শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ মে, ২০২০ ০০:১৮

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ চীনের

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ চীনের

হংকং হিউম্যান রাইটস ও ডেমোক্র্যাসি অ্যাক্টের মাধ্যমে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও হংকং সরকারকে ব্ল্যাকমেইল করছেন বলে অভিযোগ করেছে চীন। করোনাভাইরাসসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক কর্মকান্ডকে চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সমতুল্য বলেও উল্লেখ করেছে বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গতকাল এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়েছে। খবর আল জাজিরা।

নভেল করোনাভাইরাসের উৎস ইস্যুতে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দ্বন্দ্ব সাম্প্রতিক সময়ে তুঙ্গে উঠেছে। মার্কিন প্রশাসন দাবি করছে, চীনের উহান শহরের একটি ল্যাব থেকে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। এ জন্য বেইজিংকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে বেইজিং ট্রাম্প প্রশাসনের দাবিকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, করোনা ইস্যুতে ওয়াশিংটনের কৌশলকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোধিত বলেও মন্তব্য করেছে বেইজিং। করোনা নিয়ে চলমান উত্তেজনার মাঝেই ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের ওই অভিযোগ আনল চীন।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টে ‘হংকং হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসি অ্যাক্ট’ নামের একটি বিল পাস হয়। এতে অঞ্চলটির মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়ে মার্কিন সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। সেখানে বলা হয়, হংকং চীনের অংশ কিন্তু সেখানে আলাদা আইন ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আছে। এই আইনে খতিয়ে দেখা হবে চীন হংকংয়ের নাগরিক স্বাধীনতা ও আইনে হস্তক্ষেপ করেছে কিনা। এ ছাড়া আইনে হংকংকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিষেধাজ্ঞার প্রভাব হংকংয়ে পড়বে না। হংকংয়ের বাসিন্দারা অসহিংস আন্দোলনের কারণে গ্রেফতার হলেও তাদের ভিসা সুবিধা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এর আগের দিন বুধবার বলেন, হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থি অ্যাকটিভিস্টদের সঙ্গে সম্প্রতি যেমন আচরণ করা হয়েছে, তাতে এ অঞ্চলটি আদৌ চীনের নিয়ন্ত্রণমুক্ত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হংকং কমিশনারের কার্যালয়ের মুখপাত্র একটি বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, পম্পেওর কর্মকান্ড চীনা জনগণকে ভীত করতে পারবে না। নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত স্বার্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বেইজিং। হংকং চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হলেও ২০৪৭ সাল অবধি অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দিয়েছে দেশটি। ১৫০ বছর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনে থাকার পর লিজ চুক্তির মেয়াদ শেষে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই অঞ্চলটি চীনের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছিল। হংকংয়ের জনসংখ্যা প্রায় ৭৪ লাখ হলেও ১২০০ জনের একটি বিশেষ কমিটি নেতা বাছাইয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।

 


আপনার মন্তব্য