Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৭ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জুন, ২০১৯ ০০:০৫

মমতার সঙ্গে বসার নতুন শর্ত ডাক্তারদের

কলকাতা প্রতিনিধি

মমতার সঙ্গে বসার নতুন শর্ত ডাক্তারদের

পশ্চিমবঙ্গের হাসপাতালগুলোতে সপ্তাহ ধরে কর্মবিরতি চলার পর অবশেষে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হলেন আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তাররা। সেক্ষেত্রে নতুন কিছু শর্তও চাপালেন তারা। জানালেন বন্ধ ঘরে কোনো বৈঠক নয়, তা হবে ক্যামেরার সামনে। রবিবার কলকাতার নীল রতন সরকার মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে জুনিয়র ডাক্তারদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তাদের একটি প্রতিনিধ দল গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়। তারা জানান, গতকাল আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনটি বিভ্রান্তমূলক ছিল এবং সেটা মানুষের মনে ভুল ধারণা তৈরি করেছে। যা আমরা কাটাতে চাই। আমরা চাই অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসতে। কিন্তু বন্ধ দরজার পেছনে নয়, সেটা সবার স্বার্থে হোক এবং প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে। মুখ্যমন্ত্রী কোথায় বসবেন সেটা জনস্বার্থে আমরা তার ওপরেই ছেড়ে দিলাম।

তিনি আমাদের স্থান বলে দিন। আমরা রাজি কিন্তু তাতে যেন সারা পশ্চিমবঙ্গের সব মেডিকেল কলেজের পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রতিনিধি ও জাতীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জায়গা দেওয়া যায়।

আমরা আশাবাদী যে, মুখ্যমন্ত্রী জনস্বার্থে এই আলোচনা সভার আয়োজন করবেন। এবং আমাদের সব ন্যায্য দাবিকে মান্যতা দেবেন যাতে আমরা অবিলম্বে জনসাধারণের জন্য পরিষেবা চালু করতে পারি। যদিও চিকিৎসকদের নতুন এই শর্ত নিয়ে সরকারের তরফে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ১০ জুন রাতে কলকাতার নীল রতন সরকার (এনআরএস) মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে জুনিয়র চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে রোগীর পরিবারের বিরুদ্ধে। হামলায় পরিবহ মুখার্জি এবং যশ তখওয়ানি নামে দুই জুনিয়র চিকিৎসক মারাত্মকভাবে আহত হন। ওই ঘটনার পর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, নিজেদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার দাবিতে ১১ জুন থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। কিন্তু ১৩ তারিখ এসএসকেএম হাসপাতালে এসে আন্দোলনরত ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দেওয়ার পরই পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। কর্মবিরতি তুলে নিতে ডাক্তারদের সময়সীমা বেঁধে দেন তিনি। কাজে যোগ না দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুমকি দেন তিনি। মমতা অভিযোগ করেন বহিরাগতরাই গ গোল পাকাচ্ছে। কার্যত এরপর থেকেই গোটা রাজ্যের পাশাপাশি দেশজুড়ে এর আঁচ পড়ে। গত প্রায় ছয়দিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোর ইমার্জেন্সি, প্যাথলজিক্যাল, বহির্বিভাগে অচলাবস্থা চলছে।


আপনার মন্তব্য