শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ জুলাই, ২০২১ ২৩:২২

আজ থেকে বিধিনিষেধ শিথিল হলেও বন্ধ পর্যটন কেন্দ্র, জনসমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

Google News

ঈদুল আজহা ঘিরে আজ থেকে বিধিনিষেধ শিথিল হলেও পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ রাখাসহ জনসমাবেশের সামাজিক অনুষ্ঠান পরিহারের নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ নির্দেশনার কথা গতকাল সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে।

তাতে বলা হয়, ঈদ উদযাপনে গতকাল ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত সব বিধিনিষেধ শিথিল করা হলেও এ সময়ে পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্রে গমন ও জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান যেমন বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান (ওয়ালিমা), জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিহার করতে হবে। এদিকে টানা ১৪ দিনের কঠোর লকডাউনের শেষে ঘর থেকে বের হচ্ছে মানুষ। অনেকেই ঈদের কেনাকাটা শুরু করেছেন। আবার কেউ কেউ ছুটিতে গ্রামে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গতকাল মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ফেরি ঘাটে ঢল নেমেছে মানুষের।

১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত পূর্বের আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করা থাকলেও কভিড-১৯ সংক্রমণ বিস্তার রোধে এ সময়ে সর্বাবস্থায় মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করে সব কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা বলা হয়েছে। মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত সব বিধিনিষেধ শিথিল করা হলো। পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন, জনসাধারণের যাতায়াত, ঈদ পূর্ববর্তী ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল প্রজ্ঞাপনে। তবে এই সময়েও জনগণকে সব অবস্থায় সতর্ক থাকতে, মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি ‘কঠোরভাবে’ অনুসরণ করতে বলেছে সরকার। ঈদের ছুটির পর ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত আগের বিধিনিষেধগুলো আবারও কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। লকডাউন শিথিল হওয়ায় ঈদের আমেজ বিরাজ করছে সবার মাঝে। গতকাল ঢাকায় গণপরিবহন ছাড়া সবকিছুই চলছে আগের মতো। চলমান ‘কঠোর’ বিধিনিষেধের মেয়াদ গতকাল মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। আজ থেকে নেই বিধিনিষেধ। রাজধানীতে সব দোকানপাট ছিল খোলা। রাস্তায় ভিড় ছিল মানুষের। অলি-গলি চায়ের দোকানে আড্ডা ছিল জমজমাট। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ঘুরতে দেখা গেছে অনেককেই। রাস্তায় ছিল উবার-পাঠাওয়ের মোটরসাইকেল রাইডাররা। রাস্তায় রিকশার পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়িই ছিল অনেক বেশি। অনেক রাস্তায় ছিল যানজটও।

ঈদের আগে লকডাউনের শেষ দিনই ঢাকার রাস্তা থেকে বিদায় নিয়েছে বিধিনিষেধ; বাস ছাড়া প্রায় সব ধরনের যানবাহনই চলছে। কাকরাইলের কাছে মাইনুদ্দিন নামের এক রিকশাচালক রসিকতার সুরে বললেন, এতদিন আমরাই বেশি ছিলাম। আইজকা দেখেন প্রাইভেট কার বাইর হইছে আমাগো চেয়ে বেশি। বুধবার সকাল থেকে ঢাকার শান্তিনগর, বিজয়নগর, পল্টন, আজিমপুর, পলাশী, লালবাগ, শ্যামলী, আগারগাঁও, মিরপুরের সড়কগুলোতে ঘুরে গেছে একইরকম চিত্র। প্রধান সড়কে রিকশার পাশাপাশি প্রাইভেটকার, পণ্যবাহী পরিবহন, মাইক্রোবাস চলছে প্রচুর, নেমেছে অটোরিকশা ও মোটরবাইকও। পুলিশ সদস্যরা এখন আবার ট্রাফিক সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরনের ভয়াবহ সংক্রমণে শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকায় গত ১ জুলাই সারা দেশে শুরু হয় লকডাউনের কঠোর বিধিনিষেধ। মহামারী পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন না হলেও ঈদ সামনে রেখে সেই বিধিনিষেধ আপাতত তুলে দেওয়া হচ্ছে।

পুরান ঢাকার আজিমপুর, লালবাগ, কেল্লারমোড়, বকশীবাজার অলিগলির কাপড়ের দোকান, ড্রাই ক্লিনার্স, হার্ডওয়ারের দোকানসহ সবই খোলা। ভিড়ের মধ্যেও অনেকে মাস্ক পরছেন না। মিরপুর ১১, ১২ ও কালশী ঘুরে বুধবার সকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। এসব এলাকায় বাস ছাড়া সব যানবাহনই চলছে। ভিড় বেড়েছে কাঁচাবাজার ও পোশাকের দোকানে। মিরপুর ১২ নম্বরের ডি ব্লক এলাকার একটি গলিতে দেখা যায়, কাপড়ের দোকানগুলোতে অসংখ্য ক্রেতা কেনাকাটা করছেন। অনেকের মুখে মাস্ক নেই। এদিকে টানা ১৪ দিনের কঠোর লকডাউনের শেষ দিনে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ফেরি ঘাটে ঢল নেমেছে মানুষের। গতকাল শিমুলিয়া ঘাটে ঢাকা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল উভয়মুখী যাত্রীর আসা-যাওয়ায় মুখোর ছিল ঘাট এলাকা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কভিডে মৃত্যু ও সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যে এ ভিড়ভাট্টা দেখা গেল।