শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:৪১

ব্রেক্সিট চুক্তি প্রত্যাখ্যান, এরপর কী

ব্রেক্সিট চুক্তি প্রত্যাখ্যান, এরপর কী

ব্রিটেনের পার্লামেন্টে ২৩০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের ব্রেক্সিট চুক্তি নাকচ হয়ে যাওয়ার পর এখন কি হতে যাচ্ছে দেশটির জন্য ও তার অধিবাসীদের জীবনে - সেই প্রশ্নটি ঘুরছে সবার মাথায়। আগামী ২৯ মার্চের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার কথা। হাতে রয়েছে সাকুল্যে আড়াই মাসের মতো।

চুক্তিহীন ব্রেক্সিট হলে কী হবে : ইইউ ছেড়ে গেলে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে বসবাসরত ব্রিটিশ নাগরিকদের কী হবে? ব্রিটেন তাদের জন্য একটি সুবিধাজনক চুক্তি করতে চাইছে। বের হয়ে যাওয়ার জন্য কত অর্থ ইইউয়ের কাছে খোয়াতে হবে? ইইউ দেশগুলোতে ব্রিটিশ ব্যবসায়ী ও কোম্পানিগুলো কি ধরনের সুবিধা পাবে, সেটিও একটি বিষয়। কোনো চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট হওয়ার অর্থ হলো ব্রিটেনকে রাতারাতি বিচ্ছেদের প্রস্তুতির কোনো সময় ছাড়াই সম্পর্ক ছেদ করতে হবে। কোন খাতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে আর তা মোকাবিলায় কী করতে হবে -সেটি বোঝার কোনো সময় পাবে না যুক্তরাজ্য। আর এতে যারা ভুক্তভোগী হবে তাদের সহায়তার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বা তাদের নতুন ব্যবস্থার জন্য কিছু সময় দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। সবকিছু গুটিয়ে রাতারাতি সরে আসতে হবে।

ব্যবসায় প্রভাব পড়বে : ব্রিটেন যেসব বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ইইউ দেশগুলোতে নানা সুবিধা পাচ্ছিল সব সুবিধা সে হারাবে। ইইউ দেশগুলোর সবার সঙ্গে নানা ইস্যুতে তাকে আবার দেন-দরবার করে নতুন চুক্তি করতে হবে। সেগুলো করতে হবে আলাদা আলাদা করে। ব্রেক্সিটের বিপক্ষের অনেকেই মনে করেন হঠাৎ এভাবে বের হয়ে গেলে ব্রিটেনে বিভিন্ন পণ্যের সংকট দেখা দেবে। পণ্যের দামও বাড়বে যেগুলো কম খরচে ইইউভুক্ত দেশগুলো থেকে আসত।

অভিবাসীদের ওপর পড়বে নানা প্রভাব : ব্রেক্সিট মানে হলোÑ অভিবাসন ইস্যুতে নিজের মতো আইন করতে পারবে যুক্তরাজ্য। এতদিন অভিবাসন বিষয়ে ইইউর যেসব নীতিমালা ছিল সেগুলো মানতে হতো তাকে। ব্রিটেনে কর্মরত ইউরোপের অন্যান্য দেশের অভিবাসীদের সম্পর্কে বিরূপ মনোভাবের কারণেই অনেকে ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। ঐ সব নাগরিকরা তাদের কাজ দখল করে নিচ্ছে বলে তাদের অনেকেই অপছন্দ করেন। কিন্তু ব্রিটিশরাও ইইউভুক্ত দেশে কাজ করছেন। তাদের জন্যও তৈরি হবে অনিশ্চয়তা।

ব্রিটেনের রাজনীতিতে সামনে কী আসতে পারে? দেশটির লেবার পার্টি নেতা জেরেমি করবিন ইতিমধ্যেই সরকারের প্রতি একটি অনাস্থা ভোটের আহ্বান জানিয়েছেন। পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২২ সালে। কিন্তু একটি অনাস্থা ভোট হলে এই সরকারকে সংসদ সদস্যরা চান কিনা- সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। যদি অনাস্থা প্রস্তাব জিতে যায়, তাহলে সেখানকার সরকার ১৪ দিন সময় পাবে। তার মধ্যে নতুন একটি অনাস্থা ভোটে না জিতলে আগেভাগে সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা করতে হবে। সেটি করা যাবে ২৫ দিন পর থেকে যেকোনো সময়। কিন্তু সরকার যদি অনাস্থা প্রস্তাব থেকে বেঁচে যায় তাহলে মূল যে বিষয় অর্থাৎ তেরেসা মে নতুন করে ব্রেক্সিট বিষয়ে সংসদে ভোটের ডাক দিতে পারবেন। নতুন করে ব্রেক্সিট বিষয়ে সংসদে ভোটেও যদি কিছু না হয়, তাহলে ইইউয়ের সঙ্গে দেন-দরবার করে ব্রিটেনের সুবিধামতো কোন চুক্তি ছাড়াই ইইউ অঞ্চল ছেড়ে বের হয়ে যেতে হবে। এরমধ্যে এখন অনেকেই নতুন একটি গণভোটও চাইছেন। বিবিসি বাংলা।


আপনার মন্তব্য