Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৯ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ জুন, ২০১৯ ২৩:১৫

মিয়ানমারে ব্যর্থতার দায় স্বীকার জাতিসংঘের

মিয়ানমারে ব্যর্থতার দায় স্বীকার জাতিসংঘের
জীবন বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টায় রোহিঙ্গারা

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক অভিযানে সৃষ্ট সংকটে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এই সংকট মোকাবিলায় ‘পদ্ধতিগতভাবে ব্যর্থ’ হয়েছে। সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় তাদের ঐক্যবদ্ধ কোনো কৌশল ছিল না। এছাড়া নিরাপত্তা পরিষদের পর্যাপ্ত সমর্থনেরও অভাব ছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়। গুয়েতেমালার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী গের্ট রোসেনথালের ওই প্রতিবেদনে রাখাইন সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের সমন্বিত কোনো কৌশল ছিল না এবং নিরাপত্তা পরিষদও এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ করেছেন।

২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মিয়ানমার নিয়ে জাতিসংঘের কর্মকা  পর্যালোচনা করতে সংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস চলতি বছরের শুরুর দিকে রোসেনথালকে নিয়োগ দেন। সোমবার ওই পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

‘সমন্বিত’ কর্মকৌশল না নিয়ে আলাদা আলাদা কৌশল নেওয়ায় ভয়াবহ ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে ও সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। এর দায় সবার। অন্যভাবে বললে, একে জাতিসংঘের পদ্ধতিগত ব্যর্থতা হিসেবে চিত্রিত করা যায়, ৩৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে এমনটাই বলেছেন রোসেনথাল।

গুয়েতেমালার সাবেক এ রাষ্ট্রদূত জানান, মাঠপর্যায় থেকে সদর দফতরে পাঠানো জাতিসংঘ কর্মীদের পাঠানো পরষ্পরবিরোধী প্রতিবেদনের কারণে নিউইয়র্কে থাকা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও মিয়ানমার বিষয়ে দৃঢ় পদক্ষেপ নাকি ধীরে চল নীতি নেওয়া হবে  সে বিষয়ে একমত হতে পারেনি।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা তথাকথিত চৌকিতে হামলার পর পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা  জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৭ লাখেরও বেশি মানুষ। জাতিগত নিধনের ভয়াবহ বাস্তবতায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বড় অংশটি বাংলাদেশে পালিয়ে এলেও জাতিসংঘের হিসাবে ৪ লাখেরও বেশি মানুষ এখনো সেখানে থেকে গেছে। ২০১২ সালে রাখাইনে সহিংসতা শুরুর পর বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের জন্য স্থাপন করা হয় আইডিপি ক্যাম্প। তখন থেকেই এই ক্যাম্পে সহায়তা দিয়ে আসছে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গা ও কামান জনগোষ্ঠীর প্রায় এক লাখ ২৮ হাজার সদস্য এসব ক্যাম্পে বসবাস করে। তবে তাদের চলাফেরায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রেখেছে মিয়ানমার সরকার। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাবিরোধী নতুন অভিযান জোরালো করার পাশাপাশি এসব ক্যাম্প বন্ধ শুরুর অঙ্গীকার করে মিয়ানমার সরকার। তবে  সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। উল্টো অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতদের পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতির দিকে গেছে। জাতিসংঘ এই সামরিক অভিযানকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ বলে আখ্যা দেয়। 

রোজেনথাল বলেন, মিয়ামারকে মানবাধিকর লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করতে যোগ্য ভূমিকা রাখেনি জাতিসংঘ।


আপনার মন্তব্য