শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:২৩

জেলেই যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু?

জেলেই যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু?

ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তিনটি অভিযোগ এনেছেন। এগুলো হলো- ঘুষ, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের পৃথক তিন মামলা। যদিও এ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে এ ঘটনা তার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটাতে প্রেসিডেন্ট সক্রিয় হচ্ছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ অভিযোগে তাকে জেলে যেতে হবে। আর এ থেকে মুক্তি পেতে যেভাবেই হোক ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চান নেতানিয়াহু। অবশ্য গতকাল কিছু গণমাধ্যম জানিয়েছে তিনি পদত্যাগে রাজি হয়েছেন। অনেক বাধাবিপত্তি কাটিয়ে ইসরায়েলের ক্ষমতাকেন্দ্রের শীর্ষে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় কাটানোর রেকর্ড ভেঙেছেন নেতানিয়াহু। ২০০৯ সাল থেকে একটানা প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন তিনি। এর আগে গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকেও তিনি ক্ষমতায় ছিলেন। তাকে ছাড়া ইসরায়েলের রাজনীতির কথা অনেকেই ভাবতে পারেন না। কিন্তু ইদানীং নেতানিয়াহুর সময়টা ভালো যাচ্ছে না। এক বছরের মধ্যে দুই-দুটি সাধারণ নির্বাচনের পরও তিনি সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেননি। ফলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে তৃতীয় নির্বাচনের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। এবার ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল আভিখাই মান্ডেলব্লিট তার বিরুদ্ধে ঘুষ, প্রতারণা ও আস্থাভঙ্গের আইনি অভিযোগ আনলেন। উল্লেখ্য, এর আগে ইসরায়েলের কোনো ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রীর পদ আঁকড়ে ধরে রাখতে এবং পার্লামেন্টের কাছে আইনি রক্ষাকবচ আদায় করতে না পারলে সহজে কারাদ- এড়াতে পারবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ সত্ত্বেও এই মুহূর্তে কোনো আইনি পথে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা যাবে না। বৃহস্পতিবার আনা এমন মারাত্মক অভিযোগের মুখেও দমে যাওয়ার বদলে আরও আগ্রাসী মনোভাব দেখালেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তার অভিযোগ, জেনেশুনে, চক্রান্ত করে সপরিবারে তাকে ফাঁসানোর  চেষ্টা চলছে এবং মোক্ষম সময় বেছে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি এই পদক্ষেপকে এমনকি ‘অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা’ হিসেবেও বর্ণনা করলেন। আবেগভরা এক টেলিভিশন ভাষণে পদত্যাগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছেন নেতানিয়াহু। আপাতত ইসরায়েলের রাজনৈতিক সংকট কাটাতে পার্লামেন্টে দলমত নির্বিশেষে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য কোনো নাম প্রস্তাব করতে পারে।

বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট রুভেন রিভলিন এমপিদের উদ্দেশ্যে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার ডাক দেন। প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সেই ব্যক্তি সরকারের রাশ ধরতে পারেন। সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে আবার সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। ততদিনে আইনি প্রক্রিয়ার ফলে জেরবার না হলেও  নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে নির্বাচনী প্রচারে হাতিয়ার করবে। সে ক্ষেত্রে তার লিকুদ দলও কতটা সংহতি দেখাবে, সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র কার্যকর গণতন্ত্র হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশে-বিদেশে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহু যেভাবে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়ছেন এবং কর্তৃপক্ষের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তার বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠছে।


আপনার মন্তব্য