রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

সজীব গ্রুপের মালিকসহ আটজন রিমান্ডে

রূপগঞ্জে কারখানায় ৫২ জনের মৃত্যুতে হত্যা মামলা, ছিল না ফায়ার এক্সিট সিঁড়ি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সজীব গ্রুপের মালিকসহ আটজন রিমান্ডে

গ্রেফতার কয়েকজন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাশেম ফুড লিমিটেড কারখানায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আবুল হাশেমসহ (৭০) আটজনকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। অন্যরা হলেন- হাসিব বিন হাশেম (৩৯), তারেক ইব্রাহিম (৩৫), তাওসীব ইব্রাহিম (৩৩), তানজীম ইব্রাহিম (২১) এবং সজীব গ্রুপের প্রধান নির্বাহী শাহান শাহ আজাদ (৪৩), হাশেম ফুডস লিমিটেডের ডিজিএম মামুনুর রশিদ (৫৩) ও হাশেম ফুডস লিমিটেডের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার কাম অ্যাডমিন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (৩০)। গতকাল নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুন পুলিশের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদনের শুনানি শেষে প্রত্যেকের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে নিশ্চিত করেছেন কোর্টপুলিশ পরিদর্শক আসাদুজ্জামান আসাদ। এর আগে রূপগঞ্জ থানার ভুলতা পুলিশফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. নাজিম উদ্দিন মজুমদার বাদী হয়ে হত্যা মামলা করলে আবুল হাশেমসহ বাকিদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, ‘আমরা রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছি। ঘটনার সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়ার কারণেই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যারা দোষী তাদের খুঁজে বের করে অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে, সে যে-ই হোক না কেন। গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’ গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘মামলা হবে, তদন্ত হবে এবং দোষীদের বিচার হবে। ইতিমধ্যে আটজনকে আটক করা হয়েছে। আগুনের ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গাফিলতি বিন্দুমাত্র থাকলেও কাউকে ছাড় নেই।’

এজাহারের অভিযোগে যা বলা হয়েছে : হাসেম গ্রুপের সেই ছয় তলা ভবনের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত সিঁড়ির ব্যবস্থা ছিল না। মাত্র চারটি সিঁড়ি প্রায় তিন হাজার শ্রমিকের জন্য কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়। এর বাইরে ভবনটিতে ফায়ার এক্সিট সিঁড়ি রাখা হয়নি। কল-কারখানার অভ্যন্তরে কোনো ধরনের দুর্ঘটনায় শ্রমিকদের জীবন বিপন্ন হতে পারে জানার পরও কর্তৃপক্ষ ইমারজেন্সি সিঁড়ির ব্যবস্থা রাখেনি। ছিল না পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আগুন লাগার পরও ফ্যাক্টরির অভ্যন্তরের গেট বন্ধ রাখা হয়। আটকে পড়ে অসহায় শ্রমিকদের নির্মম মৃত্যু হয়। মামলায় দন্ডবিধির ৩০২/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা হত্যা ও হত্যার উদ্দেশ্যে সামান্য ও গুরুতর জখম করেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় অবস্থিত ওই কারখানায় আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে ডেমরা, কাঞ্চনসহ ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। ২৯ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে ভয়াবহ আগুন। তবে এ সময়ের মধ্যে ঝরে গেছে ৫২ প্রাণ। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।