শিরোনাম
রবিবার, ১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

বাড়ির মালিক-ভাড়াটিয়া কেউ ভালো নেই

► ঢাকা ছেয়েছে টু-লেট বাড়ি ভাড়া বিজ্ঞাপনে ► গ্রামে চলে গেছে ৪০ শতাংশ ভাড়াটিয়া ► মাসের পর মাস ফ্ল্যাট পড়ে আছে খালি ► কম দামি ফ্ল্যাট খুঁজছে সীমিত আয়ের পরিবার

জিন্নাতুন নূর

বাড়ির মালিক-ভাড়াটিয়া কেউ ভালো নেই

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন বাড়ি বাড়ি ‘টু-লেট’ বা ‘বাড়ি ভাড়া’র সাইনবোর্ড বেশি ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। অলিগলির রাস্তাঘাট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইনে বাড়ি ভাড়ার ওয়েবসাইটগুলোও ছেয়ে গেছে বাসা ভাড়ার বিজ্ঞাপনে। ভাড়াটিয়ারা বেশি ভাড়ার বড় বাসা ছেড়ে স্বল্প ভাড়ার ছোট বাসা খুঁজছেন। অনেক ভাড়াটিয়া ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে গেছেন। ভাড়াটিয়া পরিষদের তথ্যে, এরই মধ্যে ঢাকার মোট ভাড়াটিয়ার ৪০ শতাংশ ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে গেছেন। অন্যদিকে বাড়িওয়ালাদের অবস্থাও খারাপ। বিশেষ করে যারা বাড়ি ভাড়ার ওপর ভিত্তি করে সংসার চালান তাদের মাস চলছে না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু নিম্নবিত্তই নয়, ঢাকায় বাড়ি ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারও। সন্তানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহজে যাতায়াতের জন্য আগে যেসব অভিজাত এলাকায় অভিভাবকরা বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় তারাই এখন কম ভাড়ায় অন্য এলাকায় বাসা নিচ্ছেন। চাকরিজীবীদের কেউ কেউ লকডাউনে হোম অফিস করায় কর্মস্থল থেকে দূরে গিয়ে অন্যত্র স্বল্পমূল্যে বাসা নিচ্ছেন। এ ছাড়াও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় বাসা ভাড়া করে থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সেই বাসাগুলোও খালি পড়ে আছে। এমনকি মহামারীর কারণে নতুন তৈরি হওয়া অনেক ফ্ল্যাটও এখন ভাড়াটিয়াশূন্য। রাজধানীর সেনপাড়ার একটি রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন বলেন, করোনা সংক্রমণ শুরুর পর তাদের ব্যবসা কমতে থাকে। শুরুর প্রথম তিন মাস বেতন বকেয়া পড়ে যায়। এক সময় রেস্টুরেন্টটিও বন্ধ হয়ে যায়। কাজ না থাকায় দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে ১৫ হাজার টাকায় যে ভাড়া বাসায় থাকতেন তা ছেড়ে দেন আনোয়ার। তিনি পরিবারের সদস্যদের গ্রামে রেখে এখন একটি মেসে ভাড়া থাকেন। নারী উদ্যোক্তা আজমেরী আজমী স্বামী ও এক সন্তানকে নিয়ে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় ভাড়া ছিলেন। বাথটাব, কিচেন কেবিনেট, লিফট ও ইন্টারকম সুবিধাসহ আধুনিক ফ্ল্যাটটির ভাড়া মাসে ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু মহামারী শুরুর পর ব্যবসায় লোকসান দেখা দিলে খরচ কমাতে আজমী বিলাসবহুল ফ্ল্যাটটি ছেড়ে পাশেই পল্লবীতে অর্ধেক ভাড়ার আরেকটি ফ্ল্যাটে উঠেছেন। মহামারীর কারণে ভালো নেই বাড়ির মালিকরাও। ঢাকায় যেসব বাড়ির মালিক আগে বছর বছর বাড়ি ভাড়া বাড়াতেন চলতি বছরে অনেকেই ভাড়া বৃদ্ধি করেননি। কেউ কেউ আবার ভাড়াটিয়ার অনুরোধে ভাড়া কমিয়েও দিচ্ছেন। মালিকরা জানান, তারা এমন ভাড়াটিয়া সংকটে আগে কখনো পড়েননি। অনেক মালিক আবার ভাড়া কমিয়েও ভাড়াটিয়া পাচ্ছেন না। এমনই একজন মালিক মিরপুর পল্লবী আবাসিক এলাকার নাসরিন আক্তার বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে ভাড়াটিয়াদের ভাড়া বৃদ্ধি করিনি। এতে যদি ভাড়াটিয়াদের কিছুটা স্বস্তি মেলে আমি তাতেই খুশি। করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের আয়ে যে প্রভাব পড়েছে তা বিবেচনা করে বাড়ি ভাড়া কমানোর দাবি জানিয়েছে বেশ কয়েকটি সংগঠন। এরই মধ্যে এক থেকে তিন মাসের বাড়ি ভাড়া মওকুফের জন্য বাড়ির মালিকদের কাছে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ভাড়াটিয়া কল্যাণ সমিতি এবং ভাড়াটিয়া পরিষদ নামের সংগঠন। ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি বাহারানে সুলতান বাহার বলেন, ঢাকা শহরের ৪০ শতাংশ ভাড়াটিয়া যাদের আয় উপার্জন কমে গেছে তারা গ্রামে চলে গেছেন। আগে যে ভাড়াটিয়া ঢাকায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনিই এখন খরচ কমাতে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা দিয়ে বাসা ভাড়া নিচ্ছেন। এই ভাড়াটিয়াদের অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন আবার অনেকে বেতন ঠিকমতো পাচ্ছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই পরিবারকে গ্রামে   পাঠিয়ে দিচ্ছেন।