বুধবার, ২০ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ টা

পিএসসির প্রশ্ন ফাঁস করলেই ১০ বছরের কারাদন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

এখন থেকে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদন্ড ও অর্থদন্ড হবে। শাস্তির এমন বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন, ২০২১’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ ছাড়া জাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা আইন ও চট্টগ্রাম শাহি জামে মসজিদ আইনের খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

পিএসসি আইন প্রসঙ্গে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এটা ১৯৭৭ সালের অর্ডিন্যান্স ছিল। হাই কোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সেটা নিয়ে আসা হয়েছে। এটা রুল বেইজড আইন। যেহেতু রুল বেইজড আইন, সব প্রসিডিউর পরবর্তী সময়ে রুলের মাধ্যমে হবে। খসড়ায় কমিশন গঠন করার কথা বলা হয়েছে। কমিশনে কমপক্ষে ছয়জন সদস্য থাকবেন। তবে সদস্য কোনোভাবেই ১৫ জনের বেশি হবে না। একটা আউট লাইন করে দেওয়া হয়েছে। বাকি ফরমেশনটা রুল দিয়ে করে দেওয়া হবে। তাদের (পিএসসি) দায়িত্ব হলো সংবিধানের ১৪০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন রিক্রুটমেন্ট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা প্রদান করা। পরীক্ষা পদ্ধতি কীভাবে হবে সেটার একটা আউট লাইন খসড়া আইনে করে দেওয়া হয়েছে।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকলে খসড়া আইনে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদন্ডের কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন তিন বছর কারাদন্ড বা অর্থদন্ডে দন্ডিত হবে। বেশ শক্ত একটা স্ট্যান্ড নেওয়া হয়েছে। জরিমানাটা সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। উত্তরপত্রের জালিয়াতির সঙ্গে যারা জড়িত থাকবেন তাদের সর্বোচ্চ দুই বছর ও সর্বনিম্ন এক বছরের কারাদন্ড বা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ড হতে পারে। কোনো পরীক্ষার্থী যদি অসদুপায় অবলম্বন করেন বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে অসদুপায়ে সহযোগিতা করেন, তাহলে তিনিও সর্বোচ্চ দুই বছর ও সর্বনিম্ন এক বছরের কারাদন্ড এবং অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। পরীক্ষা-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদন্ড বা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যদি কোনো অপরাধ করেন তাহলে দুই বছরের কারাদন্ড বা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ড হতে পারে। মোবাইল কোর্টের মধ্যেও এটা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমেও পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে যারা যুক্ত থাকবেন তাদের বিচারের আওতায় এনে সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি দেওয়া যেতে পারে। কিছুদিন থেকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ পিএসসির মাধ্যমে নেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, তৃতীয় শ্রেণির নিয়োগের বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এখনো প্রিসাইজ কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিভিন্ন ফোরামে, সর্বোচ্চ ফোরামে এ-জাতীয় আলোচনা হয়েছে। আলাদা একটা পিএসসি গঠন করা (তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ) যায়। কিন্তু প্রিসাইজ কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে খসড়া আইনে আছে, সরকার-প্রদত্ত অন্য কোনো দায়িত্ব (পালন করবে পিএসসি)। সেটা রুল দিয়ে করে দেওয়া যাবে।

জাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা আইন : এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী জাকাত তহবিল গঠন করা হবে। তহবিলের অর্থ সরকারিভাবে সংগৃহীত হবে। প্রবাসী বাংলাদেশি, বিদেশি কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত অর্থ যে কোনো তফসিলি ব্যাংকের জাকাত ফান্ডে জমা দিয়ে জাকাত আদায় করতে পারবেন। একটি বোর্ড থাকবে। ধর্মমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী এটার চেয়ারম্যান থাকবেন। সুরা তওবায় প্রিসাইসলি আটটি ক্যাটাগরি করে দেওয়া হয়েছে, প্রত্যেক ব্যক্তি জাকাতযোগ্য ক্যাটাগরির যে কোনো একজনকে জাকাত দিতে পারবেন। বিভিন্ন মুসলিম দেশে বোর্ড আছে। অনেকেরই হয়তো ব্যক্তিগতভাবে দেওয়ার সুযোগ থাকে না, তিনি হয়তো জাকাত ফান্ডে দিয়ে দিলেন। তখন জাকাত ফান্ড তার পক্ষে জাকাত আদায় করে দেবে। এটা তো কোরআনেও পরিষ্কার বলে দেওয়া হয়েছে যে তোমার সাড়ে ৭ ভরি সোনা বা ওই পরিমাণ টাকা যদি এক বছর থাকে তাহলে আড়াই শতাংশ জাকাত দিতে হবে। সেটা যদি কেউ ব্যক্তিগতভাবে দিলেন তো দিলেন, না হলে সরকারে ফান্ডে দিলে সেটাও দিতে পারবেন। আইনটিতে ১৪টি ধারা রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারিভাবে জাকাত সংগ্রহ ও বিতরণ করা হবে এবং আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারিভাবে জাকাত দানে উদ্বুদ্ধ করা হবে।

জাকাত সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন, জাকাত দানে আগ্রহী ব্যক্তিদের জাকাতযোগ্য সম্পদের বিষয় খসড়া আইনে রয়েছে। জাকাত বোর্ডে সদস্য থাকবেন ১০ জন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি করে দেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বা ধর্ম মন্ত্রণালয়। কালেকশন ও ডিস্ট্রিবিউশনটা তারা করবেন। কাকে কাকে কীভাবে দেবেন এটা তারা ঠিক করবেন। তাদের একটি অ্যাকাউন্ট থাকবে, সেখান থেকে তারা সংগ্রহ করবেন। এ ছাড়া ‘চট্টগ্রাম শাহি জামে মসজিদ আইন, ২০২১’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদনও দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মেকানিজম হচ্ছে ই-কমার্সের : নিবন্ধনের বাইরে যাতে কেউ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান চালাতে না পারে সেজন্য নিবন্ধন ও মনিটরিংয়ে মেকানিজম ডেভেলপ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ই-কমার্স নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ই-কমার্সের যে বিষয়গুলো, সে বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মিটিং করে পাঁচ সদস্যের কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। তারা এক মাস সময় নিয়েছে। অল্প দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিয়ে দেবে। আজকে বাণিজ্যমন্ত্রী এবং সচিব বলেছেন তারা অনেক অগ্রসর হয়েছেন। আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংক, এনটিএমসি সবাইকে নিয়ে। দুই-আড়াই মাস ধরে একটা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। আজকে এটাও সিদ্ধান্ত হয়েছে, এ-জাতীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের নিবন্ধনের মধ্যে মনিটরিং করতে হবে। কীভাবে করা হবে তা-ও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি জনগণকেও একটু উদ্বুদ্ধ করতে হবে যে আপনি কী জাতীয় প্রস্তাবে সাড়া দিচ্ছেন। ৫ লাখ টাকার মোটরবাইক আড়াই লাখ টাকায় দেওয়া হবে, আমি শুনেই ঝাঁপায় পড়ব... আমার নিজেরও তো বিচার-বিবেচনা থাকা দরকার যে ৫ লাখ টাকার একটা জিনিস কীভাবে আড়াই লাখ টাকায় দেবে। জনগণকেও সচেতন হতে হবে। সুতরাং পেমেন্ট গেটওয়েগুলো সুপারভিশন করার একটা মেকানিজম ডেভেলপ করা হচ্ছে, যাতে রেজিস্টার্ড পেমেন্ট গেটওয়ের বাইরে কেউ অপারেট না করে।

সর্বশেষ খবর