শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৪:৪৮

তৃণমূলের সাবেক সাংসদ ও শিক্ষাবিদ কৃষ্ণা বসুর জীবনাবাসন

দীপক দেবনাথ, কলকাতা:

তৃণমূলের সাবেক সাংসদ ও শিক্ষাবিদ কৃষ্ণা বসুর জীবনাবাসন
ফাইল ছবি

না ফেরার দেশে চলে গেলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কৃষ্ণা বসু। শনিবার সকালে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে (মেডিকা) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। 

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। অসুস্থতার কারণে গত কয়েকদিন ধরে এই হাসপাতালেই ভর্তি ছিলেন তিনি।  

শনিবার দুপুর একটার দিকে কৃষ্ণা বসুর মরদেহ নিয়ে আসা হয় কলকাতার নেতাজি ভবনে। সেখানে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তার মরদেহ শায়িত রাখা হবে। আজ বিকালে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

১৯৩০ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন কৃষ্ণা বসু। তার স্বামী ছিলেন ভারতের অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামে সুভাষচন্দ্র বসুর বড় ভাই শরৎচন্দ্র বসুর পুত্র শিশির বসু। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ পাস করেন তিনি। এরপর ৪০ বছর ধরে সিটি কলেজেই ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যাপনা করেছেন তিনি। পরবর্তীকালে সিটি কলেজের প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেন কৃষ্ণা বসু। শিক্ষা জগৎ এর পাশাপাশি রাজনীতিতেও নাম লিখেছিলেন তিনি। 

১৯৯৬ সালে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের টিকিটে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সাংসদ নির্বাচিত হন কৃষ্ণা বসু। এরপর ওই একই কেন্দ্র থেকে ১৯৯৮এবং ১৯৯৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জয় পান তিনি। ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারপারসন পদেও ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের এই সংসদ সদস্য। আনন্দবাজার, অমৃত বাজার, দ্য স্টেটসম্যান, দ্য টেলিগ্রাফসহ নামী পত্রিকায় নিয়মিত কলামও লিখেছিলেন তিনি।

কৃষ্ণা বসু রেখে গেছেন দুই পুত্র সুমন্ত্র এবং সুগত বসু এবং এক কন্যা শর্মিলাকে। সুগত বসু একসময়ের তৃণমূলের টিকিটে যাদবপুর থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। 

কৃষ্ণা বসুর মৃত্যুতে বাংলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি টুইট করেন, "যাকে আমি ভালোবাসতাম, শ্রদ্ধা করতাম, প্রশংসা করতাম-এমন একজন ব্যক্তির মৃত্যু হল। সাবেক তৃণমূল সাংসদ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী ড. শিশির বসু স্ত্রীর কৃষ্ণা বসুর মৃত্যুতে আমি মর্মাহত ও দুঃখিত। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবারের সদস্য হওয়ায় একজন সমাজ সংস্কারক, প্রসিধ্যা কবি ও সাহসী শিক্ষাবিদ হিসাবে সম্মানিত ছিলেন।" 

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য