শনিবার, ১০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার প্রতিবেদন

মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগের তালিকায় বাংলাদেশ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

২০২০ সালে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হয়নি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো- করোনা মোকাবিলা নিয়ে সরকারের সমালোচনা ঠেকাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগসহ গণমাধ্যমের ওপর আরও বিধিনিষেধ এবং নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর অব্যাহত সহিংসতা। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অংশের শুরুতেই এসব কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ থাকা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ৩২টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২০ সালেও বাংলাদেশের গণমাধ্যম চাপের মধ্যে ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের গ্রেফতার-হয়রানির কথাও প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে।

‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি : দ্য ২০২০ ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস রিপোর্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা সীমিত। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থীদের ওপর হামলা ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর ব্যাপক অভিযোগ ছিল। গত নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে ভোটারদের হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার আরও ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রসফায়ার, নির্যাতনসহ ২২৫টি বিচারবহিভর্‚ত হত্যার জন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দায়ী। গত বছরের আগস্ট মাসে পুলিশের হাতে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়টি জনগণের কাছে নজিরবিহীন গুরুত্ব পায়। এরপর বিচারবহির্ভূত হত্যার সংখ্যা কমেছে। অন্তত ৩১টি গুমের তথ্য রয়েছে ওই প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের মার্চ মাসে সরকার খালেদা জিয়ার কারাদন্ডাদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে বাসায় থেকে চিকিৎসা নেওয়া ও বিদেশে না যাওয়ার শর্তে তাঁকে কারামুক্তি দেয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর কারাদন্ডাদেশ স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হয়। ২০২০ সালজুড়ে তিনি ‘হাউস অ্যারেস্ট’ ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আর্টিকেল ১৯’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থাকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪৫১ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে। ৪১টি মামলায় ৭৫ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ৩২ জন সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৫১তম স্থানে নেমে এসেছে, যা এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বনিম্ন অবস্থান। প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করায় স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ ৪০০ জনের বেশি লোকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর