শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ জুন, ২০২১ ২৩:১৩

বিধিনিষেধ আরও এক মাস

কিছু শর্তে খোলা থাকবে সব অফিস

নিজস্ব প্রতিবেদক

Google News

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতির মধ্যে সারা দেশে চলমান বিধিনিষেধের (লকডাউন) মেয়াদ এক ধাক্কায় এক মাস বাড়িয়েছে সরকার। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে সব অফিস ও কর্মক্ষেত্র খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি সব অফিস, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। এত দিন শুধু জরুরি সেবাসংশ্লিষ্ট অফিসগুলো খোলা রাখতে বলা হয়েছিল। তবে প্রায় সব অফিসই চলছিল।

আগের বিধিনিষেধের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মো. রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এর সময়সীমা এক মাস বাড়ানো হয়। এর আগে বিধিনিষেধের সময়সীমা এক সপ্তাহ করে বাড়ানো হচ্ছিল। করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরনের স্থানীয় সংক্রমণে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আবার বেড়ে যাওয়ার মধ্যে এবার এক মাস বাড়ানো হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় পূর্বের সব বিধিনিষেধ ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় শর্ত যোগ করে মেয়াদ ১৬ জুন মধ্যরাত থেকে ১৫ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে বলে নতুন শর্তে উল্লেখ রয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, উচ্চ ঝুঁকির জেলাগুলোর স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি বুঝে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কারিগরি কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে লকডাউনসহ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় সংক্রমণের ঢেউয়ের প্রেক্ষাপটে গত ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে জরুরি কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা ‘সর্বাত্মক’ লকডাউন নামে পরিচিতি পায়। সেই বিধিনিষেধে জরুরি সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব অফিস বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। এখন অফিসের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হলেও অন্য সব শর্ত প্রায় আগের মতোই রয়েছে। তবে আগের মতোই সব বিনোদন কেন্দ্র, পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার বন্ধ থাকবে। জনসমাগম ঘটে, এমন সব রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিয়েশাদি, পার্টি, জন্মদিনসহ নানা অনুষ্ঠান থাকবে বন্ধ। হোটেল-রেস্তোরাঁ সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। তবে আসন সংখ্যার অর্ধেক ভোক্তাকে খাবার পরিবেশন করা যাবে। অনলাইনে আগের মতোই বিক্রি করা যাবে খাবার। গণপরিবহনও অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলবে। সর্বাত্মক লকডাউন শুরুর পর আন্তজেলা বাসের পাশাপাশি ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ২৩ মের পর অর্ধেক যাত্রী নিয়ে দূরপাল্লার বাস, ট্রেন বা লঞ্চ চলাচল শুরু হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মহামারীর শুরুতে গত বছর থেকেই বন্ধ রয়েছে। তা জুন মাসে আর?খুলছে না বলে আগেই জানিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সীমান্ত জেলাগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এরই মধ্যে কয়েকটি জেলায় ‘লকডাউন’ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে সরকার এ বছর প্রথমে ৫ এপ্রিল থেকে সাত দিনের জন্য গণপরিবহন চলাচলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। পরে তা আরও দুই দিন বাড়ানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত আরও কঠোর বিধিনিষেধ দিয়ে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ শুরু হয়। পরে তা আরও ৭ দফা বাড়ানো হয়েছিল। এবার একসঙ্গে এক মাস বাড়ানো হলো বিধিনিষেধ।

আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিক চান আইনজীবীরা : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত চলমান বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আদালতের কার্যক্রম এখনই স্বাভাবিক হচ্ছে কি না, তা জানাতে পারেননি সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান। তিনি বলেন, এখনো আমরা এমন কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি। পেলে আপনাদের জানাব। অন্যদিকে অন্য অফিসের সঙ্গে আদালতের কার্যক্রমও স্বাভাবিক চান আইনজীবীরা।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ও সাধারণ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ড. মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী বলেন, বর্তমানে ভার্চুয়ালি হাই কোর্টে ৩০টি বেঞ্চের কার্যক্রম চলছে। নিম্ন আদালতে জামিন ও আত্মসমর্পণ ছাড়া সবই বন্ধ। সরকার সরকারি, আধা সরকারি অফিস খোলার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তাই এখন আদালতের কার্যক্রমও স্বাভাবিক করে দিতে হবে। নয় তো বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

জানতে চাইলে আইনজীবী ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বিচার প্রার্থী-আইনজীবী সবাই ভোগান্তিতে রয়েছেন। সরকারি অন্য অফিসগুলোও স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলছে। এখন আদালত বন্ধ রাখার কোনো মানে হয় না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এখনই আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিক করে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

ব্যাংকে লেনদেন এখন সাড়ে ৩টা পর্যন্ত : মহামারীর বিস্তার ঠেকাতে বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও এক দফা বৃদ্ধি করার মধ্যেই ব্যাংকে লেনদেনের সময় আরও ৩০ মিনিট বাড়ানো হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে গত এপ্রিল থেকে যে বিধি-নিষেধ চলছে। গতকাল তা আরও এক মাস বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রজ্ঞাপনে ব্যাংকে লেনদেন সাড়ে তিনটা পর্যন্ত চালু রাখার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় বলে গণমাধ্যমকে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম। বিধি-নিষেধের মধ্যে এতদিন ব্যাংকগুলোতে ৩টা পর্যন্ত লেনদেন চলছিল।

সর্বশেষ ৩০ মে লেনদেনের সময় আধা ঘণ্টা বাড়িয়ে ৩টা পর্যন্ত করা হয়েছিল। স্বাভাবিক সময়ে ব্যাংকে লেনদেন হয় ৪টা পর্যন্ত এবং কর্মকর্তারা অন্যান্য কাজের জন্য ৫টা বা এর বেশি সময় শাখা খোলা রেখে কাজ করেন। এখন লেনদেন পরবর্তী আনুষ্ঠানিক অন্যান্য কাজের জন্য বিকাল ৫টা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা থাকবে।

এই বিভাগের আরও খবর