শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:৩৮

বন্ডের পণ্য কালোবাজারে বিক্রি, সাড়ে চার কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি

রুহুল আমিন রাসেল

বন্ডেড ওয়্যার হাউস সুবিধায় আমদানি করা পণ্য কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় সাড়ে চার কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটিত হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর ঢাকার উত্তরার মেসার্স সেলিনা এক্সেসরিজ লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা উদঘাটন করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রির অপরাধে মামলা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর। সম্প্রতি ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটে দেওয়া প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি উত্তরার মেসার্স সেলিনা এক্সেসরিজ লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানের বন্ড রেজিস্টার ও সরেজমিনে পাওয়া মজুদ তথ্যে গরমিল পাওয়া গেছে। এ সময়ে বন্ড রেজিস্টারে ১৯১ টন কাঁচামাল বেশি এবং  মজুদ হিসেবে ৫৮৪ টন কাঁচামাল কম পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে মেসার্স সেলিনা এক্সেসরিজ লিমিটেড বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামালের অবৈধ মজুদ ও বিক্রি করায় ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮৮ হাজার ৬৫২ টাকা রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটিত হয়। বিষয়টি বন্ডেড ওয়্যার হাউস লাইসেন্সি বিধিমালার পরিপন্থী। কাঁচামাল অবৈধ মজুদ ও বিক্রি করে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মেসার্স সেলিনা এক্সেসরিজ লিমিটেড রপ্তানিযোগ্য বিভিন্ন প্রকার পণ্য উৎপাদনের উদ্দেশ্যে ডুপ্লেক্স বোর্ড, পেপার বোর্ড, টিস্যু পেপার, সিলিকন ওয়েল, পেপার, পিপি ফ্লিম গ্রেড, গামটেপ জাম্বু রোল, ইন্টারলাইনিং, পিই, এলডিপিই ফ্লিম গ্রেড, থিনার, রিডিওসার, সেলফ অ্যাডহেসিভ টেপ, প্রিন্টিং ইনক, পলিস্টার টেক্সচার্ড ইয়ার্ন, কটন ইয়ার্ন, ফিলামেন্ট ইয়ার্ন, মেটালাইজড ইয়ার্ন, রাবার থ্রেড, শতভাগ স্পান পলিস্টার থ্রেড, ইয়ার্ন ডিফারেন্টস কাউন্ট, সাটিন রিবন, হুক অ্যান্ড লুপ, ভেলক্রুটেপ ইত্যাদি কাঁচামাল বন্ড সুবিধার আওতায় বিনা শুল্কে আমদানি করেছে। তবে এসব কাঁচামাল উৎপাদন কাজে না লাগিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জাকারিয়া হাবিবের উপস্থিতিতে অভিযানকালে কাঁচামাল অবৈধ মজুদ করে পরবর্তীতে অসৎ উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রির বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। ফলে রাজস্ব আয় থেকে সরকার বঞ্চিত হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মেসার্স সেলিনা এক্সেসরিজ লিমিটেড মহামারী করোনার অজুহাতে পরিদর্শনের আগের ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৭২ মার্কিন ডলার মূল্যের ঋণপত্র বা এলসির ইউপি নিতে পারেনি বলে জানিয়েছে। কিন্তু ইউপি ব্যতিরেকে গুদাম থেকে কাঁচামাল অপসারণ এবং মজুদের কোনো সুযোগ নেই। বরং ইউপির তথ্য দিয়ে রাজস্ব ফাঁকির তথ্য আড়াল করার অপচেষ্টা করেছে। যা আইনগত কোনো সুযোগ নেই। এ অবস্থায় ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব আদায় ও মেসার্স সেলিনা এক্সেসরিজ লিমিটেডের লাইসেন্সের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটে প্রতিবেদন দাখিল করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর