শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ জুলাই, ২০২১ ২৩:১৬

বাংলাদেশের কভিড নিয়ন্ত্রণ চেষ্টার প্রশংসায় মার্শা বার্নিকাট

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের কভিড নিয়ন্ত্রণ চেষ্টার প্রশংসায় মার্শা বার্নিকাট
Google News

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মার্শা বার্নিকাট কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের চেষ্টার প্রশংসা করেছেন। তিনি মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে বৈঠককালে এ প্রশংসা করেন। বার্নিকাট ২০১৫ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন। বর্তমানে পররাষ্ট্র দফতরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি এবং পরিবেশবিষয়ক কর্মকর্তা। বৈঠকটি ছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক অংশীদারি বৈঠকের একটি ফলোআপ। তাঁর সঙ্গে সালমান এফ রহমানের এ বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা দুই দেশের মধ্যে চলমান অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং ২০২০ সালের অংশীদারি বৈঠকে চিহ্নিত সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহে যেসব অগ্রগতি হয়েছে তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন বলে কূটনীতিকরা জানান। তাঁরা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সরকারের মধ্যে অংশীদারি গভীরতর করার জন্য বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ভিতরে এবং বাইরে জড়িত থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছেন বলে বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেন। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে কভিড মহামারীর বিরূপ প্রভাবগুলো নিয়ে বৈঠকে বিশদ আলোচনা হয়। উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান কোভ্যাক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ৫৫ লাখের বেশি ভ্যাকসিন ডোজ সরবরাহ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান। কভিড-১৯ মোকাবিলায় দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার কথা স্মরণ করে ভ্যাকসিন এবং অন্যান্য মহামারী ব্যবস্থাপনা সরঞ্জামাদির বৈশ্বিক উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। এ ক্ষেত্রে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী সংস্থাগুলোকে বাংলাদেশের দক্ষ ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানিসমূহের সঙ্গে অংশীদারি প্রতিষ্ঠা করতে উৎসাহ প্রদানের জন্য মার্কিন সরকারের সহায়তা কামনা করেন। বৈঠকে সালমান এফ রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশ এ ধরনের অংশীদারির জন্য ফার্মাসিউটিকাল কোম্পানিসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত।

সাবেক রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট কভিড-১৯ ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পিপিইর পাশাপাশি কভিড-১৯ ভ্যাকসিন ও থেরাপিউটিক্স উৎপাদন সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দেবে।

বৈঠকে শ্রমিকের অধিকার ও নিরাপত্তা, জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি ক্ষেত্রে সহযোগিতা, বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমানের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশে শ্রমিকের অধিকার এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও উন্নত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গৃহীত বিভিন্ন নতুন উদ্যোগ সম্পর্কে বার্নিকাটকে অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। এসব জেনে যুক্তরাষ্ট্র পক্ষ এ সেক্টরে বাংলাদেশের নিরন্তর প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে এবং আরও বেশি অগ্রগতি অর্জনে তাদের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিল করার সাম্প্রতিক পদক্ষেপের জন্যও বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বৈঠকে উভয় পক্ষই স্বীকার করে যে ২০২০ সালের অর্থনৈতিক অংশীদারি বৈঠক দুই দেশের মধ্যে চলমান সহযোগিতাকে ত্বরান্বিত করেছে এবং তারা চলতি বছরের শেষের দিকে পরবর্তী অর্থনৈতিক অংশীদারি বৈঠক আয়োজনে সম্মত হয়েছে।

বৈঠকে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহিদুল ইসলাম, বাণিজ্য সচিব তপনকান্তি ঘোষ, ইআরডি সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে বিনিয়োগের অপার সুযোগ বিরাজ করছে এবং আমেরিকানদেরও অবাধে বিনিয়োগের আহ্বান জানাতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন সালমান এফ রহমান। ২৬ জুলাই তাঁর প্রথম বিনিয়োগ সামিট হয়েছে নিউইয়র্কে। ২৮ জুলাই বুধবার হচ্ছে ওয়াশিংটন ডিসিতে। এরপর আরও দুটি সামিট হবে লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিলিকন ভ্যালিতে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সেক্টরের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকও এসেছেন সালমান এফ রহমানের সঙ্গে।

এই বিভাগের আরও খবর