শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:০৮

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে : ভিপি নূর

নাসিমুল হুদা

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে : ভিপি নূর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ- ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর বলেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমরা এ পর্যন্ত যে কবার হামলা ও মামলার শিকার হয়েছি এর সবই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল হক নূর বলেন, সরকার দীর্ঘদিন আমাদের ওপর আক্রমণাত্মক ছিল না। হঠাৎই দুজনকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত করে একজন ছাত্রী ধর্ষণের মামলা করল এবং আমাদের কথা উল্লেখ করল সহযোগী হিসেবে যে আমার কাছে বিচার দিয়েছে, বিচার পায়নি বরং আমি তাকে হুমকি দিয়েছি। প্রথমত আমরা চ্যালেঞ্জ দিয়েছি- এ মেয়ের কাছে যদি প্রমাণ থাকে, তাকে মিটমাট করার জন্য তার সঙ্গে বসেছি, তাকে হুমকি দিয়েছি, আমি অভিযোগ মাথা পেতে নেব। এ মামলাটা সে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের প্রশ্রয়ে এবং গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতায় করেছে।

অভিযোগের ব্যাপারে নূরের সংগঠন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনের সংশ্লিষ্টতা কতটুকু জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই ছাত্রীকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। আমি, সাইফুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি নাজমুল হুদা ও আবদুল্লাহিল বাকীর এ বিষয়ে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এদের একেবারে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জড়ানো হয়েছে। সোহাগ বা হাসান আল মামুনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হতে পারে। কিন্তু অন্যদের একেবারে ভিত্তিহীন অভিযোগে জড়িয়েছে। এখন হাসান আল মামুনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের কথা বলেছে। প্রেমের সম্পর্ক, পারিবারিক সম্পর্ক সেগুলো তো একেবারেই ব্যক্তিগত বিষয়। তবে হাসান আল মামুন ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর মতো তার সঙ্গে একটি ছাত্র সংগঠনের নেতা হিসেবে পরিচিতি ছিল। এর বাইরে অন্য কোনো সম্পর্ক ছিল না। মামুনের ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ ওঠায় তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার ডিবি অফিসে কী হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আসা ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদে আমরা প্রেস ক্লাব থেকে ইউনিভার্সিটির দিকে গিয়েছিলাম। পরে রাজু ভাস্কর্যে সমাবেশ করে শাহবাগ পর্যন্ত মিছিল নিয়ে আসছিলাম। পুলিশ বাধা দেওয়ায় শাহবাগে মিছিল শেষ করে একত্রে হেঁটে পল্টনের দিকে যাচ্ছিলাম। আমাদের পেছনে অনেক পুলিশ ছিল, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা, রড, ছুরি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। মৎস্য ভবনের সামনে গেলে আরেক দল পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। আমরা বুঝে উঠতে পারিনি কেন আমাদের ওপর আক্রমণ হলো। পরে আমাদের ডিবি অফিসে নেওয়া হয়। আমি অজ্ঞান ছিলাম। পরে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখান থেকে আবার ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমাদের বলেছে, আমরা যে সরকারবিরোধী আন্দোলন করি, সেগুলো করলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। এগুলো বাদ দিতে হবে। অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করিয়ে আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আমাকে তখন বলা হয়, আপনি অসুস্থ, কার জিম্মায় যাবেন? আপনার ভাইয়ের জিম্মায়, সেজন্য আপনাকে স্বাক্ষর করতে হবে। সেখানে কী লেখা ছিল, আমি অত কিছু দেখিনি। সংগঠনের কিছু নেতা-কর্মীও আটক ছিলেন। ভাবলাম, তাদের আবার ছাড়ে কিনা। প্রথমে রাজি না হলেও পরে স্বাক্ষর করি। নিজের রাজনৈতিক দলের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা আসলে নামসর্বস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করতে চাই না। নিজেদের ভিত্তি শক্ত করেই রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চাই। ছাত্রদের নিয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদ, যুবকদের নিয়ে যুব অধিকার পরিষদ, শ্রমিকদের নিয়ে শ্রমিক অধিকার পরিষদ, দেশের বাইরে যে দেড় কোটি প্রবাসী আছে, তাদের নিয়ে প্রবাসী অধিকার পরিষদ, চারটি উইং কিন্তু গঠন হয়ে গেছে। আরেকটি গঠনের শেষ পর্যায়ে, পেশাজীবী অধিকার পরিষদ। আমরা চিন্তা করেছিলাম, এ বছরের শেষের দিকে নাগরিকদের যুক্ত করার জন্য নাগরিক সংগঠনের ঘোষণা দেব। সে ক্ষেত্রেও আমরা ৭০ ভাগ কাজ গুছিয়ে এনেছি। তিনি বলেন, দেশে বিদ্যমান ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি আসলে মানুষের স্বার্থবিরোধী। তারা বিদেশি শক্তির ক্ষমতা বাস্তবায়নের জন্য এ দেশে ক্ষমতায় থাকতে চায়। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বেইমানি করে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তরুণদের নেতৃত্বে রাজনৈতিক দল গঠনের। আগে জাতীয় রাজনীতিতে সৎ, মেধাবী ছাত্রদের অংশগ্রহণের একটা সুযোগ ছিল। কিন্তু লেজুড়বৃত্তির প্রশাসনের কারণে তা নষ্ট হয়ে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুললে আমাদের সংগঠন ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে যাবে।


আপনার মন্তব্য