শিরোনাম
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি, ২০২০ ১৫:২০

ঐক্যের ডাক দেয় টঙ্গী ইজতেমা

মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন

ঐক্যের ডাক দেয় টঙ্গী ইজতেমা
ফাইল ছবি

অন্য বছরের মতো আবারও ফিরে এলো টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা। তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে আয়োজিত এ ইজতেমা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম সম্মেলন। বর্তমান সময়ের মুসলমানদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-কলহ দূর করতে এ ইজতেমা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

তুরাগ তীরের ইজতেমা মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যের ডাক দেয়। ভ্রাতৃত্ব, একতা, সাম্য ও শান্তির বার্তা উপহার দেয়। প্রতি বছরের মতো এবারও অনেক দেশের মুসলমান ইজতেমায় অংশগ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশে এসেছেন। এখানে সব মত ও পথের তাওহিদি জনতা একই শামিয়ানার নিচে অবস্থান করে। মুসলমানের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ এখানে দেখা যায় না। কেউ কাউকে কষ্ট দেয় না। কারও অধিকার নষ্ট করে না। 

বিশ্বের যে কোনো দেশের যে কোনো মত ও পথের মুসলমান এখানে আসতে পারে। সব মাজহাবের অনুসারী অংশগ্রহণ করতে পারে। ইজতেমায় যারা আসে তার মধ্যে কেউ হানাফি মাজহাবের অনুসারী, কেউ শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারী। আবার কেউ হামবলি মাজহাবের অনুসারী। কেউ আবার মালিকি মাজহাবের অনুসারী। এমন মুসলমানও ইজতেমায় আসে যারা কোনো মাজহাবেরই অনুসারী নয়। প্রতিটি বয়ানে মুসলমানদের মধ্যে আবার ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়। সাহাবিদের সোনালি যুগের আলোচনা হয়। সবার মধ্যে কীভাবে মহব্বত সৃষ্টি করা যায় সে চেষ্টা করা হয়। 

ইজতেমায় দেখা যায় সবাই একই প্লেটে খাবার খাচ্ছে। কারও মধ্যে হিংসা নেই, ঘৃণা নেই। বাদানুবাদ নেই। সবাই সবাইকে দীনি ভাই মনে করছে। সবার মর্যাদা সবাই দিচ্ছে। একে অন্যের ইকরাম করছে। সম্মান করছে। সবার উদ্দেশ্য থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আল্লাহর রসুলের সুন্নতের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য। প্রিয় নবী ও তাঁর সাহাবিরা যেভাবে ইসলাম প্রচারের জন্য মক্কা-মদিনার বাইরে গেছেন, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছেন, এখানেও সেই শিক্ষা দেওয়া হয়। 

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের যেভাবে ইসলাম প্রচারের কাজে উদ্বুদ্ধ করতেন, এখানেও তাই করা হয়। মানুষকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসার শিক্ষা দেওয়া হয়। আল্লাহর রাস্তায় জানমাল ব্যয় করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিন দিন ধরে চলা ইজতেমার প্রতি নামাজের পর বয়ানে এসব বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। সবাইকে ইসলাম প্রচারে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হয়। 

বিশ্ব ইজতেমায় আগত মেহমান সবাই আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকে। রাতের বেলায় তাহাজ্জুদ নামাজে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে। শুক্রবার শুরু হয়ে রবিবার আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয় বিশ্ব ইজতেমা। মহান আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে বিশ্ব ইজতেমায় হাজির হওয়ার তৌফিক দান করেন।

লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা।

বিডি-প্রতিদিন/ সিফাত আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য