শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৩:৫৫

কলকাতায় যথাযোগ্য মর্যাদার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

কলকাতায় যথাযোগ্য মর্যাদার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে কলকাতাসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জুড়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস। এ উপলক্ষে আজ শুক্রবার কলকাতাস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়। 

শুক্রবার সকালে উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ করা হয়। এরপর কলকাতার-৩, সোহরাওয়ার্দী এভিনিউতে অবস্থিত বাংলাদেশ গ্রন্থাগার ও তথ্য কেন্দ্রর সামনে থেকে একটি সুদৃশ্য প্রভাত ফেরী বের হয়। হাতে নানা বর্ণের পোষ্টার, ফুলের মালাসহ এই প্রভাত ফেরীতে হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ছাড়াও অসংখ্য মানুষ অংশ নেয়।

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’-এই ধ্বনিকে সামনে রেখেই সেই প্রভাতফেরী কলকাতার পার্কসার্কাস সেভেন পয়েন্টে ক্রসিং-আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু রোড ধরে পৌঁছায় উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গণ পর্যন্ত। এরপর মিশন প্রাঙ্গনে অবস্থিত শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মৃতির উদ্যেশ্যে শ্রদ্ধা জানান হয়।

উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের পাশপাশি ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, কংগ্রেস বিধায়ক অসিত মিত্র, তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল, কলকাতা প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্নেহাশিষ সুর প্রমুখ। 

শেষে আন্তর্জাতিক ভাষাদিবস নিয়ে এক বাণী পাঠ ও আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয় মিশন প্রাঙ্গণে। বিকালে মিশন প্রাঙ্গণেই একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। এদিকে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ট্যুইট করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি লেখেন ‘আজ অমর ২১ ফেব্রুয়ারি। বাংলা জুড়ে পালিত হচ্ছে ভাষা শহীদ দিবস। এই ঐতিহাসিক দিনে বাংলা ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছিলেন তাদের জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম।’ 

তিনি আরও লেখেন ‘সকলকে জানাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা। আমাদের মাতৃভাষাসহ আমরা সব ভাষাকেই ভালোবাসি।’ 

বিশেষ এইদিনটিকে মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গের জেলা ও মহুকুমাগুলিতেও যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হচ্ছে ‘অমর একুশে’। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস উপলক্ষ্যে কলকাতায় সারারাত ব্যাপী অনুষ্ঠান করছে ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’। 

ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তের ভারতীয় দিকেও ভাষা শহীদ দিবস পালন করা হয়। তবে গত কয়েকবছর সীমান্তের জিরো পয়েন্টে ‘দুই বাংলা মৈত্রী সমিতি’র তরফে ভাষা শহীদ দিবস পালন করা হলেও এবার দুই দেশের সীমানায় পৃথক দুইটি ম  করে এই ভাষা দিবস পালন করা হয়। 

শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়েও এই দিনটি মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে পৌষ মেলার মাঠ থেকে বাংলাদেশ ভবন পর্যন্ত একটি পদযাত্রা বের হয়। তাতে সামিল হন বিশ্বভারতীর উপাচার্য অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা। যোগ দেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ও শিল্পী শাহানা বাজপেয়ী। 

দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি সীমান্তের শূণ্যরেখায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়। গত পাঁচ বছর ধরে ভারতের হিলির উজ্জীবন সোসাইটি এবং বাংলাদেশের হিলির মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও সাপ্তাহিক আলোকিত সীমান্তের যৌথ উদ্যোগে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে অস্থায়ী ভাবে নির্মিত শহীদ মিনাওে পুষ্পমাল্য দিয়ে অমর একুশে পালন করা হয়।

 

বিডি প্রতিদিন/সিফাত আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য