শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ জুন, ২০২১ ২৩:৫৪

নেতানিয়াহু, বেনেট : ফারাক দেখছে না ফিলিস্তিনিরা

Google News

ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাফতালি বেনেটের আবির্ভাব নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না পশ্চিম তীর ও গাজার ফিলিস্তিনিরা। এক জাতীয়তাবাদী নেতার স্থলে আরেক জাতীয়তাবাদী আসায় ফিলিস্তিন পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হবে না বলেও মনে করছেন তারা। পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন করা সংগঠনের সাবেক প্রধান বেনেটকে উগ্র জাতীয়তাবাদী হিসেবে দেখছে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। সরকার গঠনের লক্ষ্যে গত বুধবার ইসরায়েলের ডান, বাম ও মধ্যপন্থি দলগুলো যে জোট করেছে তাতে কট্টর ডানপন্থি এ রাজনীতিকই ১২ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকা নেতানিয়াহুর স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এ দুই নেতার মধ্যে নানান বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও দুজনই গত মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জন্য হামাসকেই দায়ী বলে মনে করেন। এমনকি বৃহস্পতিবারও নিজের অবস্থান লুকোননি বেনেট। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-কে তিনি বলেন, সত্যিটা বলতেই হবে। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের এই বিবাদ মোটেও জায়গা নিয়ে নয়। ফিলিস্তিনিরা এখানে আমাদের অস্তিত্বই স্বীকার করে না। আরও কিছুদিন এ রকম পরিস্থিতি চলবে বলে মনে হয় আমার। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে অবস্থানই বেনেটকে চিনিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট বলে মত ফিলিস্তিনি বিভিন্ন সংগঠনের কর্মকর্তাদের। নেতানিয়াহুর চেয়ে মনোনীত প্রধানমন্ত্রী কম উগ্রবাদী নন, বলেছেন ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) প্রতিনিধি বাসেম আল-সালহি। প্রায় একই কথা শোনা গেছে অন্য কর্মকর্তাদের মুখেও। ইসরায়েলি নেতাদের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই। তারা তাদের দেশের জন্য ভালো কিংবা খারাপ হতে পারে। আমাদের জন্য তারা সবাই খারাপ, বলেছেন গাজার সরকারি কর্মী ২৯ বছর বয়সী আহমেদ রেজিক। গাজা ভূখন্ডের নিয়ন্ত্রক হামাসও বলছে, কে ইসরায়েল শাসন করছে, তাতে খুব একটা পার্থক্য দেখা যায় না। ফিলিস্তিনিরা ডান, বাম, মধ্যপন্থি নামে পরিচিত কয়েক ডজন ইসরায়েলি সরকার দেখেছে। কিন্তু যখনই ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রশ্ন এসেছে, তখন তারা সবাই বৈরী আচরণ করেছে। তাদের সবারই সম্প্রসারণের বৈরী নীতি ছিল, বলেছেন হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাশেম। এবার যে জোট সরকার ইসরায়েলের শাসনভার নিতে যাচ্ছে, তাতে প্রথমবারের মতো একটি ইসলামিক দলও থাকছে, যারা দেশটির ২১ শতাংশ আরব সংখ্যালঘুর ভোটে পার্লামেন্টে জায়গা করে নিয়েছে। আরব এ সংখ্যালঘুরা কাগজে কলমে ইসরায়েলের নাগরিক হলেও সাংস্কৃতিকভাবে ফিলিস্তিনি। ইসলামী এ দলটির নেতা মনসুর আব্বাস বলেছেন, যে চুক্তির মাধ্যমে জোট হয়েছে তাতে আরব শহরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন ও সহিংস অপরাধ মোকাবিলায় ১৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে শত্রুর সঙ্গে হাত মেলানোয় পশ্চিম তীর এবং গাজার বেশিরভাগ বাসিন্দাই এখন আব্বাসকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবেই দেখছেন। তিনি বিশ্বাসঘাতক। গাজায় নতুন যুদ্ধ শুরু করতে ভোট দিতে বললে তিনি কী করবেন? তিনি কি তা অনুমোদন করবেন, ফিলিস্তিনি হত্যায় অংশ নেবেন, প্রশ্ন গাজার ২১ বছর বাসিন্দা বাদরি কারামের। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখল করা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন বাড়ানোর লক্ষ্যে বেনেট দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা করে আসছিলেন। অবশ্য সম্প্রতি তাকে পশ্চিম তীরে আরও কিছুদিন ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

মাত্র ৭টি আসন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী : ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ইসরায়েলে অন্তত চারবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ গত মার্চে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১২০ আসনের ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের সব আসন ভাগাভাগি হয়ে যায় মোট ১৩টি দলের মধ্যে। এই নির্বাচনে মাত্র ৭টি আসনে জয় পায় বেনেটের ইয়ামিনা পার্টি। কপাল খুলে যায় বেনেটের; ইসরায়েলের রাজনীতিতে তিনি হাজির হয়েছেন? ‘কিং মেকার’ হিসেবে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিডের নতুন জোটে যোগ দেওয়ার শর্ত অনুযায়ী ক্ষমতার মেয়াদের প্রথম দুই বছর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন নাফতালি বেনেট। সংখ্যাগরিষ্ঠ জোট সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে বেনজামিন নেতানিয়াহু প্রথমে পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন। এরপর জোট সরকার গঠনে ২ জুন পর্যন্ত ২৮ দিনের সময় পান ইয়ার লাপিড। তিনি দেশটির বেশ কয়েকটি ছোট বড় রাজনৈতিক দলকে নিয়ে সরকার গঠনে ঐকমত্যে পৌঁছান। বেনেটের দুই বছরের প্রধানমন্ত্রিত্ব শেষে ২০২৩ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসবেন লাপিড।