শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ মে, ২০২১ ০০:০৫

অনেক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে মমতা

অনেক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে মমতা

এমন উত্তেজনা ভারত অনেক দিন দেখেনি। দেশটিতে বিধানসভার নির্বাচন হয়, তাতে উত্তেজনা থাকে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের এবারের নির্বাচন সব উত্তেজনা অতিক্রম করেছে। ফলে শুধু ভারত নয়, বাইরের বিশ্বেরও দৃষ্টি ছিল ওই নির্বাচনের ভোট গণনার দিন। এর কারণ ছিল মমতা বনাম মোদি প্লাস অমিত প্লাস বিজেপির চ্যালেঞ্জ। হিমালয় সমান সেই চ্যালেঞ্জকে জয় করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। যদিও বিশ্লেষকরা মমতার এই জয়কে অম্লমধুর বলছেন। কারণ তার দল জয় পেয়েছে বিরাট। কিন্তু তিনি নিজে হেরেছেন। সে যাই হোক মুখ্যমন্ত্রী আবার হচ্ছেন মমতাই। তবে ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এরপর মমতা ব্যানার্জির সামনে অপেক্ষা করছে আরও অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিশ্রুতি পূরণের চ্যালেঞ্জ। যে প্রতিশ্রুতি তিনি ভোটের আগে ইস্তাহারে দিয়েছেন। সেই তালিকাটা রীতিমতো লম্বা। আগামী পাঁচ বছরে যদি তিনি সেই প্রতিশ্রুতি পালন করতে পারেন, তা হলে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিপুলভাবে উপকৃত হবেন। কিন্তু সেই সব প্রতিশ্রুতি পালন করা রীতিমতো কঠিন। দেখে নেওয়া যাক সেই চ্যালেঞ্জগুলো:

গরিবি হঠাও এবং কর্মসংস্থান: মমতা ব্যানার্জির প্রতিশ্রুতি, পাঁচ বছরে ৩৫ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য রেখার থেকে উপরে তোলা হবে। তার মানে বছরে ৭ লাখ অত্যন্ত গরিব মানুষ একটু স্বাচ্ছন্দ্যের মুখ দেখবেন। তারপর অতি-গরিব মানুষের সংখ্যা থাকবে মাত্র পাঁচ শতাংশ। কীভাবে এই কাজ করা হবে, তার কোনো রূপরেখা ইস্তাহারে নেই।

শিল্প বিপ্লব : রাজ্যে প্রতি বছর ১০ লাখ ছোট ও মাঝারি শিল্প হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাঁচ বছরে বড় শিল্পের ২ হাজারটি ইউনিট যুক্ত হবে। আর বিনিয়োগ হবে ৫ লাখ কোটি টাকা। মানে বছরে ১ লাখ কোটি টাকা। এই তিনটি প্রতিশ্রুতি রূপায়ণ করা রীতিমতো কঠিন। বিশেষ করে অতীত অভিজ্ঞতার নিরিখে। যিনি অর্থ ও শিল্পমন্ত্রী হবেন, তাদের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার মতো প্রতিশ্রুতি।

শিক্ষা ব্যবস্থা: মমতার প্রতিশ্রুতি প্রতিটি বøকে একটি করে মডেল আবাসিক স্কুল হবে। পার্শ্ব শিক্ষকদের বছরে বেতন তিন শতাংশ করে বাড়বে, অবসরের পর তারা ৩ লাখ টাকা করে পাবেন। পার্শ্ব শিক্ষক মানে স্কুলগুলোতে ২০০৪ সাল থেকে ক্লাসে পিছিয়ে পড়া বাচ্চাদের সহায়তা করার জন্য নিয়োগ করা শিক্ষক।

চিকিৎসা ক্ষেত্র : প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ, অতিরিক্ত সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এবং ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সংখ্যা দ্বিগুণ করার কথা বলা হয়েছে ইস্তাহারে। এই প্রতিশ্রুতির রূপায়ণও খুবই চ্যালেঞ্জিং।

খাদ্য ও সাহায্য : মমতা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, রাজ্যের ৫০টি শহরে মা ক্যান্টিন খোলা হবে। যেখানে পাঁচ টাকায় ডিম-ভাত পাওয়া যাবে। সেই সঙ্গে রেশন বাড়িতে পৌঁছে দেবে সরকার। গরিব পরিবারের কর্ত্রীরা মাসে ৫০০ টাকা ও তফসিল জাতি ও উপজাতির ক্ষেত্রে হাজার টাকা পাবেন। বছরে দুই বার ‘দুয়ারে সরকার’ পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

এত প্রতিশ্রুতি পালন করা কতটা কঠিন? প্রবীণ সাংবাদিক শুভাশিস মৈত্র ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘কয়েকটা কাজ মমতা করবেন। স্বাস্থ্য সাথী বা ৫ লাখ টাকার বিমা প্রকল্প করবেন। মানুষকে বিনা পয়সায় ভ্যাকসিন দেবেন। গরিব পরিবারের মেয়েদের ৫০০ টাকা দেওয়া বা মা ক্যান্টিন করা এসবও করবেন।’ কিন্তু শুভাশিস মনে করেন, ‘শিল্প আনা থেকে শুরু করে বাকি কাজগুলোর জন্য প্রচুর অর্থ লাগবে। এটা করা অসম্ভব নয়। কিন্তু কঠিন, খুবই কঠিন। সরকারি হিসেবে অনেক কিছুই হয়ে যায়। বাস্তবের মাটিতে তার প্রতিফলন দেখতে পাওয়ার কাজটা মমতার কাছে সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’ ফলে ভোটে বিজেপির চ্যালেঞ্জ তিনি অতিক্রম করেছেন ঠিকই, তবে আরও অনেক বড় চ্যালেঞ্জ তার জন্য অপেক্ষা করছে।