সিইও শামস-উল আলম শোকবার্তায় বলেন, ‘বেলায়েত হোসেন নিঃসন্দেহে একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে বসুন্ধরা পরিবার অন্যতম একনিষ্ঠ এক কর্মীকে হারাল। আর আমরা হারালাম আমাদের একজন আন্তরিক শুভাকাক্সক্ষীকে।’ অগ্রণী ব্যাংক এমডি প্রয়াত বেলায়েত হোসেনের জন্য মহান আল্লাহর কাছে জান্নাতুল ফেরদাউস কামনা করেন। তিনি বেলায়েত হোসেন ও বসুন্ধরা পরিবার, বিশেষ করে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গতকাল বাদ জোহর বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার মসজিদে মুক্তিযোদ্ধা মো. বেলায়েত হোসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাঁর লাশ গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় নিয়ে যাওয়া হয়। কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, বরুড়া উপজেলার চেঙ্গাহাটা গ্রামে নিজ বাড়িতে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা মো. বেলায়েত হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর সেখানে আরেক দফা জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়। বেলায়েত হোসেনের গ্রামের প্রতিবেশী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মিজানুর রহমান জানান, আবুল বাশার ওরফে কোরবান আলী মাস্টারের চার ছেলে, এক মেয়ের মধ্যে বেলায়েত হোসেন সবার বড়। গ্রামে তিনি একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ ছাড়া এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সামাজিক কাজে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। তাঁর মৃত্যুতে এলাকাবাসী গভীর শোকাহত। বেলায়েত হোসেন ১৯৫০ সালের জানুয়ারিতে কুমিল্লা জেলার বরুড়ায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৯ সালে জন্মলগ্নে বসুন্ধরা গ্রুপে তিনি যোগদান করেন এবং আমৃত্যু কৃতিত্বের সঙ্গে এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। এর আগে তিনি জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সদালাপী, বিনয়ী, পরোপকারী ও বন্ধুবৎসল মানুষ। বসুন্ধরা গ্রুপের সার্বিক উন্নয়নে তিনি ৩০ বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।


আপনার মন্তব্য