শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৫০

যেসব প্রাণীকে আর কখনো দেখা যাবে না

যেসব প্রাণীকে আর কখনো দেখা যাবে না

সাধারণ প্রচলিত ধারণা হচ্ছে, বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া মানে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া। আমাদের অজান্তেই চারপাশের অনেক প্রাণী হারিয়ে যাচ্ছে। প্রাণিবৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচারের এক হিসাব অনুযায়ী প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ডব্লিউডব্লিউএফএন অবশ্য বলছে, প্রকৃতিতে এখন কত প্রজাতির প্রাণী বেঁচে আছে এ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেই মানুষের। তবে আজ বিশ্বব্যাপী হারিয়ে যাওয়া প্রাণীদের স্মরণ করা হবে। তার আগে চলুন পরিচিত হই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া যেসব প্রাণী আবার ফিরে এসেছে তাদের কয়েক প্রজাতির সঙ্গে-

 

মিস ওয়ালড্রন্স রেড কোলোবাস (ঘানা ও আইভরি কোস্ট) : বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া মিস ওয়ালড্রন্স রেড কোলোবাসের সমগোত্রীয়। এই লাল মাথাওয়ালা বানর বিলুপ্ত হয়েছে ২০০০ সালের দিকে। ঘানা আর আইভরি কোস্ট সীমান্তে এদের বাস ছিল।

ইয়াংজি রিভার ডলফিন (চীন) : বাইজি নামের চীনা নদীর এই ডলফিনকে মনে করা হতো স্বাদুপানির অন্যতম প্রাচীন জলজ প্রাণী। ২০০৬ সালে এটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। জলজ প্রাণীর অবস্থান সম্পর্কে নিখুঁত ধারণা দিতে পারত এই ডলফিন। 

ক্যারিবিয়ান সন্ন্যাসী সিল (জ্যামাইকা ও নিকারাগুয়া) : ক্যারিবিয়ান অঞ্চলেই বাস করত এই প্রজাতির সিল। মেক্সিকো উপসাগর, সেন্ট্রাল আমেরিকার পূর্ব উপকূল ও দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর উপকূলে পাওয়া যেত এই প্রাণী। কিন্তু তাদের শরীরের চর্বি গলিয়ে তেল বানানোর জন্য ক্রমে তারা শিকারিদের হাতে মারা পড়তে শুরু করল।

অ্যালাবামা পিগটো (যুক্তরাষ্ট্র) : ২০০৬ সালের আগে পর্যন্ত এই জাতের ঝিনুক যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামার নদীতে পাওয়া যেত। সাধারণত নদীর দূষণ ঠেকাতে কার্যকর এই ঝিনুক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দূষণের কারণেই বিলীন হয়ে গেছে তারা।

ডোডো (মরিশাস) : বিলীন হওয়া পাখিদের মধ্যে সবচেয়ে নামি ডোডো। মরিশাসে যখন মানববসতি ছিল, তখন খাবারের চাহিদা মেটাতে গিয়েই বিলীন হয়েছে উড়তে না পারা এই পাখি। ১৭০০ সালের শেষের দিকে সর্বশেষ এই পাখি দেখা গেছে।

স্টেলারস সি কাউ (আলাস্কা ও রাশিয়া) : এই জাতের সিল আকারে বিশাল ছিল। প্রাপ্তবয়সী স্টেলারস সি কাউ ৯ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতো। শরীরে চর্বির পরিমাণের জন্য শিকারিদের নজর সব সময়ই এদের ওপর ছিল।

কোয়াগা (দক্ষিণ আফ্রিকা) : আফ্রিকান এই প্রাণীটির শরীরের প্রথম অংশ জেব্রার মতো, কিন্তু এর শরীরের ডোরাকাটা দাগগুলো শরীরের পেছনের অংশে অনেকটাই হালকা হয়ে ঘোড়ার মতো হয়ে গেছে। সর্বশেষ আমস্টারড্যামে কোয়াগাটি ১৮৮৩ সালে এক চিড়িয়াখানায় মারা যায়।

সাদা লেজওয়ালা ঈগল (যুক্তরাজ্য) : শেষ করা যাক একটি ভালো খবর দিয়ে। যুক্তরাজ্যে বিংশ শতকের শুরুতে প্রায় বিলীন হয়ে যায় সাদা লেজওয়ালা ঈগল। কিন্তু এই দারুণ দেখতে পাখিটি ব্রিটেনে এটি বিলুপ্ত হয়ে গেলেও, এখন ইউরোপের অন্য দেশে দেখা যাচ্ছে এই পাখি।


আপনার মন্তব্য