শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ জুন, ২০২১ ২৩:৪১

বিশেষায়িত অঞ্চলের বাইরে বিদেশি কোম্পানিও প্রণোদনা চায়

মতামত চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

Google News

করোনা মহামারীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দিতে সরকার যে প্রণোদনা সুবিধা দিচ্ছে, এবার তার ভাগ চাইছে বিশেষায়িত অঞ্চল বেজা, বেপজা বা হাইটেক পার্কের বাইরে বিনিয়োগকৃত বিদেশি ও যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোও। আর এসব কোম্পানি সরকার ঘোষিত প্রণোদনা পাবে কি-না সে বিষয়ে মতামত জানতে চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১৭ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ বিভাগে এ সংক্রান্ত চিঠিটি পাঠানো হয়।

কেন্দ্রীয়  ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কভিড-১৯-এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে প্রণোদনা সুবিধা ঘোষণা করেছেন, সরকারের সিদ্ধান্তে সে সুবিধা দেশের বিশেষায়িত অঞ্চলে অবস্থিত বিদেশি ও যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোকে দেওয়া হচ্ছে। এখন বেজা, বেপজা বা হাইটেক পার্কের বাইরেও সারা দেশে যেসব বিদেশি ও যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানি আছে তারাও সরকারের প্রণোদনা সুবিধা চেয়ে আবেদন করেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদেশি ও যৌথ মালিকানাধীন ওই প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, বিশেষায়িত অঞ্চলের বাইরে হলেও তারা প্রায় সবাই রপ্তানিমুখী। দেশে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান অব্যাহত রাখার স্বার্থে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে তারাও প্রণোদনা সুবিধার আওতায় ঋণ সুবিধা পাওয়ার ন্যায্য দাবিদার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাকালের এই সংকটময় সময়ে অন্যান্য দেশি-বিদেশি কোম্পানির মতো বিশেষায়িত অঞ্চলের বাইরে অবস্থিত বিদেশি ও যৌথ মালিকানাধীন কারখানাগুলোও প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাচ্ছে। তবে অন্যান্য দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলো সরকারের প্রণোদনা সুবিধা পেলেও তারা পাচ্ছে না। এর ফলে নতুন বিনিয়োগে তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। অথচ সব কোম্পানির মতো তারাও সরকারকে সব ধরনের কর ও মূসক পরিশোধ করছে। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রণোদনায় যেহেতু সরকারের ভর্তুকি রয়েছে, সে কারণে এ ধরণের মতামতের ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনার বিষয়ে আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে। বাণিজ্যমন্ত্রী অনুমোদন দিলে পরে এ বিষয়ে অর্থ বিভাগ সিদ্ধান্ত নেবে। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার মোট ১ লাখ ৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকার বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়, যা দেশের জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) ৩.০৭ শতাংশ। এর মাধ্যমে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা, ক্ষতিগ্রস্ত এসএমই খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) জন্য ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্স স্কিমের আওতায় ৫ হাজার কোটি টাকা এবং উৎপাদনমুখী শিল্প কারখানার জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ সুবিধা বা চলতি মূলধন ঋণের আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর