রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ টা

বাগেরহাটে অস্ত্রের মুখে স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৪) অস্ত্রের মুখে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান হোতা ধর্ষক এজাজুল মোল্লাকে (২১) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে শাকারীকাঠি গ্রাম থেকে এ ধর্ষককে কচুয়া থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। ধর্ষক এজাজুল মোল্লা উপজেলার কলমিবুনিয়া গ্রামের আবদুল কাদের মোল্লার ছেলে। এদিকে দলবদ্ধ  ধর্ষণে গুরুতর আহত ওই স্কুলছাত্রীকে শুক্রবার রাতে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার বাঁধাল ইউনিয়নের কলমিবুনিয়া গ্রামে এই দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। বাঁধাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নকিব ফয়সাল অহিদ ও ভিকটিমের বাবা জানান, কলমিবুনিয়া গ্রামে বাবা-মা বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে মসনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীটিকে স্থানীয় চার বখাটে বৃহস্পতিবার রাতে ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাবা-মা শুক্রবার দুপুরে বাড়িতে ফিরে মেয়ের কাছে বিস্তারিত জানেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ছাত্রীকে শুক্রবার রাতে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই স্কুলছাত্রী বলেন, ‘বুধবার বড় বোনের বাড়ি বেড়াতে যান বাবা-মা। সেই সুযোগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে স্থানীয় এজাজুল মোল্লা, সোহেল শেখ, টিপু শেখ ও সজীব মোল্লা জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে গলায় ছুরি ধরে হত্যার ভয় দেখিয়ে আমাকে ধর্ষণ করে। তাদের নির্যাতনে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। এলাকার এই বখাটেরা স্থানীয় অনেক  মেয়ের সঙ্গে এর আগেও খারাপ ব্যবহার করেছে।’ ভিকটিমের বাবা বলেন, ‘প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাড়িতে এসে  মেয়ের কাছে বিষয়টি শুনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় শুক্রবার রাতে মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তির পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আছাদুজ্জামান খবর পেয়ে দেখতে এসে ধর্ষকদের গ্রেফতার ও নিরাপত্তার আশ্বাস দিলে শনিবার (গতকাল) দুপুরে আমি বাদী হয়ে কচুয়া থানায় মামলা করি। আমি মেয়ের ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’ এই বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বাগেরহাট সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রীটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড় ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ধর্ষণের ফলে সে খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। গাইনি চিকিৎসকের মাধ্যমে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’ বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আছাদুজ্জামান বলেন, ‘খবর শুনে শুক্রবার রাতে হাসপাতালে গিয়ে ওই স্কুলছাত্রীর কাছ থেকে বিস্তারিত জেনেছি। অভিভাবকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। ভয় না পেয়ে মামলা করতে ও মেয়েটির চিকিৎসা চালিয়ে যেতে বলেছি। মামলা দায়েরের আগেই প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে শাকারীকাঠি গ্রাম থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শুক্রবার গভীর রাতে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার মূল হোতা এজাজুল মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল দুপুরে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে কচুয়া থানায় মামলা করেছেন। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।’

সর্বশেষ খবর