শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৫৯

সীমান্ত নিয়ে ভারত-চীন সেনা পর্যায়ে ১৬ ঘণ্টার বৈঠক

সেনা প্রত্যাহারে রাজি দুই দেশ

প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সমস্যা মেটাতে এবং সেনা প্রত্যাহার নিয়ে ফের বৈঠক করলেন ভারত ও চীনের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারা। দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পর সমস্যার পুরোপুরি সমাধান না হলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে বৈঠক ইতিবাচক। চুশুল সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে মলদোতে আয়োজিত এই বৈঠকে দেপসাং ভ্যালি, গোগরা হাইটস, হট¯িপ্রংসহ একাধিক জায়গায় সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে দুই দেশ। এর আগে প্যাংগং হ্রদ নিয়ে দীর্ঘদিন বিবাদ চলে ভারত-চীনের। দুই দেশের মধ্যে ৯ দফা আলোচনার পর সম্প্রতি সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে প্রত্যেকেই। ভারতীয় সেনা সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে পিপলস লিবারেশন আর্মি তাদের বিপুলসংখ্যক সেনা, শয়ে শয়ে ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া গাড়ি সরিয়ে নিয়েছে। প্যাংগং হ্রদ লাগোয়া আট নম্বর ফিঙ্গার পয়েন্টের কাছে সরানো হয়েছে চীনের সব ট্যাঙ্ক, হাউৎজার কামান। আর প্যাংগংয়ের পরই এবার অন্যান্য বিবদমান এলাকা নিয়ে আলোচনায় বসল দুই দেশ। এই জায়গাগুলো থেকেও চীন সেনা প্রত্যাহার শুরু করে কিনা সেটাই এখন দেখার।

প্রসঙ্গত, দুই দেশের মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার সীমান্ত। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার বেশকিছু জায়গায় ভারতের জমি দখল করে রেখেছে চীনা বাহিনী। কিন্তু সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত শুধু প্যাংগং হ্রদ সংলগ্ন এলকায়ই সীমিত ছিল। এবার লাদাখের দেপসাং সমতল, গোগরা-হট¯িপ্রং নিয়েও আলোচনা শুরু হলো। এদিকে, সম্প্রতিই গালওয়ান সংঘর্ষের ভিডিও প্রকাশ করেছে চীন। পাশাপাশি পাঁচজন জওয়ানের মৃত্যুর কথাও স্বীকার করে নিয়েছে তারা। কিন্তু বেইজিংয়ের অভিযোগ, এই খবরের মাধ্যমেই ফের একবার সীমান্তে অশান্তি তৈরি করতে চাইছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সেনা প্রত্যাহারেও বাধা তৈরি করছে তারা।

সংলাপের প্রস্তুতি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা : পূর্ব লাদাখ থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর এবার সংলাপে বসতে যাচ্ছে ভারত ও চীন। ভারতের পক্ষ থেকে সংলাপে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং চীনের পক্ষ থেকে নেতৃত্বে থাকবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ভারতের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, লাদাখের প্যাংগং হ্রদ থেকে সেনা সরিয়ে চীন ইতিবাচক মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে। দুই দেশ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত বিরোধ মেটাতে পারে।

 চীন যদি শক্তিপ্রয়োগ করে তবে সংলাপের কোনো মানে হয় না। তবে দুই দেশ পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান করতে পারে। 


আপনার মন্তব্য