শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪০

উত্তরাখণ্ডে হিমবাহ বিপর্যয়

আগেই সতর্ক করা হয়েছিল

ভারতের উত্তরাখণ্ডে তুষারধস ও বন্যার পর থেকে প্রায় ২০৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দেশটির জরুরি উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ৩২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিমালয়ে জলাবদ্ধতার প্রভাব নিয়ে অধ্যয়ন করতে গিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞরা ২০১৪ সালেই দেশটির সরকারকে সতর্ক করেছিলেন। বিশেষজ্ঞ দলের এক সদস্য রবি চোপড়া জানিয়েছেন, বৈশ্বিক জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে। ফলে তুষারধসের মতো বিপজ্জনক ঘটনা ঘটতে পারে। রবি চোপড়া আরও জানিয়েছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ণের প্রভাবে ওই অঞ্চলে বাঁধ নির্মাণ করা ছিল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সুপ্রিম কোর্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞরা ২০১৪ সালেই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার সকালের ওই বিপর্যয়ের পর পার্শ¦বর্তী ধৌলিগঙ্গা নদীর পানির প্রবল স্রোতে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় সেখানকার ১৩টি গ্রাম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে, উত্তরাখণ্ডে তুষারধসের পর বন্যার ঘটনায় এখনো ২০৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। যাদের মধ্যে বেশির ভাগই তপোবন-বিষ্ণুগড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও ঋষিগঙ্গা প্রকল্পের শ্রমিক। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সেনাবাহিনী, ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি), জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর প্রায় ৬০০ সদস্য সেখানে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, আড়াই কিলোমিটার সুড়ঙ্গের ভিতরে ২৫ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক আটকা পড়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের উদ্ধারে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বিশেষ সরঞ্জাম (ড্রোন) ব্যবহার করছেন।

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিংহ রাওয়াত বলেন, ‘আইটিবিপির সদস্যরা পাহাড়ি পথে পাঁচ-ছয় কিলোমিটার হেঁটে গ্রামে গ্রামে খাবার, ওষুধ এবং পানি পৌঁছে দিচ্ছেন।’ কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখতে দেহরাদুনের ওয়াদিয়া ইনস্টিটিউট অব হিমালয়ান জিওলজি (ডব্লিউআইএইচজি) থেকে বিজ্ঞানীদের দুটি দল চামোলিতে পৌঁছেছে। তারা হেলিকপ্টার থেকে পুরো এলাকায় জরিপ চালিয়েছেন।


আপনার মন্তব্য