শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৫৮

ভিডিও কলে খুনের প্রক্রিয়া তদারক করেন যুবরাজ বিন সালমান

ভিডিও কলে খুনের প্রক্রিয়া তদারক করেন যুবরাজ বিন সালমান

এর আগে তুরস্ক সৌদি আরব থেকে বিতাড়িত সাংবাদিক জামাল আহমেদ খাশোগিকে হত্যার বর্ণনা প্রকাশ করেছে। এবার এই খুনের আদ্যোপান্ত প্রকাশ করবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। আর সেখানে উঠে এসেছে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নাম। জনপ্রিয় মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ সিআইএ-র একাধিক গোপন সূত্র উদ্ধৃত করে একটি প্রতিবেদন পেশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ভিডিও কলের মাধ্যমে নৃশংস খুনের প্রক্রিয়াটি নিজে তদারক করেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

ওয়াশিংটন পোস্ট বলেছে, আগামী সপ্তাহে খাশোগি হত্যার রিপোর্ট পেশ করতে চলেছে সিআইএ। সেই গোপন রিপোর্টের বেশকিছু অংশ আগাম হাতে এসেছে ওয়াশিংটন পোস্টের সম্পাদকীয় বিভাগের হাতে। তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স তথা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশে পরিকল্পনা করেই খুন করা হয়েছিল ৬০ বছরের খাশোগিকে। ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি দূতাবাসে ডেকে পাঠিয়ে রীতিমতো ফাঁদ পেতে খাশোগি হত্যা করে সৌদি গুপ্তচর সংস্থার কিলিং টিমের সিক্রেট এজেন্টরা। তখন খাশোগি ওয়াশিংটন পোস্টের পে-রোলে থাকা সাংবাদিক ও কলামিস্ট ছিলেন। কিন্তু এই খবরের পরই চাপে পড়ে গেছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী নেতা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অভুতপূর্ব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল সৌদি আরবের। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বা এমবিএসের ছিল মারাত্মক সুসময়! প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়েছিলেন এবং ইয়েমেন যুদ্ধে মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারে ব্যাপক স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। কিন্তু সৌদি যুবরাজের সেই ‘সুদিন’ হয়তো ফুরিয়ে এসেছে!

বাইডেন প্রশাসন সৌদি ইস্যুতে ট্রাম্পের নীতি থেকে সরে আসছে, তার ইঙ্গিত মিলেছে চলতি সপ্তাহেই। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ইয়েন সাকি সম্প্রতি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করতে চান। তিনি বলেন, এখন থেকে হোয়াইট হাউস যুবরাজ নয়, সরাসরি বাদশাহ সালমানের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।

ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, খাশোগি হত্যাকান্ডটি ভিডিও কলের মাধ্যমে নিজে তদারক করেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। পরবর্তীতে সালমানকে দায়ী করে তোলপাড় হয় গোটা বিশ্বে। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে শক্তিমান যুবরাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাহস দেখায়নি কেউই। তাছাড়া, ব্যাপক শাসন সংস্কারের নামে সৌদি রাজপরিবারের বহু প্রভাবশালী সদস্যকে জেলবন্দী করেছেন বা দেশছাড়া করেছেন সালমান নিজে। ফলে দেশের ভিতরে তাকে এখন চ্যালেঞ্জ করার কেউ নেই। অন্যদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ও প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খাশোগি হত্যা থেকে রেহাই দিয়েছেন নিজেদের পরম বন্ধু যুবরাজ সালমানকে। পুতিন ও ট্রাম্প দুজনেই আর্থিক লাভ, অস্ত্র বিক্রি ও পেট্রো-বাণিজ্যের স্বার্থে সালমানকে ক্ষমতায় রাখতে তৎপর হয়েছিলেন। কিন্তু ভোটে জেতার আগেই জো বাইডেন ঘোষণা করেছিলেন তিনি সৌদি যুবরাজের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করবেন এবং খাশোগি হত্যার পেছনে মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টেই ভরসা করবেন। ফলে খাশোগি হত্যা নিয়ে যখন আসল সত্যি বেরিয়ে আসার উপক্রম হয়েছে তখনই আশঙ্কা করা হচ্ছে সিআইএ-র গোপন রিপোর্ট প্রকাশ্যে এলেই চরম অবনতি হতে পারে আমেরিকার সঙ্গে তাদের সামরিক জোটসঙ্গী সৌদি আরবের সম্পর্কের। সিআইএ-র ওই রিপোর্টের দাবি, সাংবাদিক খাশোগিকে ঠান্ডা মাথায় গলায় ছুরি চালিয়ে খুন করা হয়েছিল। তারপর মাথা কেটে ফেলা হয়। পরে দেহের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে টুকরো করা হয়। সব কাটা দেহাংশ সালফিউরিক অ্যাসিড ভর্তি ড্রামে চুবিয়ে গলিয়ে ফেলে কিলিং টিম। খুনের সব চিহ্ন মুছে ফেলতে দূতাবাসের ভিতরেই খাশোগির শরীরের যে অংশ অ্যাসিডে গলেনি সেটি এবং কোট-প্যান্ট, অন্তর্বাস সব পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। এভাবেই ৮০ কেজি ওজনের একজন মানুষের অস্তিত্ব বিলুপ্ত করার চেষ্টা হয়েছিল। প্রক্রিয়াটি ভিডিও কলের মাধ্যমে ঠান্ডা মাথায় তদারক করেছিলেন যুবরাজ সালমান। আন্তর্জাতিক রাজনীতির এই ভয়ংকর সত্য ঘটনাটি নিয়ে একাধিক ওয়েব সিরিজ মুক্তি পেয়েছে।


আপনার মন্তব্য