শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:১৩

করোনায় মহামারী

যুক্তরাজ্যে ময়লা ফেলার ব্যাগ মাথায় দিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন ডাক্তাররা

যুক্তরাজ্যে ময়লা ফেলার ব্যাগ মাথায় দিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন ডাক্তাররা
এক চিকিৎসক আরেক চিকিৎসককে পলিথিনের ব্যাগ মাথায় পেঁচিয়ে দিচ্ছেন

যুক্তরাজ্যের হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের পরিবেশ ও সরঞ্জামের শোচনীয় অবস্থা উঠে এসেছে। এ বক্তব্য দেশটির একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের একজন চিকিৎসকের। করোনাভাইরাসের কারণে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, যাদের অবস্থা সংকটময় তাদের জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে হাসপাতালগুলো। মূলত নিবিড় পরিচর্যা সেবা বা আইসিইউ বাড়াতেই এই উদ্যোগ। কিন্তু তাদের অভিযোগ যথাযথ সাপোর্ট বা সরঞ্জাম তারা পাচ্ছেন না। বিবিসিকে  দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারা যে বিষয়টিতে জোর দিয়েছেন তা হলো সরঞ্জামের অভাব। তাদের গণমাধ্যমে কথা বলতেও নিষেধ করা হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের একজন কর্মরত চিকিৎসক বিবিসির সঙ্গে কথা বলতে রাজি হন নাম প্রকাশ না করার শর্তে। প্রতিবেদনে তাকে ছদ্মনাম দেওয়া হয়েছে ড. রবার্টস। তিনি যে হাসপাতালে কাজ করেন সেটির আইসিইউ এখন কভিড-১৯ রোগীতে পরিপূর্ণ। এই হাসপাতালে এখন অন্য রোগের চিকিৎসা বন্ধ। এমনকি ক্যান্সারও। কিন্তু এই হাসপাতালে কর্মীর অভাব আছে, সংকটময় রোগীর জন্য বিছানার অভাব আছে, একদম সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক ও ভেন্টিলেটরের অভাব আছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাস ১৪ থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে বড় আঘাত হানবে, বিশ্লেষকদের ভাষায় যেটাকে বলা হচ্ছে ‘পিক টাইম’। স্বাস্থ্যকর্মীরা এখনই অনুভব করছেন কী পরিমাণ সংকটময় সময় আসছে সামনে। চূড়ান্তভাবে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিচ্ছেন এমন ডাক্তাররা এখন ১৩ ঘণ্টা করে কাজ করছেন প্রতিদিন।

ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে পিপিই-ব্যক্তিগত সুরক্ষা দেওয়া সরঞ্জামের অভাব প্রকট, এমনও হয়েছে যে পিপিইর অভাবে ময়লা ফেলার পলিথিন, প্লাস্টিকের অ্যাপ্রোন ও স্কিইং করার চশমা পরে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন তারা। যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই করোনাভাইরাস আক্রান্ত হতে পারেন এমন ব্যক্তির থেকে ২০ সেন্টিমিটারের মতো দূরত্বে থেকে কাজ করছেন ডাক্তাররা, যেখানে সাধারণ মানুষকে বলা হচ্ছে ২ মিটার হতে হবে ন্যূনতম দূরত্ব।

ডা. রবার্টস বলছেন, কী যে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে তাদের জীবনে  সেটা এখনই ভাবাচ্ছে, তারা এখন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছেন এবং নিজেদের পিপিই নিজেরাই তৈরি করছেন। ডা. রবাটর্স বলেন, ‘এটা বাস্তব চিন্তা, নিবিড় চিকিৎসা যেসব নার্স দিচ্ছেন তাদের এটা এখনই প্রয়োজন। তারা যেখানে কাজ করছেন সেখানে ভাইরাস অ্যারোসলের মতো করে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের বলা হচ্ছে খুব সাধারণ টুপি পরতে যেটায় ছিদ্র আছে। যেটা কোনো সুরক্ষাই দিচ্ছে না।’ এটা প্রচন্ড রকমের ঝুঁকিপূর্ণ। তাই কর্মীরা বিনের ব্যাগ ও অ্যাপ্রোন পরে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের সরকার সরঞ্জাম বিতরণ নিয়ে যে ঝামেলা হচ্ছে সেটা স্বীকার করেছেন। এখন এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী। সরঞ্জাম জায়গা মতো পৌঁছাতে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। পয়লা এপ্রিল ১০ লাখ শ্বাসযন্ত্র রক্ষাকারী মাস্ক দিয়েছে বলে জানিয়েছে এনএইচএস, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা। তবে  সেখানে মাথার সুরক্ষা ও গাউনের কথা বলা হয়নি। রবার্টস যেখানে কাজ করছেন সেই হাসপাতালে কোনো সরকারি সামগ্রী পৌঁছায়নি বলছেন তিনি। ‘এখন আমরা যে মাস্ক দিয়ে কাজ করছি সেটা নতুন করে তারিখ বসানো হয়েছে। আমি তিনটি স্টিকার দেখেছি যেখানে লেখা  মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ ২০০৯, ২০১৩ ও একটিতে ২০২১।’ ইংল্যান্ডের পাবলিক হেলথ বলছে যেগুলোতে মেয়াদের তারিখ শেষ হয়ে গেছে সেগুলো তারা পরীক্ষা করে দেখে যে ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু বিবিসি যে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেছে তিনি বলছেন তিনি এ বিষয়ে আশ্বস্ত হতে পারছেন না। এই মুহূর্তে রবার্টসের তিনজন সহকর্মী  ভেন্টিলেশনে আছেন যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদের একজন কভিড ওয়ার্ডে কাজ করতেন। বাকি দুজন কভিড ওয়ার্ডে কাজ করতেন না তাই তাদের পিপিই ছিল না। রবার্টস মনে করছেন এ দুজনের কর্মক্ষেত্রেই সংক্রমণ  হয়েছে।


আপনার মন্তব্য